ডিপার্টমেন্ট রিভিউ–ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি।

0
1031

মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে খাদ্যের পরেই বস্ত্রের স্থান। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ নিজের লজ্জাস্থান সংবরণের জন্য গাছের ছাল, লতা-পাতা ও মৃত পশুর চামড়া ব্যাবহার করতো। কালের পরিক্রমায়, মানুষ ফাইবার বা তন্তু থেকে সুতা আবিষ্কার করে সেই সুতা থেকে উৎপন্ন করে বস্ত্র। আর এই বস্ত্র থেকেই উৎপন্ন করে পরিধেয় পোশাক। আস্তে আস্তে যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের রুচির ও পরিবর্তন হয়। তারা নিজেদের অহমিকা প্রকাশের জন্য ও বস্ত্রের ভিন্ন ধরনের ব্যাবহার শুরু করে।

মানুষের এই বস্ত্র উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়াটিই টেক্সটাইল। বর্তমান বিশ্বের ক্রমবর্ধমান ও সম্ভাবনাময়ী শিল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম টেক্সটাইল শিল্প। প্রযুক্তির এই যুগে যে কয়েকটি পেশায় সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে তার মধ্যে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অন্যতম। চাহিদানুসারে এই পেশায় দক্ষ জনবলের সংখ্যা অনেক কম।বাংলাদেশে এই শিল্পটি অতি দ্রুত গতিতে বিকশিত হচ্ছে। উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই বিশ্ব মানের টেক্সটাইল শিল্পের কাতারে পৌছে গেছে। আর এই টেক্সটাইল সেক্টরকে আরো বেগবান করার লক্ষ্যে, চালু করা হয় টেক্সটাইল সম্পর্কিত শিক্ষাব্যাবস্থা, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে মধ্যম পর্যায়ের প্রকৌশলী তৈরীর লক্ষ্যে চালু করা হয়, তিন বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী। পরবর্তীতে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এই ডিগ্রীর মেয়াদ তিন বছর থেকে চার বছর করা হয়।

বাংলাদেশের যেসব সরকারি ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী প্রদান করা হয়ঃ

  1. Textile Institute, Tangail
  2. Textile Institute, Dinajpur
  3. Shahid Abdur Rab Serniabat Textile Institute, Barishal
  4. Textile Institute, Chattagram
  5. Textile Institute, Rangpur
  6. Textile Institute, Natore
  7. Textile Institute, Khulna
  8. Bangladesh Handloom Education & Training Institute, Narshingdi

এইগুলো ছাড়া দেশের প্রায় সকল বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটেও ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ রয়েছে।

ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী সম্পন্ন করার পর অনেকেই উচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে চায়। তাদের জন্য বাংলাদেশের তিনটি প্রতিষ্ঠানে সরকারি ভাবে বি. এস. সি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী নেয়ার সুযোগ রয়েছে
প্রতিষ্ঠান গুলো হলোঃ

  1. Dhaka University of Engineering & Technology – DUET, Gazipur.
  2. Bangabandhu Textile Engineering College – BTEC, Tangail. affiliated by BUTEX
  3. Bangladesh Handloom Education & Training Institute – BHETI, Narsingdi. affiliated by BUTEX

এছাড়াও দেশ বিদেশের বহু প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়ার ও সুযোগ রয়েছে।

সরকারি চাকুরীর সুযোগঃ অনেকেই মনে করে টেক্সটাইলে বুঝি সরকারি চাকুরীর সুবিধা কম।জেনে অবাক হবে যে এখানেও ধারনার পুরো উল্টো ঘটেছে। আপনাদের জন্যে কিছু সরকারি চাকুরির ক্ষেত্র তুলে ধরলাম। তবে এইগুলোতে নিয়োগ খুব কম হয়।
1.BJMC
2.BJRI
3.IJSC
4.BGMEA
5.BKMEA
6.FBCCI
7.EPB
8.EPZA
9.EPZ
10.DOT
11.MOT
12.BTEB
13.BTMC
14.Bank
15.University ( উচ্চ শিক্ষা প্রযোজ্য)
16.College

এছাড়াও বাংলাদেশে রয়েছে ছোট বড় মিলিয়ে ৫০০০+ টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি। প্রতিটি ইন্ডাস্ট্রিতে যদি নূন্যতম ২০ জন ইঞ্জিনিয়ারও প্রয়োজন হয় তাহলে ভেবে নাও তোমার চাকুরির স্কোপ কতটুকু।

বেতন বৃত্তান্তঃ একজন ট্রেইনি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ১২-১৫হাজার টাকায় চাকুরী শুরু করলেও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ৫/৬ বছর পরই একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের বেতন ৩৫ হাজার + হয়ে যায়।
যারা উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে তাদের হিসেব আলাদা। বাংলাদেশের বহু ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে দেশের বহু সনামধণ্য ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

ভর্তি যোগ্যতাঃ সরকারি ইনস্টিটিউটের ক্ষেত্রে, যারা ম্যাথম্যাটিকস অথবা হায়ার ম্যাথে 3.00 সহ 3.50 পেয়ে মাধ্যমিক পাশ করেছে তারা ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। আবেদনকারীদের মধ্য হতে সর্বোচ্চ জিপিএধারীদের ভর্তীর সুযোগ প্রদান করা হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা করা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত তা নিয়ে লিখবো পরের পর্বে।

Writer
Mahfuj Hasan Shakib
Diploma in Textile Engineering
BHETI- Narshingdi

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here