টেক্সটাইল বর্জ্য পুনর্ব্যবহার

0
460

আমাদের সকলেরই টেক্সটাইল শিল্প সম্পর্কে কমবেশি ধারণা আছে । টেক্সটাইল শিল্প বিশেষত আমাদের বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্ত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করছে । টেক্সটাইল শিল্প বিশ্বব্যাপী ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলারের ব্যাবসা এবং এই ট্রিলিয়ন ডলার এর শিল্প যে মিলিয়ন টন পরিমান বর্জ্য
উৎপাদন করে তাতেও সন্দেহ নেই । কি বিশ্বাস হচ্ছে না?ঠিক আছে, চলুন একটি উদাহরণ দেই। আপনারা জানলে অবাক হবেন যে, প্রায় ২০% বর্জ্য পানি টেক্সটাইল শিল্প দ্বারা উৎপাদিত হয় । যেমন ঃ এক কেজি তুলা উৎপাদনের জন্য ২০,০০০ লিটার পানির প্রয়োজন হয়। এছাড়া
মাত্র একটি টি-শার্ট এবং জোড়া জোড়া জিন্স তৈরি করতে 5000 গ্যালন পানির প্রয়োজন। গড় প্রতি একজন ব্যক্তির দ্বারা ফেলে দেয়া টেক্সটাইল বর্জ্যের গড় পরিমাণ প্রায় 37 কেজি । এসব কিছুই যথেষ্ট আমাদেরকে টেক্সটাইল রিসাইক্লিং বা পুনর্ব্যবহারযোগ্যতা এর গুরুত্ব সম্পর্কে বোঝাতে।

টেক্সটাইল বর্জ্য পুনর্ব্যবহারযোগ্যতা কি?
সহজ ভাষায় টেক্সটাইল রিসাইক্লিং বা টেক্সটাইলের পুনর্ব্যবহার হলো ফাইবার, সুতা বা ফ্যাব্রিক পুনরুদ্ধার এবং টেক্সটাইল উপাদানগুলিকে দরকারী পণ্যগুলিতে পুনরায় প্রসেস করার প্রক্রিয়া। আর এসব টেক্সটাইল বর্জ্য পণ্যগুলি বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং
তারপরে তাদের অবস্থা এবং পুনরায় বিক্রয় মানের উপর ভিত্তি করে সাজানো এবং প্রক্রিয়াজাত করা হয়।

টেক্সটাইল পূনর্ব্যবহার কেনো গুরুত্ত্বপূর্ন ?

তো আমরা এতক্ষনে জেনে গিয়েছি টেক্সটাইল রিসাইক্লিং সম্পর্কে । এখন আমরা জানবো টেক্সটাইল রিসাইক্লিং কেনো গুরুত্বপূর্ন ।
পরিবেশগত গুরুত্ত্বের দিক থেকে টেক্সটাইল পুনর্ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ন । কেননা , টেক্সটাইল পুনর্ব্যবহার গ্রিণ হাউজ গ্যাস এর উৎপাদন হ্রাস করতে পারে । কারণ মানুষ যখন পোশাক ফেলে দেয়, তখন এই কাপড়গুলি জমিতে ভেঙে যাওয়া বা মিশে যাওয়ার জন্য অক্সিজেনের অভাব হয়।
যখন তারা এটি পায় না, তখন তারা মিথেনের মতো গ্যাস তৈরি করে।
আবার, রিসাইকেল করা তুলা ব্যবহার করে আমরা প্রতি কেজি তুলার উপর ২০,০০০ লিটার জল সাশ্রয় করতে পারি। আবার রিসাইকেল হওয়া উপাদান পরিবেশ বান্ধব হয় ।
এছাড়া, প্লাস্টিকের আবর্জনার পরিমাণও হ্রাস পাবে । যেমন ঃ ইউরোপে প্রায় 50% পিইটি বোতল ফাইবার তৈরিতে ব্যবহৃত হয় ।
এটি হল পরিবেশগত গুরুত্ব ।
এখন আমরা জানবো টেক্সটাইল পুনর্ব্যবহারের অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে ।

টেক্সটাইল এর পুনর্ব্যবহার টেক্সটাইল রাসায়নিকের যেমন ডাই, ফিক্সিং এজেন্ট ইত্যাদির চাহিদা হ্রাস করে । এছাড়া, বর্জ্য কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করা হবে তাই কাঁচামাল কেনার জন্য কোনও খরচ নেই।
আবার, টেক্সটাইল পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে 95% পর্যন্ত টেক্সটাইল বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করা যায় যা মাটিতে যায়।

টেক্সটাইল রিসাইক্লিং এর জন্য বর্জ্যের উৎস ঃ

টেক্সটাইল পুনর্ব্যবহারের জন্য বেশিরভাগ উপাদান এর উৎসকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা যায় । যথা ঃ Pre-consumer or post-industrial waste; যা পোশাক, সুতা এবং ফ্যাব্রিক উৎপাদন থেকে তৈরি উপ-পণ্য এবং আরেকটি হলো
Post-consumer waste; যাতে গৃহস্থালীর আইটেম, পোশাক এবং অন্যান্য আইটেম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
যেসব টেক্সটাইলের পুনর্ব্যবহার বা রিসাইক্লিং করা হয় সেগুলো হলঃ সুতির(cotton) পুনর্ব্যাবহার, উলের(wool) পুনর্ব্যবহার, কার্পেটের পুনর্ব্যবহার,ব্যবহৃত কাপড়ের পুনর্ব্যবহার,নাইলন এবং নাইলন ফাইবারের পুনর্ব্যবহার,
পলিয়েস্টার এবং পলিয়েস্টার ফাইবারের পুনর্ব্যবহার ইত্যাদি।

টেক্সটাইল পুনর্ব্যবহার পদ্ধতিঃ

টেক্সটাইল শিল্প বিশ্বের অন্যতম দূষণকারী শিল্প কেননা এর উৎপাদন এর পাশাপাশি এর ব্যবহারও বর্জ্য তৈরি করে । সাধারনত টেক্সটাইল পুনর্ব্যবহার পদ্ধতি দুই ধরনের, যথাঃ
১। যান্ত্রিক পদ্ধতি ঃ এই পদ্ধতিটি টেক্সটাইল পুনর্ব্যবহার শিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। কেননা এটি সহজ,সস্তা এবং পরিবেশ বান্ধব প্রক্রিয়া ।
২। রাসায়নিক প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি ঃ রাসায়নিক প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি সাধারণত পলিথিলিন টেরেফথ্যালেট (পিইটি) এর মতো সিন্থেটিক ফাইবারগুলিতে ব্যবহৃত হয় । এই প্রক্রিয়াটি এখনও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় নি,
তবে এমন কিছু সংস্থা রয়েছে যারা গবেষণা এবং রাসায়নিক পুনর্ব্যবহার পদ্ধতি প্রয়োগ করছে।

পুনর্ব্যবহারযোগ্য টেক্সটাইল থেকে তৈরি পণ্যসমুহঃ
প্যাটাগনিয়া(Patagonia), এইচএন্ডএম(H&M), লিন্ডেক্স(LINDEX) ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে টেকসই কাপড় বিক্রি হয়। ফিনল্যান্ডে পোশাক কোম্পানী তাদের 95% বায়ু চালিত কারখানায় পুনর্ব্যবহৃত তন্তুগুলি থেকে টি-শার্ট তৈরি করে ।
পোশাক ছাড়াও, এজেটেপার(Egetæpper) নামক একটি ডেনিশ কার্পেট উৎপাদনকারী সংস্থা রিসাইকেলড ফিশনেটস(Fishnets) এর ফাইবার থেকে কার্পেট তৈরি করে থাকে ।
তথ্যসুত্রঃ Wikipedia, edgexpo.com,Textile Blog etc

Writer’s Information :
Mohamad Mohiminul Pritom
Department of Textile Engineering(Batch-211)
Green University Of Bangladesh
Contact : [email protected]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here