Home Career How To End Interview Like A Pro !!

How To End Interview Like A Pro !!

বেশীর ভাগ চাকুরীপ্রার্থী ইন্টারভিউ বোর্ডে কীভাবে ইন্টারভিউ কার্যকরি ভাবে শেষ করবে তা নিয়ে ভাবে না বরং কীভাবে ঐ সময়টূকু পার করবে তা নিয়ে চিন্তা করে।আর ইন্টারভিউ শেষে যতদ্রুত বিদায় নিয়ে রুম থেকে বের হওয়া যায় তা নিয়ে চিন্তিত থাকে।

আমার মনে হয় এটাই একমাত্র কারন যার ফালে অনেক উপযুক্ত প্রার্থী বোর্ড থেকে ডাক পায় না এবং বুঝতেও পারে না,ঠিক কোন কারনে তাকে ইন্টারভিউ বোর্ড থেকে ডাকা হচ্ছে না।

আমাদের ইন্টারভিউ বোর্ডকে একটা সেলস মিটিং হিসেবে দেখার প্রয়োজন। যেখানে আপনি নিজেকে বিক্রি করছেন কোম্পানীর কাছে, আপনি তাদের সমস্যার সমাধান হয়ে কথা বলছেন। আপনি যদি এইসব চিন্তা নিজের মাথায় আগে থেইকেই ভেবে রেখেছেন, তাহলে আপনার জন্য রইলো শুভ কামনা। কারন এই বিষয় নিয়ে ভাবনা হয়তো আপনাকে ইন্টারভিউ বোর্ডে পরবর্তী রাউন্ডে নিয়ে যেতে পারে অথবা আপনার জন্য কোন ভালো ফিডব্যাক নিয়ে আসতে পারে।

তাহলে আমাদের সব শেষে প্রশ্ন জাগতেই পারে ,কীভাবে একটি ইন্টারভিউ সফল্ভাবে শেষ করবো? চলুন আমরা আজকে ৬ টি এমন বিষয় নিয়ে কথা বলবো যা আমাদের পরবর্তী ইন্টারভিউয়ের সাফল্যের হার বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবেঃ

১. কিছু ভালো প্রশ্ন জিজ্ঞসা করা সবাই জানে যে ইন্টারভিউ শেষে প্রশ্ন করা একটি ভালো পদক্ষেপ, আপনি কোম্পানী এবং তাদের নির্দৃষ্ট পদে কাজ করতে আগ্রহি তা এর মাধ্যমে প্রকাশ পায়। তবে সব প্রশ্নই কিন্তু ভালো প্রশ্ন না । তাই আপনি যদি বোর্ডের কর্মীদের মনে গেথে যেতে চান তবে অবশ্যই কিছু ব্রেইনস্টর্মিং প্রশ্ন করতে হবে। আর এটা আপনার বোর্ডে যাওয়ার আগে একটা ক্লিয়ার লক্ষ্য হওয়া উচিত। কিছু বাজে প্রশ্ন আমরা প্রায় বোর্ডে করে থাকি। যেমনঃ-

* আপনারা ছুটি কীভাবে দেন? বছরে কতবার? মাসে কতবার?

* আপনাদের কোম্পানীতে কী কী সুবিধা আছে?

* আপনাদের কোম্পানী কি কি বিষয় নিয়ে কাজ করে বা ব্যবসা করে?

এইগুলো আসলেই খুব বাজে প্রশ্ন, কারন এইসব প্রশ্ন খুব সহজে আপনার মনের ইচ্ছা প্রকাশ করে। সত্যিকার অর্থে আপনি কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠান থেকে কি চান তা প্রকাশ করে কিন্তু আপনি প্রতিষ্ঠানের জন্য কী বয়ে আনবেন তা প্রকাশ করবে না।

আপনি হয়তো জীবনে অনেক ক্যারিয়ার কোচ পাবেন কিন্তু তাদের মধ্যে সবাই আপনাকে ভালো প্রশ্ন কীভাবে করতে হয় বা ভালো প্রশ্নের নমুনা দেখাবে না। তাই আপনাকে ভালো প্রশ্ন করা শিখতে হবে যা আপনার বিপরীতে যে ব্যক্তি বসে আছে তার সাথে সংযোগ স্থাপনে সাহায্য করে। বোর্ডে আমরা কিছু ইতিবাচকমূলক প্রশ্ন করতে পারি, যেমনঃ-

* আপনি প্রতিষ্ঠানের জন্য কেমন প্রার্থী খুজছেন ? প্রথম ১২ মাসে আপনি তার কাছ থেকে কেমন সাহায্য আর উন্নতি আশা করছেন?

* আপনাদের (কোম্পানির) জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলো কী কী?

* আমি শুনেছি আপনাদের সিইও কোম্পানীর জন্য নতুন লক্ষমাত্রা ঠিক করেছে?

* আমি জানতে পারলাম, আপনারা ডিজিটিলাইজেশনের দিকে ঝুকছেন? আমার বিগিত চাকুরীতে আমি এমন একটা দল দেখা-শোনা করেছি যাদের সবাই তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ছিলো এবং কোম্পানীকে নতুন নতুন প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে সাহায্য করেছি।

তবে মনে রাখতে হবে এইসব প্রশ্নগুলো যেন আমরা আন্তরিকতার সাথে জিজ্ঞাসা করি এবং এমন অঙ্গভঙ্গিতে বলি যেন আমরা বোর্ড মেম্বারদের অন্তরে একটা নীরব পদ-চিহ্ন রেখে যেতে পারি।

২. যেকোন পরিস্থিতি সামনে নেয়ার মনোভাবঃ এটা অবধারিত যে আপনাকে ইন্টারভিউ বোর্ডে যেকোন বিষয়ের প্রেক্ষিতে নিজস্ব মতামত জিজ্ঞাস করা হবে। আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পরোখ করা হবে। কারন বোর্ডে আপনার মতো অনেক প্রার্থী থাকবে এবং স্বাভাবিকভাবে শর্টলিস্ট করতে হবে। এইক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে অনেকেই অনুজ্জ্বল দৃষ্টিকোন স্থাপন করি যা আমাদের রিজেকশনের তালিকায় ফেলে দিতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। তারা কোম্পানীর জন্য সবচেয়ে শেরা লোক খুজছেন এবং সেখানে একটা ভয় হচ্ছে সঠিক লোক নির্বাচন না করতে পারা। আর সেখানেই তাদের ভয়কে আপনার হাতিয়ার করে এগিয়ে যেতে হবে এবং ১০০% আত্মবিশ্বাস দেখাতে হবে।

আপনাকে হয়তো জিজ্ঞাস করতে পারেঃ

* আমরা একটু চিন্তিত আপনাকে নিয়ে,কারন আপনার পোস্টিং অন্যকোন জায়গায় হতে পারে। এই ব্যাপারে আপনার সিদ্ধান্ত কি?

* এই পদে কাজ করার সুযোগ দিলে আপনাকে অনেক মানসিক ও শারীরিক চাপের মধ্যে কাজ করতে হবে, আপনি এই মানসিক ও শারীরিক চাপের মধ্যে কাজ করেতে পারবেন? এইক্ষেত্রে আপনাকে একটু চতুরতা দেখিয়ে প্রশ্নগুলোর জন্য উপযুক্ত সবচেয়ে ভালো উত্তরগুলো দেয়ার চেষ্টা করতে হবে।

আপনি এইক্ষেত্রে বলতে পারেন, আমি এই শহরে ঘুরেছি, অনেক পছন্দ আমার। আমার পোস্টিং এইখানে হলে আমি এবং আমার পরিবার খুবই খুশি হবো। আমি অনেক চাপের মধ্যে কাজ করতে অভ্যস্ত। আমার সমস্যা হবে না। এইভাবে চেষ্টা করবেন, প্রতিটা প্রশ্নের উত্তরে একটা সুন্দর দৃষ্টিভঙ্গি মূলক ছাপ রেখে যেতে। এতে করে আপনি বোর্ড মেম্বারদের মনে ভিন্নভাবে স্থ্যান দখল করবেন যা আপনাকে অন্যদের থেকে অনেক দূর এগিয়ে রাখবে। একটা কথা মাথায় সবসময়ে রাখবেন, বোর্ডে যারা আপনার ইন্টারভিউ নিচ্ছে তাদের কোন সময়ে সন্দেহর মধ্যে ফেলে আসবেন না। আপনার কাছে জানতে চাওয়া প্রতিটা বিষয় তাদের মাঝে স্বচ্ছভাবে বর্ননা করে আসবেন।

৩. খুজে বের করুন, তাদের মধ্যে আপনার সম্পর্কে কি ধারনা জন্মাচ্ছে? আমাদের মধ্যে বেশীরভাগ প্রার্থিরা ইন্টারভিউ বোর্ড থেকে বেরিয়ে কী করি? আমরা ইন্টারভিউ এ কাটানো প্রতিটা সেকেন্ড আবার ভাবতে শুরু করি যাতে আমাদের কোথাও ভূল হয়েছে কি না! তা বুঝতে পারি। সত্যি কথা হলো মানুষের চেহারা দেখে মনের ভাব বোঝা অনেক কঠিন। আপনি একটা ইন্টারভিউ এইভেবে শেষ করতে পারেন যেন আপনি ইন্টারভিউ চমৎকার দিয়েছেন এবং কল ব্যকের আশা করছেন অথবা খুবই বাজে দিয়েছেন এবং কল পাবার কোন আশাই নেই।

যদি ভালো দিয়ে থাকেন, তবে একটা প্রশ্ন করাই যায়, আপনি তাদের জিজ্ঞাস করতে পারেন, “আপনাদের মতে আমার ইন্টারভিউ কেমন হয়েছে?” তবে এই প্রশ্নটা তখনই করবেন যদি আপনার ইন্টারভিউ চমৎকারভাবে শেষ হয়। এর বাইরে এই প্রশ্ন করার কোন প্রয়োজন নেই কারন এতে ঝুকির মাত্রা বৃদ্ধি পাবে।

এই প্রশ্নটা জিজ্ঞাস করার পর যদি পজিটিভ কিছু বলে থাকে, তাহলে অবশ্যই ভেবে নিবেন আপনার ইম্প্রেশন এবং পার্ফর্মেন্স ভালো ছিলো। ৪. ইন্টারভিউ এর পরবর্তী স্টেপগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাস করা যদি আপনার ইন্টারভিউ ভালো যায় এবং নিজের উপর একধরনের আত্মবিশ্বাস অনুভব করেন তবে আপনি অবশ্যই পরবর্তী নির্দেশনা তাদের কাছ থেকে জিজ্ঞাস করে নিবেন। এর ফলে তাদের কাছে আপনার সম্পর্কে একটি ভিন্ন ধরনের মনোভাব আসবে এবং ইতিবাচক ধারনা জন্মাবে। আমরা কেউই পরবর্তী কলের জন্য ধৈর্য্য নিয়ে বসে থাকতে পছন্দ করি না, তাই খুবই ইতিবাচক অঙ্গভঙ্গিতে আপনি তাদের জিজ্ঞসা করে নিতে পারেন,

* পরবর্তী নির্দেশনা গুলো কী?

* আমি আপনাদের পরবর্তী নির্দেশনা কোথায় পাবো? তখন বোর্ড মেম্বাররা হয়তো আপনাকে বলবে,

* আপনি এই সপ্তাহের শেষেই আমাদের থেকে আপডেট পেয়ে যাবেন।

* পরবর্তীতে আপনি আমাদের M.D. এর সাথে ইন্টারভিউ এ বসবেন। এইভাবে ইন্টারভিউ শেষে আপনি বোর্ড মেম্বারদের সাথে একটি ইতিবাচক আলোচনা তৈরী করতে পারেন।

৫. পজিটিভ কিছু কথার মাধ্যমে মিটিং শেষ করা উপোরক্ত সব স্টেপ গুলোই আপনার ইন্টারভিউ ইতিবাচভাবে এবং স্মরনীয় ভাবে শেষ করতে সাহায্য করবে। যাইহোক, আপনি কিন্তু আপনার ইন্টারভিউ সম্পর্কিত ইতিবাচক কথা গুলো তাদের জানান দিতে ভূল করবেন না। তাদের আন্তরিকতার সাথে তাদের সম্বোধন করুন এবং বলুন মিটিং অনেক ইতিবাচক ছিলো যা আপনার মাঝে নতুন এক অভিজ্ঞতার সৃষ্টি করছে। তাদের আরোও বলুন এই মিটিং আপনি কতটা উপভোগ করেছেন এবং কোম্পনী / কোম্পানীতে যেই পদের জন্য আবেদন করেছিলেন তা কতটা ইন্টারেস্টিং ছিলো। একটু হাসি-খুশি আর প্রানবন্ত আচরনের মাধ্যমে মিটিং শেষ করার চেয়ে ভালো কিছু হয় না। একটা কথা মনে রাখবেন, মিটিং শুরু করার চেয়ে আপনি কীভাবে শেষ করালেন তা অনেক গুরুত্বপূর্ন ।

৬. ধন্যবাদ দিয়ে মিটিং পরিসমাপ্ত করুন উপরের সব কয়টি স্টেপ শেষ করার পর আপনি নিশ্চিন্তে দরজা দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারেন তবে একটি কাজ বাকি রয়ে গেলো যে! এটা করার পর আপনি একটি স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারেন। তা হলো একটা ধন্যবাদ মূলক বাক্য বলে রুম থেকে বিদায় নেয়া। এতে করে আপনি তাদের মধ্যে আরও একবার একটা পজিটিভ বা ইতিবাচক ব্যবহার রেখে যাচ্ছেন এতে আপনার পদমর্যাদা অন্যদের থেকে বেশী হবে বোর্ড মেম্বারদের কাছে। তারা খুব সহজেই আপনার নাম রিকল করতে পারবেন। শুধু এইখানেই শেষ না! আপনি পরের দিন কিছুটা সময় নিয়ে তাদের একটা ই-মেইল দিবেন । সেখানে আপনি বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ্য করে ধন্যবাদ জানাবেন। যেমনঃ

* কোম্পানীর পলিসির প্রসংসা করবেন।

* কোম্পানী সম্পর্কিত ভালো ভালো মন্তব্য করবেন।

* কেন বোর্ড মেম্বারদের সাথে ইন্টারভিউটা ভালো লেগেছে।

* ইন্টারভিউয়ারদের ব্যবহার কেন ভালো লেগেছে।

* আপনি কোন কারনে তাদের সাথে যুক্ত হতে চাচ্ছেন। এইসব বিষয় অত্যন্ত আন্তরিকতা ও ফরমালভাবে তাদের ই-মেইলে তূলে ধরবেন। এতে করে আপনার উপস্থিতি আরও স্বরনীয় হয়ে উঠবে বোর্ড-মেম্বারদের কাছে। উপরক্ত বিষয়গুলো যদি আপনার পরবর্তী ইন্টারভিউ এর সময়ে মাথায় রাখেন, আশা করি একটা ভালো ফলাফল পাওয়া যেতে পারে।

Source: MeetingRoom

Writer:

Name: Md.Imtiaz
Institute: Sonargaon University
E-mail: [email protected]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Post

Most Popular

Related Post

Related from author

error: Content is protected !! Don\\\\\\\\\\\\\\\'t Try to Copy Paste.