Home Fabric বস্ত্রশিল্পে কলাগাছ

বস্ত্রশিল্পে কলাগাছ

কলা আমরা সবাই ই কমবেশি খেয়ে থাকি।কলা অতি জনপ্রিয় একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল। এ ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ বি সি, শর্করা, ক্যালসিয়াম, লৌহ ও পর্যাপ্ত খাদ্যশক্তি রয়েছে। অন্যান্য ফলের তুলনায় কলা দামে সস্তা এবং প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়।

কিন্তু কলা উপকারী হলেও কলাগাছ নাকি হাতির খাবার ছাড়া আর কোনো কাজেই আসে না।সমতল ও পাহাড়ী অঞ্চলে সময়ের সাথে সাথে বাণিজ্যিকভাবেও বর্তমানে কলার উৎপাদন বেড়েছে। কলা গাছের বিকল্প কোন ব্যবহার না থাকার কারণে কলার ছড়া কাটার পর কলা গাছও কেটে ফেলি।কলা খাওয়ার পর গাছ কেটে ফেলে নষ্ট করার দিন প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।বর্তমানে পরিত্যক্ত কলার বাকল থেকে তৈরি হচ্ছে ভাল মানের ফাইবার বা সুতা। একটি কলা গাছের বাকল থেকে কম করে হলেও ২০০গ্রাম সুতা উৎপাদন করা যায়।তাহলে ৫ টি কলাগাছ থেকে প্রায় ১ কেজি সুতা উৎপাদন করা সম্ভব।

এখন আমাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে কেন আমরা কলাগাছ থেকে সুতা উৎপাদন করব?

উত্তরেঃ আমরা কলাগাছ থেকে সুতা উৎপাদন করব কেননা—-

কলা গাছের কাঁচামাল সহজ লভ্য।
অল্প খরচে কলা গাছের বাকল থেকে সুতা তৈরি করা সম্ভব।
শ্রমিক মুল্য তুলনামূলকভাবে কম।
কম দামে উৎকৃষ্ট মানের পণ্য সরবরাহ করা যায়।
কলাগাছের ছাল থেকে কাপড় বানানোর তন্তু, দড়ি, শৌখিন জিনিসপত্র এবং তাঁবু বানানোর জন্য উৎকৃষ্ট মানের সুতা বানানো যায়।
প্রাকৃতিক তন্তুর মধ্যে কলা গাছ থেকে প্রাপ্ত তন্তু সবচেয়ে শক্ত।
কলা গাছের আর্দ্রতা ধরে রাখা এবং ত্যাগ করার ক্ষমতা অনেক বেশি।
কৃত্রিম তন্তুর বিকল্প হিসেবে এর ব্যবহার করা যায়

কলাগাছের বাকল থেকে তৈরিকৃত সুতা টেকসই ও মানসম্পন্ন। কলাগাছের বাকল থেকে প্রাপ্ত সুতা জুট ও কটনের সাথে মিশিয়ে কাপড়,হ্যান্ডব্যাগ,শিশুদের ডাইপার সহ বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা হচ্ছে।কলাগাছের তন্ত পাকিয়ে সুতায় পরিনত করে বুনলে তা অত্যন্ত অসম সারফেসের কাপড় তৈরি হয়। এছাড়া কলাগাছের বাকল থেকে তৈরি ফাইবার ওয়াটার প্রুফ হওয়ায় এটি প্যাকিং ও ব্লিডিং ম্যাটারিয়াল তৈরি করা হয়।

সেই ১৩ শতকের শুরু থেকে পরিধেয় কাপড় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য তৈরি করতে জাপানের মানুষ কলার আঁশ ব্যবহার করে আসছে।গাছ লাগানোর পর নিয়মিত ছোট পাতা ও মৌচা কেটে ফেলা হয় যাতে করে খোল নরম থাকে এবং সেই খোল নির্বাচন করে (সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড বা কস্টিক সোডা) দ্রবনে ভাল ভাবে সেদ্ধ করা হয়। কলাগাছের বাইরের স্তর থেকে প্রাপ্ত মোটা তন্তু টেবিলক্লথ ও নানা গৃহস্থালীর সামগ্রী তৈরি উপযোগী।অপেক্ষাকৃত নরম ও সূক্ষ্মতন্তু দিয়ে জাপানিজ রা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক কিমানো বা কামিশিমো তৈরি করে। নেপালে তন্তু উৎপাদনের জন্য গাছের খোলের পরিবর্তে কান্ডের পুরো অংশ ব্যবহৃত হয়।কান্ডের অংশ গুলোকে ছোট ছোট টুকরো করে মেশিনের সাহায্যে পিষে নরম করা হয় এবং স্বয়ংক্রিয় আঁশ ছাড়িয়ে নেয়া হয়। তারপর ব্লিচ করে রোদে শুকিয়ে নিলে আঁশ গুলোকে অনেকটা রেশম সুতার মত দেখায়।নেপালে এই তন্তু ‘Banana Silk Fiber Yarn’ নামে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে।নেপালের নারীরা ঘরে বসেও এই তন্তু ছাড়ানোর কাজ করে থাকেন।এজন্য প্রথমে কলা গাছের বেশ পুরনো কান্ডকে পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। পানিতে যখন প্রাকৃতিকভাবে সব ক্লোরোফিল শোষিত হয় তখন সেলুলোজ আঁশগুলো পড়ে থাকে। এগুলো একত্রিত করে একটি পাল্পের মত বস্ত তৈরি করা
হয় যাতে করে একে সহজে সুতায় রুপান্তরিত করা যায়। এই তন্তু নেপালিদের কাছে পোশাক বোনার জন্য বেশ জনপ্রিয়।

বাংলাদেশে কলাগাছের তন্তু উৎপাদন ও ব্যবহার বেসরকারি সংস্থা মেনোনাইট সেন্ট্রাল কমিটি (এমসিসি) এর সাহায্যে টাঙ্গাইলের মধুপুরে কলাগাছের খোল থেকে আঁশ ছাড়িয়ে সুতা তৈরি হচ্ছে। এছাড়া ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় প্রথম ২০০৬ সালে কলাগাছের আঁশ নিয়ে গবেষনার প্রকল্পটি শুরু হলেও পরে প্রকল্পটি নিয়ে আসা হয় ময়মনসিংহে। বিশেষ প্রক্রিয়ায় খোল থেকে বের করে আনা আঁশ রোদে শুকিয়ে ক্লিন করে তৈরি হয় তুলার রোল যা স্পিনিং মেশিনে ফেলে তৈরি হয় সুতা। এই সুতাতেই তাতের সাহায্যে তৈরি হয় কাপড়।

কয়েকটি কানাডীয় প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে ই বাংলাদেশ থেকে এই সুতায় তৈরি পোশাক কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে অদূর ভবিষ্যতে এ শিল্পকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে। কেননা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাণিজ্যিকভাবে বাংলাদেশেও কলা গাছের তৈরি সুতার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

Source : উইকিপিডিয়া

Shrabonti Maishan Proma
Ahsanullah University of Science and Technology (AUST)
Dep.of Textile Engineering (Batch 41)
1st year 1st Semester

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Post

Most Popular

Related Post

Related from author