হ্যাঁ! শৈবাল থেকেও পোশাক

0
68

পরিবেশ দূষণ শব্দটির সাথে আমরা কে না পরিচিত? রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি হঠাৎ চোখে পরলো ময়লার স্তুপ, মনে মনে বলে ফেললাম ইশ পরিবেশ কিভাবে দূষিত হচ্ছে। পরিবেশ দূষণ রোধের জন্য চলছে নানান গবেষণা । বর্তমান পৃথিবীর মূল উদ্যোগ একটি সুস্থ পরিবেশ ও তার সুরক্ষা। পরিবেশ দূষণের সবচেয়ে বড় একটি কারন কিন্তু টেক্সটাইল শিল্প । কি অবাক হলেন? টেক্সটাইল কিভাবে পরিবেশ দূষণ করে তা ভেবে? সুতা তৈরি, কাপড় বানানো,  কাপড়ে রং করা, সর্বশেষ কাপড় ব্যবহার করা সবকিছুর সাথেই পরিবেশ এর ক্ষতি মিশে আছে। 

ডাইং শিল্পে পানির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। নানান ধরনের রাসায়নিক পদার্থ মিশে থাকে পানিতে এর জন্য হয় পানি দূষণ। এই পানি দূষণ অনেক প্রভাব ফেলে  পরিবেশের উপর।
ফেব্রিক তৈরি করতে  এবং রং করতে যে সকল  রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয় তা সাধারণত বিষাক্ত, ক্ষতিকারক। এই বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান  হাজার হাজার শ্রমিকের মৃত্যুর জন্য দায়ী। এমনকি পরিবেশের সাথে মিশে গেলে অনেক জীবজন্তুরও ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। 
একটি কাপড় ব্যবহার করা শেষ হয়ে গেলে তা সাধারণত আমরা ফেলে দেই ময়লার সাথে। আজকাল অনেক পোশাক কারখানাতেই ফেব্রিক তৈরি,  কাটা এবং সেলাই করতে প্লাস্টিকের তৈরি নাইলন বা পলিয়েস্টার সুতা ব্যবহার করা হয়ে থাকে । এসব সুতা তৈরি হয় রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে এবং এই সুতা কোনোটিই পচনশীল না। মাটিতে মিশে যাবে না। আমাদের অজান্তেই হচ্ছে পরিবেশ দূষণ । 

উল্লেখিত কারন ছাড়া আরো অনেক কারন যুক্ত টেক্সটাইল শিল্পে পরিবেশ দূষণ এর ক্ষেত্রে।এই পরিবেশ দূষণ এর কথা চিন্তা করেই একদল গবেষক তৈরি করেছেন শৈশব, ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়ার মতো অনুজীব থেকে ফাইবার । যা সহজেই পচনশীল  মিশে যাবে মাঠির সাথে হবে না পরিবেশ দূষণ । 


ছত্রাক থেকে ফাইবার তৈরিঃ
ছত্রাক ডিস্কের উপর উৎপাদন করা হয় এবং এগুলো কোন সিম (seam) ছাড়াই একসাথে অটকে থাকে যার ফলে  কাস্টম পোশাক তৈরি করা যায়।


শৈবাল থেকে ফাইবার তৈরিঃ
শৈবাল থেকে ফাইবার  তৈরি করতে  ৩ টি ধাপে কাজ করতে হয় । প্রথমে , ক্যাল্প নামক সামুদ্রিক শৈবাল থেকে অ্যালগিনেট নামক শর্করাকে আলাদা করে পাউডার করে নেয়া হয়। দ্বিতীয়ত, পরবর্তিতে ওই অ্যালগিনেট পাউডার কে ওয়াটার বেসড জেল-এ রূপান্তর করা হয়। তৃতীয়ত, এরপর এটাতে প্ল্যান্ট বেসড রঞ্জক ( যেমনঃগাজরের রস) যোগ করা হয়।  সবশেষে,  ওই জেল থেকে আলাদা করা হয় লম্বা দৈর্ঘের ফাইবার যেটা দিয়ে কাপড় বোনা সম্ভব।


ব্যাকটেরিয়া মাধ্যমে ফেব্রিক ডাইংঃ
যুক্তরাজ্যের ফার্ম ফেবার ফিউচার (Fabae Future) নামক একটি কারখানা একটা বিকল্প ডাইং পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। যেখানে স্ট্রেপ্টোমাইসেস কোলি কালার জাতীয় ব্যাক্টেরিয়া ব্যবহার করে গাজনের মাধ্যমে ফেব্রিকের কালারেশন অর্থাৎ ডাইং সম্ভব।

উপকারীতাঃ
1.শৈবাল থেকে তৈরি ফাইবার বেশ মজবুত ও নমনীয় । 2.প্রাকৃতিকভাবেই অগ্নি-প্রতিরোধক ফাইবার। 3.সহজেই মাঠিতে মিশে যায়। 
বস্ত্র শিল্পকে পরিচ্ছন্ন, পরিবেশ বান্ধব, স্বাস্থ্যকর এবং টেকসই রাখার জন্য লিভিং অর্গানিজম( শৈবাল, ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া)  থেকে উৎপাদিত ফাইবার ভবিষ্যতে এক অনন্য বিপ্লব ঘটাবে। সারা বিশ্বের পরিবেশ কে সুন্দর ও দূষণ মুক্ত রাখতে এখনই লিভিং অর্গানিজম থেকে তৈরিকৃত ফাইবার টর ব্যবহার বাড়াতে হবে।

Reference: Wikipedia, bigganblog.


Written By:

Fouzia Jahan Mita. NITER 10th Batch. Department of Textile Engineering. Campus Ambassador, TES NITER Team

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here