Home Business টেক্সটাইল ও পোশাক বানিজ্যে ডিজিটাল মার্কেটিং

টেক্সটাইল ও পোশাক বানিজ্যে ডিজিটাল মার্কেটিং

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় টেক্সটাইল এবং পোশাক উৎপাদনকারী দেশ।গ্রাহককে আরও বেশি আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে এই দেশটি আরও অনেক বিপনন কৌশল গ্রহণ করেছে।বর্তমানে পরিবেশ এর প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এর সাথে সাথে ডিজিটাল বিপণন ব্যবস্থা বিশ্বজুড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ডিজিটাল মার্কেটিং/Digital Marketing

ডিজিটাল বিপণন হলো সমস্ত ধরনের অনলাইন বিপণন ব্যবস্থার ছাতার মতো। বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বর্তমান এবং সম্ভাব্য গ্রাহকদের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য গুগল অনুসন্ধান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম,ইমেইল এবং নিজস্ব ওয়েবসাইট ব্যবহার করছে।ডিজিটাল বিপণন এর কিছু সাধারণ কৌশল রয়েছে এবং এই সমস্ত কৌশল B2B(Business To Business) এবং B2C(Business To Customer) এ ব্যবহৃত হয়।তবে বাংলাদেশের বেশিরভাগ টেক্সটাইল ব্যবসাই হলো B2B অর্থাৎ বিজনেস টু বিজনেস।সুতরাং B2B এর ক্ষেত্রে সকল প্রকার কৌশল কার্যকর হয় না।যে সমস্ত কৌশলগুলো কার্যকর হয় সেই সেগুলো নিয়ে এখানে আলোচনা করা হলো। 

ডিজিটাল বিপণন এর বাস্তবায়ন

A Nice Functional Website/একটি দূর্দান্ত কার্যকরী ওয়েবসাইটঃ

সর্বপ্রথম আপনি যদি চান আপনি ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড থেকে সর্বোচ্চ ফল পেতে তাহলে অবশ্যই আপনাকে সর্বোত্তম দৃষ্টিভঙ্গী এবং সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিয়ে যাত্রা শুরু করতে হবে।একটি কার্যকরী এবং যোগাযোগমূলক ওয়েবসাইট হলো বিশ্বজুড়ে কোন প্রতিষ্ঠান বা তার পণ্যগুলোর প্রচারের প্রথম পদক্ষেপ। ওয়েবসাইটটিতে কোম্পানির নিজস্ব ডোমেইন থাকতে পারে বা অন্যান্য প্লাটফর্ম যেমন Alibaba,Amazon, eBay এর মতো প্রতিষ্ঠান এর নিজস্ব ওয়েবপেজ থাকতে পারে। তবে টেক্সটাইল এবং পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বেশিরভাগই কেবল উৎপাদনকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে।তারা খুব কমই নিজের ওয়েবসাইটে ফোকাস করে।এমনকি সংস্থার কোন ওয়েবসাইট থাকলেও তারা এটিকে আপডেট করেনা এবং যোগাযোগে ব্যবহার করেনা।একটি কার্যকরী ওয়েবসাইট অভ্যন্তরীণ হোক বা বাহ্যিক হোক সকল প্রকার যোগাযোগের বাহণ হয়ে উঠতে পারে।বিপণনের লক্ষ্য অর্জন এর জন্য টেক্সটাইল এবং পোশাক উৎপাদনকারী সংস্থাগুলো তাদের ওয়েবসাইট ও অন্যান্য যোগাযোগ এর মাধ্যমগুলোর নিয়মিত সংস্করণ করতে পারে।

Search Engine Optimization(SEO):

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর মাধ্যমে ওয়েবসাইট এর প্রাপ্ত জৈবিক ট্রাফিকের পরিমাণ বাড়িয়ে তোলা যায়।এই কৌশলগুলো অবলম্বন করে টেক্সটাইল এবং পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গুলো একটি SEO বান্ধব ওয়েবসাইট তৈরি করে ওয়েবসাইটটি সার্চইঞ্জিনে উচ্চতর স্থানে নিয়ে আসতে পারে যার মাধ্যমে তারা খুব সহজেই ক্লায়েন্ট অথবা ক্রেতার কাছে পৌছাতে সক্ষম। সেক্ষেত্রে ওয়েবসাইটটি শুধু র‍্যাংকে চলে আসেনা, গ্রাহকের থেকেও একটি ভালো সাড়া পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। যদি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গুলো নিজস্ব ওয়েবসাইট চান ইতিমধ্যে তাদের জন্য ভালো SEO সাইট রয়েছে, তবে প্রতিষ্ঠান এর নিজে শিখা উচিত যে কিভাবে পেজ এবং সাইটগুলো SEO এর মাধ্যমে উন্নত করা যায়।

Content Marketing:

উৎপাদনকৃত পন্যের প্রচার বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে ব্র‍্যান্ড সচেতনতা, ট্রাফিক বৃদ্ধি,লিড জেনারেশন ইত্যাদি বিষয়াবলী।এই কৌশলগুলো ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন সামগ্রী গুলোর লিখিত কন্টেন্ট তৈরি করতে পারে এবং টেক্সটাইল সম্পর্কিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অথবা দেশীয় অভ্যন্তরীণ ব্লগ বা ফোরামে প্রকাশ করতে পারে।বিশ্বজুড়ে প্রচুর টেক্সটাইল,পোশাক এবং ফ্যাশন মিডিয়া প্লাটফর্ম রয়েছে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গুলো বিভিন্ন কন্টেন্ট তৈরি করার মাধ্যমে এই প্লাটফর্ম গুলোকে কাজে লাগাতে পারে। 

Social Media Marketing:

ব্র‍্যান্ড সচেতনতা বাড়াতে,ট্রাফিক বৃদ্ধি করতে এবং ব্যবসাকে আরও বেশি গতিশীল করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোর ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানগুলো ব্র‍্যান্ড অথবা পণ্যসামগ্রীগুলোর অনেক বেশি প্রচার প্রচারণা করতে পারে।যেমনঃ ফেসবুক, টুইটার,লিংকডইন এবং ইউটিউব সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রয়েছে যার মাধ্যমে সহজেই বিপণন করা সম্ভব।বিশেষ করে লিংকডইন(Linked In) হলো পেশাদারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।আর ফেসবুক(Facebook) হলো সর্বাধিক ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।সারা বিশ্বজুড়ে সকল ধরনের পেশার মানুষের একটি বৃহত ডেটাবেজ রয়েছে এখানে।ইউটিউব(YouTube) ব্যবহার করে টেক্সটাইল সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়া, মান নিয়ন্ত্রণ এর প্রক্রিয়া, নৈতিক মান ইত্যাদি বিষয়ক ভিডিও প্রকাশ করতে পারে যা প্রতিষ্ঠান এবং পণ্য সম্পর্কে ভালো ধারণা তৈরি করতে পারে।এই কৌশলটি কোন প্রতিষ্ঠান এর বিক্রয় এর পরিমাণ বৃদ্ধিতেও সহায়তা করবে।তাছাড়া টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্প নিয়ে আরও অনেক মিডিয়া হাব রয়েছে। 

Email Marketing:

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের ভোক্তাদের সাথে যোগাযোগের উপায় হিসেবে ইমেইল বিপণন ব্যবহার করে আসছে।ই-মেইল এর মাধ্যমে প্রায়শই বিভিন্ন সামগ্রী,ছাড় এবং ইভেন্টগুলোর প্রচার করার পাশাপাশি ক্রেতাদের ওয়েবসাইট এর দিকে পরিচালিত করতেও ব্যবহার করা হয়। এটি B2B(Business To Business) সেটিং এ ডিজিটাল বিপণন এর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশল।বাংলাদেশের টেক্সটাইল এবং পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ই-মেইল বিপণন ব্যবস্থাই সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়।ইমেইল ব্যবহার করার মাধ্যমে বিশেষত প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি ক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়াটি একটু সময়সাপেক্ষ এবং জটিল একটি প্রক্রিয়া। এক্ষেত্রে কিছু নিয়ম এবং নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। 

SMS Marketing:

Short Message Service Marketing(SMS Marketing) এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রচারমূলক বার্তা,পন্য আপডেট সহ আরও অনেক তথ্য গ্রাহকের কাছে পাঠানো হয়।যন্ত্রপাতি বিপণন, ডাই-কেমিক্যাল বিপণন, ফেব্রিক বিপণন, সুতা বিপণন সহ আনুষাঙ্গিক বিপণন ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো এসএমএসের মাধ্যমে তাদের গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ করে থাকে এবং তাদের বিক্রয় পরিমাণ উন্নতি করতেও তারা এসএমএস বিপণন কৌশল ব্যবহার করে যাচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, এই ডিজিটাল বিশ্বে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পকে তাদের বিপণন কৌশলে ডিজিটাল বিপণন কৌশল প্রয়োগ করা প্রয়োজন।এতে করে টেক্সটাইল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল বিপণন ব্যবস্থার মাধ্যমে সহজেই খুজে বের করতে পারবে তাদের কাঙ্খিত গ্রাহকদের এবং গ্রাহকদের মনেও তৈরি করবে ইতিবাচক ধারণা,বিক্রয় বাড়িয়ে তুলবে এবং গ্রাহকদের সাথে বজায় থাকবে সুসম্পর্ক।

Writers Information:
Mohammad Arshil Azim 
Department Of Textile Engineering
BGMEA University Of Fashion & Technology(BUFT)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Post

Most Popular

Related Post

Related from author

error: Content is protected !! Don\\\\\\\\\\\\\\\'t Try to Copy Paste.