Thursday, June 13, 2024
More
    HomeLife Style & Fashionটপ ফাইভ 'ফ্যাশন মুভি'

    টপ ফাইভ ‘ফ্যাশন মুভি’

    এই পৃথিবীতে নতুন ফ্যাশন নিয়ে সবচেয়ে বেশি মাতোয়ারা হলো মুভি ইন্ডাস্ট্রি। মুভি ক্যারেক্টরের মাঝে ফুটিয়ে তোলা হয় নিত্য নতুন ফ্যাশন। আপনার প্রিয় তারকা কোনো একটা মুভিতে যেমন জামা পড়েছে, আপনিও নিশ্চয়ই একবার হলেও সেই রকম জামা কেনার বা বানিয়ে পরার চেষ্টা করেছেন। অনেক রকম মুভি আমরা দেখি,কারো পছন্দ থ্রিলার, কারো বা অ্যাকশন আবার কারো হরর কিংবা আরো ভিন্ন কিছু টাইপ।
    এই কয়েক ধরনের মুভি ছাড়াও আমাদের টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির প্রান ভোমরা ‘ফ্যাশন’ কে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে অসংখ্য মুভি। আজকে টপ ফাইভ ‘ফ্যাশন মুভি’ সম্পর্কে জানাবো আপনাদের।

    ১) The Devil Wears Prada: ২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া এই মুভির ডিরেক্টর ছিলেন ডেভিড ফ্রানকেল।
    মুভির অন্যতম বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেছে ‘Anne Hathaway’। এই অভিনেত্রীকে এই মুভির চরিত্র ফুটিয়ে তোলার জন্য ২৫ পাউন্ড ওজন কমাতে হয়েছিল।
    এই মুভির সারমর্ম ছিল যখন তুমি কোনো একটা কাজের প্লেসে নতুন তখন সেটা সম্পর্কে যথেষ্ট জানা দরকার। আশেপাশের অন্য সকল মানুষকে জানা এবং সব বিষয়ে আপ টু ডেট থাকা।
    পুরো মুভি জুড়েই ছিল নিত্য নতুন ফ্যাশনেবল ড্রেস-আপ এবং স্টাইলিশ লাইফস্টাইল।এই মুভিতে যেসব ফ্যাশন দেখানো হয়েছে তা আজও জনপ্রিয়। তাই ‘ফ্যাশন মুভি’ এর লিস্টে এই মুভির নাম সবার উপরে।

    ২) Coco before Chanel: ফ্রান্সের এই মুভি রিলিজ হয় ২০০৯ সালের ৬ ই এপ্রিল। এই বিখ্যাত মুভির ডিরেক্টর ছিল ‘Anne Fontaine’। Coco নামের একটি মেয়েকে কেন্দ্র করে এই মুভির গল্প। Coco ছিল একজন সামান্য মেয়ে দর্জি। দিনের বেলায় সে দর্জির কাজ করতো এবং রাতে সে রাতে বারে একজন এন্টারটেইনার হিসেবে কাজ করতো।
    পরবর্তীতে একজন বড় বিজনেস ম্যানের প্রেমে পড়ে Coco এবং একজন ‘ফ্যাশন কন্সালটেন্ট’ হয়।
    মেয়েদের ফ্যাশন নিয়ে কাজ করা শুরু করে সে। এছাড়াও সে ফ্রন্সের টপ ফ্যাশন ডিজাইনার হয়।
    মূলত এই মুভির কাহিনী ছিল ‘ফ্যাশন’ কে কেন্দ্র করে এবং এতে ফ্যাশন রিলেটেড ভিন্ন ভিন্ন নতুন জিনিস দেখানো হয়েছে। তাই ফ্যাশন মুভির লিস্টে এই মুভির জায়গা অন্যতম।

    ৩) The Dressmaker: ২০১৫ সালে রিলিজ হওয়া এই মুভিটা একটা অস্ট্রেলিয়ান মুভি।ডিরেক্টর হিসেবে ছিলেন ‘jocelyn Morehouse’। থ্রিলার এবং ড্রামায় পরিপূর্ণ এই মুভির মূল চরিত্রে ছিলেন ‘Kate Winslet’।
    মুভিতে তিনি একজন ‘Dressmaker’ এর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
    মুভির মূল কাহিনী ছিল থ্রিলার। ‘kate Winslet’ কে ছোট বেলায় খুনের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। অনেক বছর পর সে তার ছোট্ট গ্রামে ফিরে আসে,তার সাথে যারা অন্যায় করেছিল, মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছিল, তাদের কাজের প্রতিশোধ নিতে।
    সম্পূর্ণ মুভিতে ছিল নজরকাড়া সব ফ্যাশনেবল ড্রেস এর ব্যবহার। মূল চরিত্র থেকে শুরু অন্য সকল চরিত্রের পরিধেয় বস্ত্রে ছিল সব ভিন্ন ও নতুন ডিজাইন এর গাউন। ছবিতে ব্যবহার করা এই ডিজাইনের গাউন এখন পৃথিবী খ্যাত। এছাড়াও এই ছবিতে ব্যবহৃত হরেক রকমের ‘টুপি’ দেখানো হয়েছিল। যা ছিল সত্যিই দৃষ্টিনন্দন।

    ৪) Gia: আজ থেকে প্রায় পঁচিশ বছর আগেও মুভি ইন্ডাস্ট্রিতে ছিল নিত্য নতুন ফ্যাশন এর পথচলা।
    নব্বই দশকের ফ্যাশন কেমন ছিল সেটা জানার জন্য দেখতে পারেন সেই সময় এর অত্যন্ত জনপ্রিয় এই ‘Gia’ মুভিটা।
    ১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া এই ফ্যাশন মুভিটির ডিরেক্টর ছিলেন ‘Michael Cristofer’ এবং মূল চরিত্রে ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ‘ Angelina Jolie’.
    সুপার মডেল ‘Gia Carangi’ এর জীবন কাহিনিকে কেন্দ্র করে এই বায়োগ্রাফি মুভিটা বানানো হয়েছিল। একজন সুপার মডেল এর জীবনে ফ্যাশন যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি ভাবে এই মুভিতে ফুটে উঠেছে একজন সুপার মডেল এর জীবন কাহিনী এবং তার জীবনের সকল ফ্যাশন এর অংশ বিশেষ।
    মফস্বল শহর থেকে উঠে আসা ‘Gia’ নামক একটি মেয়ে, যে চেয়েছিল ফ্যাশন মডেল হতে। শুধু জামা -কাপড় নয় বরং এর পাশাপাশি জুতা, ব্যাগ,ওড়না,গহনাও কিভাবে আমাদেরকে আরো বেশি ফ্যাশনেবল করে তোলে সেগুলো এই মুভিতে ‘Angelian Jolie’ এর ড্রেস-আপের মাধ্যমে সেই সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে।
    মুভির কাহিনি শেষ হয় সুপার মডেল ‘Gia’ এর উথাল পাতাল জীবন কাহিনি দ্বারা। যদিও সাধারণ মানুষ এর ফ্যাশন স্টাইল আর একজন সুপার মডেল এর ফ্যাশন স্টাইল এক নয়,তবুও এই মুভির ‘ফ্যাশন’ ও ‘স্টাইল’ ছিল জনপ্রিয়তার শীর্ষে।

    ৫) prêt-à-porter: ‘prêt-à-porter’ এর মানে হলো ‘Ready to wear’। নাম শুনেই নিশ্চয় বোঝার আর বাকি নেই যে এটিও একটি ‘ফ্যাশন মুভি’।
    কমেডি ধাঁচের এই মুভিটি রিলিজ পায় ১৯৯৪ সালে আমেরিকার। মুভির ডিরেক্টর হিসেবে ছিলেন ‘Robert Altman’।
    মুভিটা আমেরিকার হলেও এটার শুটিং করা হয়েছিল ফ্রান্সের প্যারিস শহরের ‘Paris Fashion Week’ এর সময়।আন্তর্জাতিক মানের স্টার, মডেল এবং ডিজাইনার এর সমাহারে।
    এই মুভির মূল কাহিনী ছিল ফ্যাশন উইকে একজন ফ্যাশন কাউন্সিলর এর রহস্যময় মৃত্যকে কেন্দ্র করে।
    কিন্তু কাহিনী যেমনটা হোক,এই মুভিতে দেখানো হয়েছে ‘Paris fashion week’ এর অনেক বিশেষ বিশেষ অংশ। সারা পৃথিবী এর ফ্যাশন এর ব্যাপারে মানুষকে জানানো হয়েছে।
    মনকরা সব ডিজাইনেবল পোশাক,এছাড়াও পাশ্চাত্য ফ্যাশন এর একটা সঠিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে বিশ্ববাসীর কাছে।
    ফ্যাশন নিয়ে অনেক মুভি থাকলে এই মুভির শুটিং টাই যেহেতু করা হয়েছিল ফ্যাশন উইকে তাই এর মধ্যে ‘ফ্যাশন’ ব্যাপারটা ১০০% সঠিক ও সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেছে। তাই অন্য সকল মুভির থেকে এই মুভির কাহিনীকে এগিয়ে রাখাই যায়।

    ‘ফ্যাশন’ আর ‘মুভি’ এর দুনিয়া থেকে বাইরে এসেও আমার আমাদের চারপাশেই টিভির পর্দায় মুভির ফ্যাশনকে আমাদের শপিং মলেই খুঁজে পাচ্ছি।
    ফ্যাশন সচেতন মানুষের এই সকল মুভি একবার করে হলেও দেখা দরকার। মুভি দেখেই যদি আমাদের ফ্যাশন সেন্স আরো উন্নত হয়,যদি আমদের দেশের ফ্যাশনকে আরেকটু উন্নতির পথে নিয়ে যাতে পারি তবে মন্দ নয়।

    Source: Wikipedia,YouTube

    Writer’s Information

    Name: Nure Arfi
    Semester: Second year, First Semester
    Batch: 39
    Ahsanullah University Of Science and Technology

    RELATED ARTICLES

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    - Advertisment -

    Most Popular

    Recent Comments