ফ্যাব্রিক ইন্সপেকশনে “10 point system”

0
1363

ফ্যাব্রিক ইন্সপেকশন আমাদের টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিতে একটি বহুল ব্যবহ্রত ফেব্রিকের কোয়ালিটী পরিমাপক হিসেবে বিবেচিত। যে কোনও পোশাকের গুনগত মানের সাথে ফ্যাব্রিকের মান সরাসরি সম্পর্ক থাকে। আপনি যদি ভালো মানের পোশাক উৎপাদন করতে চান আপনাকে অবশ্যই ভালো মানের দ্রব্য সামগ্রীর প্রয়োজন হবে। তাই আপনাকে কাপড় কেনার পুর্বেই কাপড়ের গুনগত মান অবশ্যই ভালভাবে যাচাই করে নিতে হবে। নয়তো আপনার কারনে আপনার ফ্যাক্টরিতে অনেক টাকার ক্ষতির সম্মুক্ষিন হতে পারে।

ভোক্তাকে চূড়ান্ত মানের পণ্য সরবরাহ করার জন্য এটি গার্মেন্টস উৎপাদনকারীদের পাশাপাশি পোশাক প্রস্তুতকারকদেরও দায়িত্ব। তাই এই ক্ষতি এড়ানোর জন্য ফেব্রিকগুলো ফ্যাক্টরি থেকে পোশাক প্রস্তুতকারী ফ্যাক্টরিতে আসার পরে ফ্যাক্টরিতেই ইন্সপেকশন করা হয়ে থাকে। এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতেই পারে “ইন্সপেকশন” আবার কি? ইন্সপেকশন হচ্ছে কোনো Raw materials বা finish product গুলোকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করার একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতি। ফেব্রিক ইন্সেপেকশন হচ্ছে পোশাক তৈরির পূর্বেই ফেব্রিক এর ত্রুটি খুঁজে বের করা। তারপরে ফ্যব্রিকটির গ্রহণ যোগ্যতা বা রিজেক্ট করা হবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

ফ্যব্রিক ইন্সেপেকশনের কিছু প্যারামিটার:

১। ইন্সপেকশন স্থানে পর্যাপ্ত আলো ও বায়ু চলাচল এর ব্যাবস্থা থাকতেই হবে
২। ইন্সপেকশন মেশিনের ফ্রেমটি দাঁড়ানো লোকটির সাথে ৪৫˚-৬০˚ ডিগ্রি কোনে বাকানো থাকে সেই দিকে লক্ষ রাখতেই হবে, এতে কাপড়টি পরীক্ষা করতে সুবিধা হবে।
৩। ইস্পেকশন মেশিনের টেবিলের উপড়ে F96 Fluorescent বাল্ব ব্যবহার করতে হবে। Back Light ব্যবহার করলে আরও ভালোভাবে পরীক্ষা করতে পারবেন।
৪। ফেব্রিক ট্রান্সফার স্পিড প্রতি মিনিটে ১৫ গজ বা তারচেয়েও কিছুটা কম হলে ভালো হবে।
৫। যত গুলো ত্রুটি পাওয়া যাবে সব কিছু একটি নোট এ লিপিবদ্ধ করে নিতে হবে।

ফ্যাব্রিক ইন্সেপেকশনের এর পদ্ধতির সমূহ: ফ্যাব্রিক ইন্সেপেকশনের জন্য অনেক গুলো পদ্ধতি রয়েছে।

১। 4- point system
২। 10- point system
৩। 2.5- point system
৪। Graniteville “78” system

আজকে 10 Point System নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে –

সুইং ফ্যাক্টরিতে ফ্যাব্রিক আসার পরে প্রাথমিক ভাবে ১০ ঘন্টার মত রেখে দেওয়া হয়। তারপর কোয়ালিটি অফিসারগন ফ্যাব্রিককে ইন্সপেকশন করার জন্য পাঠিয়ে দেন। এখানেই “10 point system” ব্যবহার করা হয় যা কিনা ৫০ এর দশক থেকেই ব্যবহ্রত হয়ে আসছিল। এই পদ্ধতিটি ফেব্রিকের দৈর্ঘ্যে এবং প্রস্থে বিদ্যমান ত্রুটির উপর ভিত্তি করে করা হয়। প্রতিটি ত্রুটির জন্য নির্দিষ্ট পেনাল্টি পয়েন্ট রয়েছে। বিভিন্ন সাইজের ত্রুটির জন্য বিভিন্ন মানের পেনাল্টি পয়েন্ট নির্ধারিত হয়।

কতটুকু ত্রুটির জন্য কত পেনাল্টি বরাদ্দ রয়েছে তার তালিকা দেওয়া হলো:

No description available.

ক্যাটাগরি নির্বাচন:

১) “10 point system” এ ওয়ার্প এবং ওয়েফট এর ত্রুটিগুলি আলাদা আলাদা ভাবে পরিক্ষা করতে হয়।
২) “10 point system” এ উপরের তালিকা আনুসারে, ১০০ গজ ফ্যাব্রিকে যদি ১০০ পয়েন্ট পেনাল্টি অতিক্রম করে তবে ফ্যাব্রিকটি রিজেক্ট বলে গন্য করা হবে।
৩) ১০০ গজ ফ্যাব্রিকে যদি পেনাল্টি ৫০-১০০ পয়েন্ট এর ভিতরে থাকে তবে ফ্যাব্রিকটি “B” বা ২য় ক্যাটাগরি বলে গন্য করা হবে।
৪) ১০০ গজ ফ্যাব্রিকে যদি পেনাল্টি ০-৫০ পয়েন্ট এর ভিতরে থাকে তবে ফ্যাব্রিকটি “A” বা ১ম ক্যাটাগরি বলে গন্য করা হবে।

এভাবেই কেটাগরি বের করে “10 point system” এ ফ্যাব্রিক ইন্সপেকশন করা হয়।

Writer Information:

Name: Shawon Saha
Institute: Primeasia University
Department of Textile Engineering.
Batch: 201
E-mail: [email protected]
Phone No: 01575204062



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here