Home Technical Textile নতুন রূপে ঘৃতকুমারী

নতুন রূপে ঘৃতকুমারী

ঘৃতকুমারী নামটি শুনলেই মনে হবে যেন কোন রূপবতী গুনবতী কুমারীর কথা বলা হচ্ছে, তবে এটি কোনো কুমারী নয় বরং একটি রসালো উদ্ভিদ যা আমাদের কাছে সচরাচর অ্যালোভেরা নামে পরিচিত। এই গাছটি দেখতে ক্যাক্টাসের মতো। এটি বেশীরভাগ সময় ভেষজ উদ্ভিদ হিসেবে পরিচিত। এই ঘৃতকুমারীতে রয়ছে ২০ রকমের খনিজ। মানবদেহের জন্য যে ২২টা এমিনো অ্যাসিড প্রয়োজন এতে বিদ্যমান। এছাড়াও ভিটামিন A, B1, B2, B6, B12, C এবং E রয়েছে। এর পাতার রস যকৃতের জন্য উপকারী। ঘৃতকুমারীর পাতার শাস বেঁটে ফোঁড়ায় লাগালে যন্ত্রণা কমে যাবে। ইহা ত্বকের জন্য অনেক উপকারী। ত্বকের দাগ,ব্রণ, এবং শুষ্কতা দূর করতে অনেক কার্যকরী। এটি ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণ করে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে এবং রক্তে অক্সিজেন বহন করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। অ্যালোভেরা হজমশক্তি বৃদ্ধিতে অ্যালোভেরা জুসের জুড়ি নেই। এটি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে অন্ত্রে প্রদাহ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া রোধ করে, যা হজমশক্তি বাড়িয়ে থাকে।

যাইহোক এই ঘৃতকুমারীর গুনাগুণ বলে শেষ করা যাবে না। এই উদ্ভিদে শতকরা ৯৬ ভাগ পানি বিদ্যমান এবং এই গুনাগুণের জন্যেই এটি পোশাক শিল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে। ঘৃতকুমারী দিয়ে কাপড় তৈরি করলে যে কাপড় পাওয়া যায় তা চর্মের বয়স বৃদ্ধি রোধ করে, ত্বকের সজীবতা বজায় রাখে এবং চর্মকে অণুজীবের আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। Micro Encapsulation পদ্ধতিতে ঘৃতকুমারীর তন্তু তৈরি করা হয়। যা দিয়ে অসীম সম্ভাবনার পোশাক তৈরি সম্ভব। ঘৃতকুমারীকে এক ধরনের ক্যপসুলে নিয়ে পলিমার কোটিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন পদক্ষেপ পার করে তন্তু, সুতা, কাপড় এবং অবশেষে পোশাক তৈরি করা হয়। কাপড় থেকে যখন পোশাক সেলাই করা হয় তখন ও ক্যপসুলগুলো অক্ষত থাকে। তবে পোশাক পরিধান করার পর যখন শরীরের সাথে ঘষা লাগে তখন ক্যপসুলগুলো ভেঙে ঘৃতকুমারী নিঃসরণ হয়। এতে করে ঘৃতকুমারীর রস পোশাক থেকে বের হয়ে চর্মে লেগে চর্মকে সুস্থ ও সুন্দর রাখে।
এই ধরনের ঘৃতকুমারীযুক্ত কাপড় দিয়ে সাধারণত Innerwear বা ভিতরে পরার পোশাক তৈরি করা হয় যাতে তা শরীরের সংস্পর্শে আসে। চর্মকে ভালো রাখা ছাড়াও এটি শরীর গরম রাখে, বাজে গন্ধ শোষণ করে এবং ফাংগাস থেকে রক্ষা করে। এই ধরনের কাপড় দিয়ে বাচ্চাদের পোশাক, মোজা, গেঞ্জি তৈরি করা হয।

সেই দিন আর এখন নেই যে, মানুষ পোশাকের রং, দাম বা কতটা স্থায়ী হবে তা দেখে ক্রয় করে। এখন সচেতন মানুষরা পোশাকটি কতটা পরিবেশবান্ধব উপায়ে তৈরি হয়েছে তা দেখে। ভবিষ্যতে এমন ও দিন আসবে যখন মানুষ এমন পোশাক খুঁজবে যা পরলে আলাদা করে লোশন বা ক্রীম মাখতে হবে না অর্থাৎ পোশাকই চর্মকে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে সক্ষম হবে। এটাই হবে sustainable textile এর অন্যতম উদাহরণ।

ঘৃতকুমারীর তন্তু হচ্ছে ১০০% জীবাণুবিয়োজ্য বা biodegradable এবং পুনরায় ব্যবহারযোগ্য। এর বাহ্যিক এবং রাসায়নিক গুনাগুণ সুতি কাপড়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই কাপড়ের তৈরি পোশাক শীতের সময় শরীরকে গরম রাখে এবং গরমকালে শরীরকে ঠান্ডা রাখে।

AFSANA FERDOUS.
AUST 34TH BATCH.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Post

Most Popular

Related Post

Related from author