Home Textile Manufacturing টেক্সটাইল শিল্পকলায় উদ্ভিদ

টেক্সটাইল শিল্পকলায় উদ্ভিদ

শিল্প মানবতার ছায়া ছাড়া আর কিছুই নয়। শিল্পকলা মানব ক্রিয়াকলাপের বৈচিত্র্যপূর্ণ দৃশ্য প্রকাশ করে। শিল্প তো সার্বজনীন, তা কারোর একার নয়। শিল্পকলায় টেক্সটাইল কিভাবে জড়িয়ে আছে তা নিয়েই সাজানো হয়েছে এই আর্টিকেলটি।

উদ্ভিদ, প্রাণিজ অথবা সিনথেটিক তন্তুর সাহায্যে তৈরিকৃত বস্ত্রের কারুশিল্পকে টেক্সটাইল শিল্পকলা বলে।মানবসভ্যতার শুরু থেকেই টেক্সটাইল মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এর ইতিহাস আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ইতিহাসের সাথেও সম্পৃক্ত। মধ্যযুগ ও রেনেসাঁর সময়ে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে বিলাসি বস্ত্র ও রক্তবেগুনি রঞ্জকের ব্যাপক চাহিদা ছিল। শিল্পবিপ্লব গড়ে উঠেছিল মূলত টেক্সটাইল সংক্রান্ত প্রযুক্তিগুলো আবিস্কারের ফলে। শুধু তাই  নয় এ সকল প্রযুক্তির জন্য একসময় তাঁতীরা লুডাইট বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করেছিল।


অনেক ধরনের টেক্সটাইল শিল্পের মধ্যে সবচেয়ে সরল শিল্পটি হল পশুর লোম দিয়ে বস্ত্র তৈরি করা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফাইবার বাকিয়ে জট পাকানোর মাধ্যমে তৈরি হয় ইয়ার্ন। মসৃণ ইয়ার্ণকে সুতা এবং ভারী ইয়ার্ণকে “দড়ি” বলা হয়। ইয়ার্ন করা হয় মূলত কাপড়কে আরামদায়ক করার জন্য। টেক্সটাইল শিল্পের মাঝে বিভিন্ন কর্মপদ্ধতি আছে যেগুলো কাপড়কে সাজাতে ব্যবহার করা হয়। যেমন: রং করা, এমব্রয়ডারি করা,কুইল্টিং, প্লিটিং ইত্যাদি। তাছাড়া কার্পেট, কম্বল, জায়নামাজ ও বিছানার চাদর তৈরিতে প্রয়োজনীয় সব জিনিসই টেক্সটাইল শিল্পের আওতাধীন। পৃথিবীতে মানব আগমনের পর থেকেই টেক্সটাইল মানব দেহ ঢাকার কাজেই যে শুধু ব্যবহৃত হয় তা নয় বরং এটি আরো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় তা নিশ্চয়ই আমাদের অজানার কিছু নয়।

উদ্ভিদ জীবজগতের একটি বড় গোষ্ঠী। উদ্ভিদ না থাকলে জীবজগৎ অচল হয়ে যেত ।বাংলাদেশে প্রায় ৬০০০ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ আছে। অসংখ্য জীবন্ত কোষ দিয়ে উদ্ভিদের দেহ তৈরি। ১৮৮৫ সালে সর্বপ্রথম কৃত্রিম তন্তু আবিষ্কার হয়। তবে বর্তমানে প্রাকৃতিক তন্তু তৈরিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় শন ও কার্পাস। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে উদ্ভিদের অধিকাংশ অংশ যেমন:- বাকল, কাণ্ড, পাতা, ফল, বীজতন্তু এবং উদ্ভিদরস ব্যবহার করা হত।

শন: শন তন্তুজাতীয় ও সবুজসার ফসল হিসেবে চাষ করা হয়। টেক্সটাইল তন্তুগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীনতম তন্তু হল শন। শনগাছের আঁশ কান্ড থেকে সংগ্রহ করে সুতা তৈরির জন্য কেটে লিনেনের বড় টুকরায় পরিণত করা হয়। সর্বশেষে লিনেনের বড় টুকরো কাপড় ও পর্দা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

কার্পাস: কার্পাস তন্তুর ইতিহাসও অনেক পুরোনো। কার্পাস তন্তুর আরামদায়কতা, স্থায়িত্ব এবং শোষণক্ষমতার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টেক্সটাইল তন্তু হিসেবে পরিচিত। কার্পাস থেকে প্রাপ্ত তন্তু মূলত কার্পাস গাছের বীজতন্তু। বীজতন্তুর প্রধান উপাদান হলো সেলুলোজ। এছাড়াও রয়েছে ওয়াক্স, পেক্টেট, প্রোটিন এবং অন্যান্য খনিজ দ্রব্য। বীজ থেকে কার্পাস সংগ্রহের পর একে প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন পুরুত্বের সুতা তৈরি হয়ে থাকে। কার্পাসতন্তুর সাহায্যে মিহি ও মোটা উভয় ধরনের কাপড়, জার্সি ইত্যাদি তৈরি করা হয়।

বিজ্ঞানের অগ্রগতি আমাদের জীবনযাত্রাকে করেছে অনেক সহজ। টেক্সটাইল এর ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের গুরুত্ব অপরিসীম। অতীতে পুরোনো টেক্সটাইলে ব্যবহৃত সুতার উৎস জানা সম্ভব না হলেও বর্তমানে ইলেক্ট্রনিক অণুবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে পুরোনো টেক্সটাইলে ব্যবহৃত সুতার উৎস বের করা সম্ভব হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, আলোক ও ইলেকট্রনিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে সর্বপ্রথম কোথায় , কখন এবং কোন উদ্ভিদ থেকে তন্তুটি তৈরি করা হয়েছিল সেটা জানা যায়। এছাড়াও বিভিন্ন অঞ্চল ও সময়ের টেক্সটাইল শিল্পকলা কত রকম ছিল সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় এবং জ্ঞানার্জন করা যায়।
দিনে দিনে টেক্সটাইল শিল্পে উদ্ভিদের নতুন নতুন ব্যবহার বেড়েই চলেছে যা শিল্পকলায় টেক্সটাইল এর ব্যবহারকে কয়েক ধাপ আরো এগিয়ে নিয়ে গেছে।যেমন, সুজানে লির গাঁজনের সাহায্যে উদ্ভিজ্জ কাঁচামাল দিয়ে “বায়োকালচার” শিরোনামে নতুন ধরনের শিল্পকলার আবিষ্কার করেছেন যা কাপড় তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে। এভাবে তৈরিকৃত কাপড় প্লাস্টিক বস্তুর মত পাতলা থেকে শুরু করে চামড়ানির্মিত বস্তুর ন্যায় মোটা হয়ে থাকে।

পোশাক গুলো উদ্ভিজ্জ কাঁচামাল থেকে তৈরী হওয়ায় সম্পূর্ণভাবে পরিবেশবান্ধব হয় এবং এতে করে পরিবেশ দূষণের কোনো সম্ভাবনা থাকে না। তাছাড়া এ ধরণের পোশাকশিল্প বর্তমানে ফ্যাশন শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া এসব পোশাকে প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থ ব্যবহারের মাধ্যমে  ক্রেতাদের কাছে আকর্ষনীয় করে তোলার পাশাপাশি  বিভিন্ন ব্র্যান্ড হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নিয়েছে। শিল্পকলায় শিল্পীরা টেক্সটাইলের মাধ্যমে শিল্পকর্মকে জীবন্ত আকারে ফুটিয়ে তুলেন। এ থেকে ধারণা পাওয়া যায় টেক্সটাইল শিল্পকলায় উদ্ভিদের ভবিষ্যৎ যুগোপযোগী, পরিবেশবান্ধব ও সুবিস্তীর্ণ।

তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া, টেক্সটাইল ট্যুডে, টেক্সটাইল লার্নার, প্রথম আলো, ফ্যাশন ম্যাগাজিন, ইউটিউব।

Writer information:

Jannatuz Faria
Dept. of Apparel Engineering (2nd Batch)
Dr. M A Wazed Miah Textile Engineering College

Sadia Naznin Ria
Dept. of Yarn Engineering (2nd Batch)
Dr. M A Wazed Miah Textile Engineering College

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Post

Most Popular

Related Post

Related from author