গ্র্যান্ড ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হলো টিইএস টিম হোম ইকোনোমিক্স প্রেজেন্টস ডিবেইটার হান্ট-২০২১ এর

0
330
গ্র্যান্ড ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হলো টিইএস টিম হোম ইকোনোমিক্স প্রেজেন্টস ডিবেইটার হান্ট-২০২১ এর

নিজস্ব প্রতিবেদক,টিইএস।

যুক্তি দিয়ে কি মুক্তি মেলে?? নাকি মেলে না?? তা নিয়ে তো বিতর্কের শেষ নাই।  জোরের যুক্তি নয়, যুক্তির জোর চাই।তর্ক নয়, বিতর্কই আমাদের লক্ষ্য।বিতর্কে উত্তেজনা থাকে। সে উত্তেজনা পরিশীলিত। আক্রমণ থাকে, সে আক্রমণ শিল্পিত। বিতর্কে দ্বন্দ্ব থাকলেও তা পরমতসহিষ্ণু ও উদার হতে শেখায়।

তারই ধারাবাহিকতায় দেশ সেরা বিতর্কিক এর খোঁজে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স সোসাইটি এর টিম হোম ইকোনমিক্স এর উদ্যোগে গত ২৮ মে ২০২১ এ  শুরু হয়েছিলো  ডিবেইটার হান্ট-২০২১ এর রেজিষ্ট্রেশন। ৬ জুন পর্যন্ত চলা এই রেজিষ্ট্রেশনে সারা দেশ থেকে আসে ব্যাপক সাড়া। সারা দেশ থেকে বিভিন্ন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়। আর রেজিষ্ট্রেশন করা সেই দলগুলোর মধ্য থেকে বাছাই করা ২৪ টি টিম নিয়ে ১০ জুন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এর  মধ্য দিয়ে ১১ জুন গ্রুপ পর্বের বিতর্ক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিলো। ধাপে ধাপে গ্রুপ পর্ব, এলিমিনেশন রাউন্ড,সেরা ৮ টি দল নিয়ে  কোয়ার্টার ফাইনাল এবং সেরা ৪টি দল নিয়ে ২৩  জুন সেমি ফাইনাল এর পর ২৫ জুন সন্ধ্যা ৭ঃ৩০ মিনিটে ২২ টি টিমকে পিছনে ফেলে আসা সেরাদের সেরা বিতার্কিক ২ টি দলকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সেই কাঙ্ক্ষিত আয়োজন। যেই আয়োজনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত করা হয়  ডিবেটার হান্ট-২০২১ এর সেরা বিতার্কিক দলকে।

ডিবেইটার হান্ট-২০২১ এর এতো গুলো পর্ব পেড়িয়ে যে ২ টি দল ফাইনালে  মুখোমুখি হয়েছিলেন তারা হলেন, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশবিদ্যালয় থেকে  টিম স্বপ্ন চত্তর এবং জগন্নাথ বিশবিদ্যালয় থেকে টিম নিশিথীনি।

বিতর্কের ফাইনাল পর্বের আলোচ্য বিষয় ছিলোঃ বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন গার্মেন্টসগুলোর শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ে বিদেশীদের নিয়োগ করা। বিষয়টির পক্ষ দল ছিলো  স্বপ্নচত্ত্বর, বিপক্ষ দল ছিলো নিশিথীনি।  অনুষ্ঠানে বিচারকের আসন অলংকৃত করেছিলেন,

১)আল জামাল মোস্তফা সিন্দাইনী  তমাল
Assistant Professor of Sociology,
Bangladesh University of Professionals (BUP)
Adjudicator National Television English Parliament Debate Competition.

২)ঝুমা সাহা
Assistant Professor and Department Head of Clothing and Textile
Bangladesh Home Economics College

৩)ফারহান নাসির নির্ণয়
Reciter & Former Organizing Secretary and Debater
Port City International University

৪)হৃদয় কুমার সাহা
Vice President
NSTU Debating Society.

৫)তানভীর রিফাত
Ex-General Secretary
Rajshahi Debate Forum

 অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স সোসাইটি এর ফাউন্ডার এবং সি ই ও “রিফাতুর রহমান মিয়াজী”। এরপর মডারেটর এম এ রাশিদের পরিচালনায় শুরু হয়  মূল বিতর্ক অনুষ্ঠান।

বিতর্ক অনুষ্ঠান শেষে বিচারকমন্ডলীগন তাদের মূল্যবান বক্তব্য রাখেন এবং বিতার্কিকদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনা মূলক বক্তব্য দেন যেগুলো তাদের আগামী দিন গুলোতে বিতার্কিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজে লাগবে।

এর পর শুরু হয় অনুষ্ঠানের ২য় পর্ব । শুরুতেই এই ইভেন্টের শুরু থেকে বিতার্কিক দের নিয়ে তৈরি করা একটি প্রোমো ভিডিও প্রদর্শনী করা হয়। তার পর একে একে বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথীগণ।

অনুষ্ঠানে অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,
1)রিফাতুর  রহমান মিয়াজী
Founder of Textile Engineers Society

2)মোঃ মোরশেদ আলী
Product Development Merchandiser
Apex Holdings Limited &
Managing Editor of Textile Engineers Society.

অনুষ্ঠানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স সোসাইটি এর কোর টিম থেকে উপস্থিত ছিলেন হাসিবুল হাসান সুজন, বাঁধন সাহা, খালেদুর রহমান সিয়াম, মোঃ তানভীর হোসেন সিকদার।

এরপর একে একে বক্তব্য রাখেন স্পন্সরগণ যারা এই প্রতিযোগিতার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিলো।এই আয়োজনে গিফট স্পন্সর হিসেবে ছিলো: Order, নহলী কাব্য, বৈকুন্ঠ-BoiKuntho ,ইচ্ছেঘুড়ির স্বপ্নবুনন-Iccheghurir Swopnobunon, Ratri’s Fashion World, Anwesha’s collection, Limu’s Creative canvas, চিরকুট, স্বপ্নকুটির। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিলো Textile Wave , PBN 24 news.

পুরো আয়োজনে সার্বিক দিকনির্দেশনা দিয়ে অনুষ্ঠানের সফলতা দান করেছেন এডভাইজারগণ। এডভাজার হিসেবে ছিলো হাসিবুল হাসান সুজন,খালেদুর রহমান সিয়াম, মো রাশিদ,সাব্বির আলম শুভ, আশিক মাহমু্‌দ,সালমান ফারসি শান্ত এবং আসাদুল্লাহ রাব্বুল।

আমন্ত্রিত অতিথীদের বক্তব্য পর্ব শেষে ডিবেটার হান্ট-২০২১ এর ফলাফল প্রকাশ করেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিইয়ার্স সোসাইটির ফাউন্ডার ও সিইও রিফাতুর  রহমান মিয়াজী।

হাড্ডাহাড্ডি এক লড়াইয়ের পর সম্মানিত বিচারকদের প্রাপ্ত নাম্বারের ভিত্তিতে ডিবেটার হান্ট-২০২১ এর ফলাফল  অনুযায়ী, চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অংশগ্রহণকারী টিম নিশিথীনি। রানার্স আপ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত দল স্বপ্ন চত্ত্বর। শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয়েছে টিম নিশিথীনি থেকে মাইন আল মুবাশ্বির। বিজয়ী দলের অর্থাৎ বিপক্ষ দলের  অন্য দুই বক্তার মধ্যে ১ম বক্তা ছিল তৌফিকুল ইসলাম এবং  ২য় বক্তা ছিল সারমিন সুলতানা নিশি।

ফলাফল ঘোষণা শেষে রানার্স আপ দল স্বপ্নচত্ত্বরের দলনেতা শাহরিয়ার ইসলাম শাকিল ও   চ্যাম্পিয়ন দল নিশিথীনি থেকে তাদের দলনেতা মাইন আল মুবাশ্বির তাদের অনুভুতি প্রকাশ করেন সবার সামনে। এই সময়ে উপস্থিত সকলে বিজয়ীদের উদ্দেশ্যে শুভকামনা জানান।

সব শেষে অর্গানাইজিং টিম এর পক্ষ থেকে  অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন অর্গানাইজার সাদিয়া তামান্না বিনতে তাইফুর।পুরো আয়োজনে প্রচারণার দায়িত্বে ছিলো অর্গানাইজার শশী রাহাত। এই আয়োজনের টেকনিক্যাল দিক পরিচালনায় ছিলেন অর্গানাইজার কামরুন নাহার নিশি।অনুষ্ঠানে সার্বিক সঞ্চালকের ভূমিকায় ছিলেন অর্গানাইজার চৈতী দেব নাথ বৃষ্টি  এবং এডভাইজার টিম থেকে সাব্বির আলম শুভ।

অনুষ্ঠানটি একই সাথে সরাসরি টেক্সটাইল ইঞ্জিয়ার্স সোসাইটি এর অফিশিয়াল ফেইজবুক পেইজ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স থেকে সম্প্রচার করা হয়। মাসব্যাপী চলা এই  টুর্ণামেন্ট এর শুরু থেকে শেষ সব কিছুই ছিলো অনলাইন নির্ভর।তাই প্রতিটি অংশগ্রহণ কারী নিজ নিজ জেলায় বসেই এতে অংশ নিতে পেরেছে।অনেকে অনেক প্রত্যন্ত গ্রামে বসেও নেটওয়ার্ক দূর্যোগের সাথে পাল্লা দিয়ে ডিবেট করতে দেখা গেছে।

অংশগ্রহণ কারীদের কাছ থেকে জানা যায়ঃ এই ইভেন্টটা অনেক বেশি গুছানো ছিলো যেই বিষয়টা তাদের সবচেয়ে বেশি ভালো লেখেছে। আজকাল কার টুর্ণামেন্ট গুলো ৩ দিনে শেষ হয়ে যায় অথচ মাস ব্যাপী এমন একটি ইভেন্ট আয়োজকরা সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করেছে। অংশগ্রহণকারীরা আরো বলেন যে, এটা কোনো নামে মাত্র টুর্ণামেন্ট না। এখানে শেখার ছিলো অনেক কিছু। প্রতিটা ডিবেইট শেষে বিচারকগণ যেভাবে ভুল গুলো শুধরে দিয়েছে সেগুলো সামনের দিন গুলোতে আমাদের আরো ভালো করতে সহায়তা করবে।

বিচারকদের কাছ থেকেও জানা যায় তারা মুগ্ধ এমন সুষ্ঠু পরিচালনা দেখে। এমন ন্যাশনাল একটা কম্পিটিশন পরিচালনা করা অনেক কঠিন কাজ হলেও টি ইএস টিম হোম ইকোনোমিক্স তা খুব দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেছে।  আয়োজকদের কাছ থেকে জানা যায় যে, এই আয়োজনের মূল উদ্দ্যেশ্য ছিলো করোনাকালীন সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীরা যেনো এইসব এক্সট্রাকারিকুলাম একটিভিটিস থেকে দূরে সরে না যায়।তারা যেনো দেশের নানা প্রান্ত থেকে এই ধরণের আয়োজনে যুক্ত হয়ে কিছু শেখার সুযোগ পায়। অবসর সময় গুলোকে কিছু ভালো কাজে ব্যয় করতে পারে। শুধু তাই নয় এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনেক নতুন মুখ দেখা যায় যারা প্রথমবার এমন আয়োজনে অংশ নিয়েছিলো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here