Select Page

পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ এবং জ্বালানী সংকট

পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ এবং জ্বালানী সংকট

আমাদের টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি বর্তমান সময়ে যে সমস্যায় বেশি জর্জরিত তা হচ্ছে জ্বালানী সংকট। বৈশ্বিক জলবায়ু দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। নগরায়ন ও শিল্পায়ন এর কারণে বন হ্রাস পাচ্ছে এবং সমুদ্রের স্তর উপরে উঠছে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং গ্লোবাল ওয়ার্মিং বিশ্বের অন্যতম আলোচ্য দুটি বিষয়। জীবাশ্ম জ্বালানী, পরিবর্তিত বৈশ্বিক জলবায়ুর অন্যতম শীর্ষ একটি কারণ। অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির মজুদ ব্যাপকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। আর এটির প্রভাব পড়ছে আমাদের টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির উপরে। আমদানিকৃত তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দামের বিষয়ে অনিশ্চয়তা এবং শিল্প খাতে চলমান গ্যাসের ঘাটতি দেশের প্রাথমিক বস্ত্র শিল্পে বিনিয়োগকে মারাত্মকভাবে বিপদে ফেলেছে।

টেক্সটাইল শিল্পের জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস এবং বিদ্যুতের সরবরাহ জরুরি,কারণ সঠিক পাওয়ার সাপ্লাইয়ের অভাব আমাদের প্রাথমিক বস্ত্র শিল্পের মানকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে। ভাল করেই আমরা জানি যে, একটা ইন্ডাস্ট্রিকে চালাতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ এর নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ কতটা জরুরী। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, নতুন গ্যাস সংযোগও অনির্দিষ্টকালের জন্য পাওয়া যাচ্ছে না। কারখানাগুলিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে আলাদা করে জেনারেটর স্থাপন করতে হচ্ছে। ফলস্বরূপ,নতুন বিনিয়োগকারীরা প্রাথমিক টেক্সটাইল খাতে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যখন গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির কারণে বিদ্যমান ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়ছেন।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) এর মতে, “গত দুই বছরে গ্যাসের দাম কল্পনাতীত হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তার উপরে সরকার এলএনজি আমদানি করতে চলেছে। আর এইখানে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে যে, “যদি আমদানিকৃত গ্যাসের মূল্য আমাদের স্থানীয় সরবরাহের চেয়ে ব্যয়বহুল হয়, তবে এটি শিল্পকে আরও সমস্যায় ফেলে দিবে। স্পিনিং ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা আরও করুন হবে। বিটিএমএ এর ১,৫০০ প্রতিনিধিত্বকারী সদস্যের মধ্যে গত ৫ বছরে ১৭ টি নতুন ফ্যাক্টরি প্রোডাকশন শুরু করেছে। এগুলোর মধ্যে এর মধ্যে ১০ টি স্পিনিং মিল, ৫ টি উইভিং মিল আর বাকি ২ টি এখন বন্ধ হওয়ার পথে।

জ্বালানীর দাম বৃদ্ধির কারনে, কারখানার উৎপাদন ব্যয় গত বছরের তুলনায় ২২ কোটি টাকা বেড়েছে। মিলের মালিকরাও, আমদানিকৃত এলএনজির ভবিষ্যতের মূল্যসীমা সম্পর্কে বিভ্রান্ত, কারণ এখনও এ বিষয়ে কোনও ধরণের তথ্য মালিকপক্ষ পায়নি। জ্বালানী সংকট এবং এর ঊর্ধ্ব-গতির কারনে, প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পে যদি কোনও বিরূপ প্রভাব পড়ে থাকে তাহলে অ্যাপ্পারেল মানুফেকচারারদের আরও বেশি দাম দিয়ে অন্যান্য দেশ থেকে কাঁচামাল কিনতে হবে।

বিদ্যুৎ এর ক্ষেত্রেও ঠিক একইরকম হতাশা। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) এর বেশিরভাগ সদস্য কারখানাগুলি তাৎক্ষনিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ক্যাপটিভ জেনারেটর ব্যবহার করে যার জন্য কারখানার মালিকদের জন্য গ্যাস বা ভারী ফার্নেস অয়েল (এইচএফও) প্রয়োজন। তবে পুরানো বিদ্যুত জেনারেটরগুলি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে বেশি জ্বালানী এবং গ্যাস খরচ করে তাই কারখানার মালিকরা বিদ্যুতের সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে নতুন প্রযুক্তি খুঁজছেন।

About The Author

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




Grow up your business

TextileEnginerrs










March 2020
MTWTFSS
« Feb  
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031