টেক্সটাইল প্রিন্টিং সেক্টরের সাথে চারুকলার শিক্ষার্থীদের যোগসুত্র স্থাপন

0
312
All Over Printing Technologist of Bangladesh-AOPTB

All Over Printing Technologist of Bangladesh-AOPTB এর উদ্যোগে সম্প্রতি “টেক্সটাইল সেক্টরে চারুকলা বিভাগের ছাত্র/ছাত্রীদের ভূমিকা” শীর্ষক একটি অনলাইন সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল  । অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ইঞ্জিনিয়ার এস. এম. আব্দুর রহমান (জেনারেল ম্যনেজার- অপারেশন, ইউনিফিল টেক্স বিডি গ্রুপ ও প্রেসিডেন্ট অব AOPTB), এবং সঞ্চালনা করেন শওকত হোসেন সোহেল; সাধারণ সম্পাদক AOPTB, (ম্যনেজার-ক্যাড, ইউনিফিল কম্পোসিট ডায়িং মিলস লিমিটেড)।

এছাড়া সেমিনারটিতে অতিথি হিসেবে  বক্তব্য রাখেন ০১.জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ডা. বজলুর রশীদ খান, ০২.আবদুল্লাহ আল মামুন ডিরেক্টর আবেদ টেক্সটাইল লিমিটেডে (ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস  এসোসিয়েশন), ০৩. জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. এমদাদুর রাশেদ সুখন, ০৪. ইঞ্জিনিয়ার শ্যামল চন্দ্র সাহা ,উপদেষ্টা, জনি গ্রুপ (উপদেষ্টা AOPTB), ০৫. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ফারহানা তাবাসসুম, ০৬.ডলি থাই (ক্লোথ আর ইউ এস লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক), ০৭. প্রকৌশলী মো. আমিরুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড, ০৮.প্রকৌশলী আশরাফুল আলম এডভাইজর (AOPTB) এম এন ডায়িং প্রিন্টিং এন্ড ওয়াশিং মিলস লিমিটেড, ০৯. আল মঞ্জুর এলাহী, সহযোগী অধ্যাপক, চারুকলা বিভাগ, জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়; ১০.কাজী মোঃ মোহসিন, সহকারী অধ্যাপক, চারুকলা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় , ১১. মোঃ সালাউদ্দিন, চেয়ারম্যান এ.এস কে অ্যাপারেল অ্যান্ড টেক্সটাইল সোর্সিং এবং ডিরেক্টর রিয়াজ গার্মেন্টস লিমিটেড, ১২. জিহান করিম, সহকারী অধ্যাপক, চারুকলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় । এছাড়া উক্ত সেমিনারে টেক্সোইল টেক্টরের স্বনামধন্য অতিথিবৃন্দের এবং বাংলাদেশের পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৭৫ জন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি ভার্চুয়াল সেমিনার আয়োজন করে All Over Printing Technologist of Bangladesh-AOPTB । যার প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল “ কীভাবে চারুকলার শিক্ষার্থীরা টেক্সটাইল প্রিন্টিং সেক্টরে অবদান রাখতে পারে”।

All Over Printing Technologist of Bangladesh-AOPTB

অনুষ্ঠানের শুরুতেই এস এম আব্দুর রহমান সকল অতিথিবৃন্দদের স্বাগতম জানিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন বর্তমানে বাংলাদেশে বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রচুর পরিমাণে চারুকলার শিক্ষার্থীরা বের হচ্ছে আমরা অল ওভার প্রিন্টিং টেকনোলজিরা মনে করি এই সকল শিক্ষার্থীরা টেক্সটাইল সেক্টরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে । বাংলাদেশের যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আসে, তার ৮০% এই আসে টেক্সটাইল সেক্টর থেকে তা আমরা জানি । তাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে টেক্সটাইলের সাথে চারুকলার শিক্ষার্থীদের যোগসুত্র তৈরি করা আর এই   লক্ষেই আজকের এই সেমিনার।

এখন ডিজিটাল প্রিন্টিং এর যোগ এর মাঝে মনে হয় বিশ পঁচিশটা কোম্পানির মাঝে ডিজিটাল প্রিন্ট করা হয়। কিন্তু বলা যায় যে কিছুদিনের মাঝেই তিনশ থেকে প্রায় সাড়ে তিনশো এর মত কোম্পানি ডিজিটাল প্রিন্টিং  চলে আসবে,  আর সেক্ষেত্রে দক্ষ ডিজাইনারের কিন্তু বিকল্প নেই প্রতিটা কোম্পানিতেই  আমাদের চারুকলার শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে অবদান রাখতে পারবে বলে আমি মনে করি।

শ্যামল চন্দ্র সাহা (উপদেষ্টা, জনি গ্রুপ), সকলকে শুভ সন্ধ্যার শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন এবং বলেন- “Actually textile printing is a art, design is the heart of textile printing, the role of the textile designer very very important in our in our sector, because designer guides the process of Designing to print the fabrics.”

ট্রেডিশনালি আমরা মেনুয়ালি ডিজাইনের কাজ করতাম । কিন্তু বর্তমানে ক্যাড সিস্টেম চালু হওয়ার পর অনেক অপরচুনিটি এসেছে ডিজাইনারদের জন্য ।আমি মনে করি একজন ডিজাইনার এর ডিজাইন তৈরির পূর্বে ফেব্রিক্স স্টাইল, কালার এবং কোন মেশিনে প্রিন্ট হবে সেই সকল বিষয় সম্পর্কে একজন ডিজাইনারকে অবগত থাকা প্রয়োজন।

বর্তমানের ডিজিটাল যুগে বিশ্ববাজারে ডিজিটাল প্রিন্টিং খুব দ্রুত ছড়িয়ে গিয়েছে বাংলাদেশ ও তার ব্যতিক্রম না আর এই ডিজিটাল প্রিন্টিং এর জন্য চারুকলা শিক্ষার্থীদের গুরুত্ব ব্যাপক । কেননা আমরা এখন পর্যন্ত হয়তো কারোর না কারোর ডিজাইন কপি করে পেস্ট করছি বা বাইরের দেশ থেকে নিয়ে আসছি কোন ডিজাইনারকে, অথবা ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে যেকোন উপায়ে আমরা কপি-পেস্ট এর মাধ্যমে ডিজাইন করে থাকছি । কিন্তু তার মানে কি ! আমাদের দেশে প্রচুর পরিমাণ ডিজাইনারের ঘাটতি রয়েছে । তার ফলেই আজকে যে সকল ডিজাইনাররা কাজ করছে তাদেরকে কাট কপি পেস্টের মাধ্যমে ডিজাইন করা লাগছে । তাই এখন যুগ এসেছে আমাদের ক্রিয়েটিভ ডিজাইনারদের কে কাজে লাগানোর আর  সেই  লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমাদের আজকের এই সেমিনার ।আর এইটা তখনই সম্ভব হবে যখন কিনা আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে ফ্যাক্টরির একটা সম্পৃক্ততা বজায় থাকবে । দেশের অর্থনীতিতে চারুশিক্ষার্থীরা এতে করে ব্যাপক অবদান রাখতে পারবে বলে আমি মনে করি।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের চেয়ারম্যান ডঃ মোঃ এমদাদুর রাশেদ সুখন অতিথিবৃন্দকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আলোচনা শুরু করেন এবং আলোচনার শুরুতেই তিনি বলেন সত্যিকার অর্থে আমরা চারুকলার শিক্ষার্থীরা বরাবরই ভিন্নধর্মী কাজের সাথে নিজেদেরকে যুক্ত করতে চাই । আর এই ধরনের নতুন নতুন উদ্যোগের জন্য আমরা সত্যিই অনেক কৃতজ্ঞ বলে মনে করছি নিজেদেরকে । আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ফ্যাক্টরিগুলোতে । চারুকলার শিক্ষার্থীরা এই সেক্টরে ভাল অবদান রাখতে পারবেন আর এই প্রয়োজনের তাগিদেই আমরা আমাদের সিলেবাসের টেক্সটাইল সাবজেক্টকে যেকোনো একটা সেমিস্টার এর মাঝে আওতাভুক্ত করতে চাচ্ছি।

আর আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে, আমাদের নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো করে যদি অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ও চারুকলায় প্রত্যেকটা স্টিমে টেক্সটাইল সাবজেক্টকে আওতাভুক্ত করা যায় যেকোন কোর্সের মাঝে তাহলে শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক উপকার হবে । এতে করে বাংলাদেশে অনেক ডিজাইনার বের হবে ,যারা কিনা টেক্সটাইল ফ্যাক্টরি অবদান রাখতে পারবে এবং দেশকে রিপ্রেজেন্ট করতে পারবে বলে আমি ধারণা করছি । আর আমরা নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সামনে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করতে যাচ্ছি টেক্সটাইল ডিজাইনের ওপর যেটা কিনা বাংলাদেশে এই প্রথম । আমাদের প্রথম সেমিনারে মাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থীরা তাঁদের কিছু শিল্পকর্ম প্রদর্শন করবেন , যেটা কিনা  শওকত হোসেন সোহেল সাহেব ট্রেইনাপ করিয়েছিলেন ।

আমরা যদি লক্ষ্য করি – বহির্বিশ্ব থেকে বিভিন্ন ডিজাইনারকে এনে আমাদের টেক্সটাইল ফ্যাক্টরীতে ডিজাইনের কাজগুলো করানো হচ্ছে । কিন্তু আমরা যদি আমাদের দেশের আর্টিস্টদেরকে সেই জায়গাগুলোতে পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত করতে পারি তাহলে আমার ধারণা আমাদের এই ফ্যাক্টরিগুলো এক সময় যথেষ্ট উন্নত হবে বলে আমি মনে করি।

আবদুল্লাহ আল মামুন ডিরেক্টর আবেদ টেক্সটাইল লিমিটেডে, বলেন- ব্যক্তিগতভাবে আমি এই চারুকলার সাথে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্ত। আমাদের আজকের এই বাস্তবতায় ড্রইং এবং কোন রকম পেইন্টিং ব্যাতিত আমাদের জীবন আমরা চিন্তাই করতে পারিনা । সর্বত্র এর ছাপ লক্ষ্য করা যায় ।আর আমরা প্রতিনিয়ত টেক্সটাইল সেক্টরের সেই ঘটতির সম্মুখীনতার মাঝে নিজেদের উপলব্ধি করছি। আমাদের উদ্দেশ্য হল – এই শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে কিভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে একত্রিত হয়ে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে পারে । উনি আরও বলেন- বহিঃবিশ্বের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিবছর তাদের কারিকুলাম এর মাঝে কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসে । সেই সমস্ত দেশের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাথে এবং শিল্প মালিকদের রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে  নতুন করে  সিলেভাস করা হয় শিক্ষার্থীদের জন্য । আর এইটা অনেক আধুনিক ও সময়োপযোগী চিন্তা ভাবনা । আমরাও আমাদের দেশে এমন চিন্তা ভাবনার প্রতিফলন করতে পারি । বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে চারু শিক্ষার্থীদের জন্য এই সেক্টরে । অন্তত প্রতিবছর আমি নিজেই ১০০ জনের মতো শিক্ষার্থীদের চাকরির সুযোগ করে দিতে পারব বলে মনে করি ।  আমার ধারণা এমন কোন ইনডাস্ট্রি নেই যেখানে ডিজাইনারদের প্রয়োজন পড়ে না। তাই চারুকলা অনুষদের নীতিনির্ধারকরা যারা রয়েছেন তারা এই বিষয়টিকে অবশ্যই আপনাদের কারিকুলাম এর আওতাভুক্ত করবেন বলে আমি মনে করি । এতে করে আমাদের বাংলাদেশের সেক্টর চারুকলার শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে ভূমিকা রাখতে পারবে।

আল মঞ্জুর এলাহী, (সহযোগী অধ্যাপক, চারুকলা বিভাগ, জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়);বলেন- আমাদের চারুকলাতে মূলত ৮টার মতন স্ট্রিম রয়েছে, আমরা যদি টেক্সটাইলকে আমাদের সাবজেক্ট এর আওতাভুক্তও করি তবে সেইটা কোন স্ট্রিমে করবো ? সেটা কি শুধুমাত্র গ্রাফিক্স ডিজাইনে,  নাকি প্রতিটা স্ট্রিমে এইদিকগুলো একটু ভাবনার বিষয় ।আর একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হল আমরা লক্ষ্য করি যে আমাদের চারুকলার শিক্ষার্থীরা বেশিরভাগই টিভি চ্যানেল,এড এজেন্সি,এনিমেশন ফার্ম, এই সকল সেক্টরগুলোতে কাজ বেশী করে । কিন্তু কেন ? আমার ধারনা তাদেরকে স্ট্যান্ডার স্যালারি বা বিভিন্ন ফেসিলিটি দেয়া হয় বলে, তাই  তারা এ জায়গাগুলোতে জব করতে আগ্রহ প্রকাশ করে ।কিন্তু সেই তুলনায় টেক্সটাইল সেক্টরে কি এই সকল সুযোগ-সুবিধা পাওয়া সম্ভব ? এটা আসলে আমার একটু জানার ছিল। এছাড়া তিনি আরো বলেন – টেক্সটাইল সেক্টরে রিসার্চের কোন জায়গা আছে  কিনা ? যেখনে কিনা আমরা সকলে একত্রিত হয়ে কাজ করতে পারব এবং বিভিন্ন রকমের ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হবে ।  নতুন কোন কিছুর সম্পর্কে ছেলে মেয়েদের ধারণা দেয়া হবে, কোন বই বা গবেষণা প্রকাশ করা হবে । এছাড়া আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে চারুকলায় প্রচুর পরিমাণে মেয়েরা ভর্তি হয় যারা কিনা কোন মফস্বল এলাকায় থাকে বা কোন সাংসারিক কারণে

সরাসরি কোনো ইন্ডাস্ট্রি সাথে যুক্ত হতে পারে না । কিন্তু তাদের মাঝে সেই সমস্ত যোগ্যতা আছে তারা কি কোনোভাবে অনলাইনের মাধ্যমে কাজ করতে পারবে ?

প্রকৌশলী আশরাফুল আলম ,পরিচালক প্রিন্টিং , এডভাইজর (AOPTB), এম এন ডায়িং প্রিন্টিং এন্ড ওয়াশিং মিলস লিমিটেড, শিল্পী মন্জুর এলাহীর বক্তব্য পরিপ্রেক্ষিতে তিনি  বলেন যে – সময়ের পরিপ্রেক্ষিতেই এই বিষয় গুলি পরিবর্তন হবে । প্রথমেই যদি আমি আসি সেলারি ব্যাপারে সেইক্ষেত্রে একজন ফরেইনার ডিজাইনারকে যদি আমরা আমাদের দেশে ইনভাইট করি তবে তাদেরকে অনেক স্ট্যান্ডার্ড লেভেলের সেলারি দেয়া হয়ে থাকে, সেটার পিছনেও কিন্তু যথেষ্ট কারণ রয়েছে । কিন্তু আমাদের লোকাল মার্কেটে যেসকল ডিজাইনারা কাজ করছে তারা খুবই কম লিটারেটেড থাকে এমনকি নরমাল এসএসসি বা এইচএসসি পাস । ২/৩ বছর ধরে গ্রাফিক ডিজাইনের উপর ট্রেনিং নিয়ে ফটোশপ ইলাস্ট্রেটর কাজ করতে করতে অভিজ্ঞতা অর্জন করে থাকেন এবং ডিজাইনার হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠা করেন । সেলারি কম হওয়ার পিছনে এটাতো একটা কারণ হতে পারে বলে আমি মনে করি।  যেহেতু তাদের একাডেমিক কোন শিক্ষা নেই। যার ফলে তারা কিছু বেসিক নলেজ নিয়ে কাজ করে থাকেন আর তারা কাজ শিখে শিখে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এবং কাজ করতে করতে তারা আস্তে আস্তে আউটপুট দিতে পারে । তাই সে অনুযায়ী তাদেরকে স্যালারি দেয়া হয়ে থাকে । আমরা আশা করছি যদি চারু শিল্পীরা টেক্সটাইল ডিজাইনের ধারনা নিয়ে এই সেক্টরে আসে তবে তারা অল্প সময়ে ভাল করতে পারবে এবং তাদের সেলারি অনেক ভাল হবে বলে আমি মনে করি। তিনি আরও বলেন-  আমি লক্ষ্য করেছি খুবই কম দক্ষ লোকগুলো আমাদের এই ফ্যাক্টরিগুলোতে কাজ করে ।  যারা আছে তাঁরা কোন ক্রিয়েটিভ ডিজাইন করতে পারে না । চারুকলার ডিজাইনার যাও কয়েকজন আছে হাতে গোনা কয়েকটা ফ্যাক্টরিতে তাদের স্যালারি কিন্তু যথেষ্ট স্ট্যান্ডার্ড লেভেলের । আর ডিজিটাল প্রিন্ট এর জন্য একাধিক ডিজাইনার প্রয়োজন বর্তমানে বাংলাদেশে । এছাড়া আমি মনে করি আমাদের সকলের একত্রে কাজ করলে আমরা উভয় পক্ষই উন্নতি লাভ করতে পারব দেশ ও জাতির স্বার্থে আমরা সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারবো।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের চেয়ারম্যান ডঃ রশিদ আমিন আলোচনার শুরুতেই বলেন- আমরা যারা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে  সাথে যুক্ত আছি ,আমাদের বড় একটা মাথা ব্যাথা হলো- আমাদের প্রতি বছর এতো এতো ছাত্র ছাত্রীরা পড়াশোনা শেষ করে বের হচ্ছে । তাদের কর্মসংস্থান কোথায় হবে ? সেটা কিন্তু আমাদের শিক্ষকদের ভাবনার বিষয় আমরা শিক্ষকরা কিন্তু সেই দায়বদ্ধতা কে এড়াতে পারিনা । আর আমাদের বাংলাদেশের টেক্সটাইল এর মত এত বড় একটা সেক্টর নিয়ে আমরা কখনও ভেবে দেখিনি । 

 সুতরাং এই রকম একটা বড় সেক্টরে আমরা নিজেদের কিভাবে সমৃদ্ধ করতে পারি সেদিকে আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে এবং ভাবতে হবে আমাদের চারুকলার যতগুলো প্রতিষ্ঠান রয়েছে এখন যে ট্রেন্ড শুরু হয়েছে দেখা যায় যে  শিক্ষার্থীরা কিন্তু ছবি আঁকার মাঝে থাকতে চায় না,তাঁরা  চাকরির মাঝে থাকতে চায় । আমরা যদি আড়ং এর  সূচনা লগ্নে  দেখি সেখানেও দেখব তারা কিছু শিল্পীদের নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। আর আজকের সময় এসে আড়ং সবার মন জয় করেছে। তাই আমি মনে করি আপনারা টেক্সটাইল ফ্যাক্টরী ও চারুকলার একটা সম্পৃক্ততা থাকা উচিত- এই  বিষয়টা আপনারা প্রাগ্যব্যক্তিরা যে অনুধাবন করেছেন আমি সেই চিন্তাভাবনাকে সাধুবাদ জানাই ।

প্রকৌশলী মো. আমিরুল ইসলাম (ব্যবস্থাপনা পরিচালক, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড), সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে শুরু করেন- আজকের সেমিনারটা হল কন্ট্রিবিউশন অফ ফাইন আর্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল সেক্টর । টেক্সটাইল সেক্টর একটা বিশাল জায়গা এটা হয়তো অনেকে বুঝতে পারছে না যখন ভিতরে ঢুকবে তখন বুঝতে পারবে এর পরিধি । আমি মনে করি যে, চারুকলা শিক্ষার্থীদের জন্য এটা একটা অনেক বড় জায়গা আর বায়াররা আমাদের কাছে যে ধরনের ডিজাইন ডিমান্ড করুক না কেন আমরা সেই সব ধরনের ডিজাইন করতে পারব এবং ক্ষমতা অর্জন করতে পারব । রেভেলেশন বুঝতে হলে চারুকলার শিক্ষার্থীদের অলরেডি এই ধরনের ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরি হয়ে আছে । আর শিক্ষার্থীরা যদি এই সেক্টরে আসে তবে আমি মনে করি তারা তাদের চিন্তা ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সফলতার পর্যায়ে পৌঁছাবে ।

তিনি বলেন-  আমি মনে করি আমাদের শিক্ষার্থীদের নিয়ে যদি আমরা প্রচুর পরিমাণ সেমিনার, ওয়ার্কশপ, প্রদর্শনী এ সমস্ত একটিভিটিস করে থাকি তাহলে আমাদের সম্ভাবনার দ্বার অনেক প্রসারিত হবে । এতদিন এমন কোন প্ল্যাটফর্ম ছিল না যেহেতু তৈরি হয়েছে তাই এগুলোকে কাজে লাগাতে হবে আমাদের সকলকে একত্রিত হয়ে।

কাজী মোঃ মোহসিন, সহকারী অধ্যাপক, চারুকলা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বলেন – আমাদের চারুকলার শিক্ষার্থীদের জন্য যে টেক্সটাইলে এত বড় একটা জায়গা আছে, সেটা সম্পর্কে আমরা জানিনা বলে আমাদের মনে হচ্ছে আমাদের অধিকাংশ চারুকলার শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র টিভি চ্যানেল, বিজ্ঞাপন সেক্টরগুলো এবং এনিমেশন সেক্টরের সাথে যুক্ত হচ্ছে ।  তাই আমরা সকলে  টেক্সটাইলে সেক্টরে একসাথে কাজ করলে মনে হয় না যে, আর বহির্বিশ্ব থেকে ডিজাইনার আনার প্রয়োজন আছে । আমরা নিজেদের শিক্ষার্থীদের দিয়ে আমাদের এই জায়গাটাকে ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে পারবো।

মোঃ সালাউদ্দিন;  চেয়ারম্যান এ এস কে অ্যাপারেল অ্যান্ড টেক্সটাইল সোর্সিং এবং ডিরেক্টর রিয়াজ গার্মেন্টস লিমিটেড, হেড অফ অপারেশন, বুনোন বলেছেন, “আমাদের দেশে অনেক প্রতিষ্ঠানে চারুকলা বিভাগ রয়েছে, প্রতিটি চারুকলা বিভাগের  পাঠ্যক্রমে টেক্সটাইল ডিজাইন এবং ফ্যাশন ট্রেন্ডগুলি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।  আমি আমাদের শিল্প মালিকদের অনুরোধ করব আপনার বায়িং হাউস এবং শিল্পে চারুকলার শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ এবং চাকরি দেওয়ার জন্য।  কারণ তারা ডিজাইন তৈরির অংশ এবং ভিজ্যুয়াল মার্চেন্ডাইজিংয়ে একটি বড় অবদান রাখতে পারে এবং এটাও সম্ভব যে আপনি তাদের সৃজনশীল ডিজাইনের মাধ্যমে নতুন ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন।”

 “আমি সত্যিই নিজেকে ধন্য মনে করছি যে আমি শওকত হোসেন সোহেলের সাথে গত দুই বছরের এই যাত্রার অংশ হতে পেরেছি – যিনি এত কঠোর পরিশ্রম করছেন আমরা একসাথে এই বিষয়গুলিকে ফোকাস করার জন্য কঠোর চেষ্টা করেছি এবং আশা করি আমাদের উভয় স্বপ্নই বাস্তবায়িত হবে। তবে এর জন্য, আমরা আমাদের টেক্সটাইল সেক্টরের বৃহত্তর স্বার্থে এটি বাস্তবায়ন  করার জন্য আমাদের শিল্পের নেতাদের,  মালিকদে এবং শিক্ষকদের সমর্থন প্রয়োজন।”

ডলি থাই (ক্লোথ আর ইউ এস লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক) বলেন “আমাদের সাসটেইনেবল গার্মেন্টস নিয়ে কাজ করতে হবে, চারুকলার শিক্ষার্থীদের ডিজাইন করার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।”

শওকত হোসেন সোহেল; সাধারণ সম্পাদক AOPTB, (ম্যনেজার-ক্যাড, ইউনিফিল কম্পোসিট ডায়িং মিলস লিমিটেড)। বলেন- All Over Printing Technologists of Bangladesh প্রতি মাসে AOP এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টপিক এর উপর AOP Industrial Expert দের নিয়ে সেমিনার/ওয়ার্কশপ করে থাকে । আমাদের প্রতিটি সেমিনার হতে একটা সংকটের কথা উঠে আসে । আর টা হল All Over Printing sector এ চারুকলার শিল্পীরা কেন এই সেক্টরে আসেনা ? এই সেক্টরে Academic/Creative Designer দের অনেক অভাব রয়েছে । আর সেই লক্ষ্যে আমি প্রথম জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ছাত্র/ছাত্রীদের নিয়ে “ How to make a Textile Printing Design ” এর উপর ৩ মাস ব্যপী একটা ওয়ার্কশপ করি । সেখান হতে ইতিমধ্যে All Over Printing sector এ বেশ কয়েক জন চারু শিল্পী জব করছে । আমি ব্যক্তিগত ভাবে চাই টেক্সটাইল সেক্টরের সাথে চারুকলা বিভাগের একাটা সেতুবন্ধন তৈরি হউক । আর সেই লক্ষ্যে আমি কাজ করে যাচ্ছি । আনন্দের বিষয় হল -আমার সাথে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও টেক্সটাইল সংগঠন একমত প্রকাশ করেছেন এবং কাজ করছে ।

সর্বোপরি প্রায় তিন ঘন্টার এই সেমিনারে চারুকলার শিক্ষার্থীদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা অতিথিদের বিভিন্ন প্রশ্ন করেন এবং টেক্সটাইল অল ওভার প্রিন্টিং এ নিজেদের গুরুত্ব বুঝতে পারে। সকলেই টেক্সটাইল সেক্টরে নিজেদেরকে প্রকাশ করার ইচ্ছা পোষন করেছেন। এছাড়া আলোচনার পরিশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি উঠে আশে সেটি হল আমরা ৬ মাস পর পর একটা জব ফেয়ার এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আমরা কিছু টেস্টের মধ্যদিয়ে তাঁদেরকে চাকরীর সুযোগ করে দিতে পারি।এতে করে উভয় পক্ষই লাভবান হবে।

সেমিনারটিতে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স সোসাইটি, টেক্সটাইল টুডে, টেক্সটাইল ফোকাস, বনিক বার্তা,  বুনন ।

লিখেছেন:

শর্মিষ্ঠা রায়

ড্রইং এন্ড পেইন্টিং

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়,

ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here