Home Fabric বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ফেব্রিকঃ ভিকুনা ফেব্রিক

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ফেব্রিকঃ ভিকুনা ফেব্রিক

সভ্যতার সূচনা লগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ফাইবার এর নাম শুনে এসেছি আমরা। সে সব ফাইবার থেকে হয়ে থাকে বিভিন্ন ধরনের পোশাক। কখনও কি মাথায় এসেছে এমন যে পৃথিবীর সবচেয়ে দামী কাপড় কোনটি? কোন ফাইবার দিয়ে তৈরি হয় সেই কাপড়? কৌতুহলী মনে এমন প্রশ্ন আসা অস্বাভাবিক কিছু নয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক বিশ্বের সবচেয়ে দামী ফেব্রিক সম্পর্কে…. 

বিশ্বের সবচেয়ে দামী ও আরামদায়ক কাপড় তৈরী করা হয় ভিকুনা ফাইবার থেকে। ভিকুনা পশম থেকে উৎপাদিত পোশাক জগদ্বিখ্যাত “কাশ্মীরি শাল” থেকেও বহুগুণে দামী এবং আরামদায়ক। 

ভিকুনা কি?

ভিকুনা হলো একধরনের প্রাণী। এরা দেখতে উটের মতো। দক্ষিণ আমেরিকার স্বল্প কয়েকটি দেশে যেমন চিলি, আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, পেরু প্রভৃতি দেশে এদের দেখতে পাওয়া যায়। ক্যামিলিড পরিবারের প্রাণীদের মধ্যে ভিকুনা সবচেয়ে ছোট এবং মায়াবী গঠণের হয়ে থাকে। এর দৈর্ঘ্য ৫ সে.মি. বা ২ ইঞ্চি। এই প্রাণীটির দেহের উপরিভাগ কমলা এবং নিম্নভাগ সাদা পশম দ্বারা আবৃত। ভিকুনার একটি পশম মানুষের চুলের চেয়ে আটগুণ বেশি চিকন হয়ে থাকে। এদের দেহের পশমগুলো উষ্ণ প্রকৃতির হয়ে থাকে, যা এদেরকে পর্বতের ঠান্ডা আবহাওয়া থেকে রক্ষা করে।

ভিকুনা থেকে উৎপাদিত পোশাকঃ

যেহেতু ভিকুনার পশমগুলো উষ্ণ প্রকৃতির হয়ে থাকে তাই ভিকুনা থেকে সাধারণত শীতকালীন পোশাক তৈরি করা হয়। যেমনঃ

  • স্যুট-কোট
  • সোয়েটার 
  • মাফলার
  • শাল
  • ওভারকোট
  • হ্যাট
  • নীটওয়্যার

ভিকুনা ফেব্রিকের বৈশিষ্ট্যঃ

০১) এটি উষ্ণ ও মোলায়েম হয়ে থাকে।
০২) পানি ধারণক্ষমতা কম।
০৩) পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না।
০৪) তাপমাত্রা সংবেদনশীল। 
০৫) বায়োডিগ্রেডেবল বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন।
০৬) ভিকুনা থেকে তৈরি পোশাক ওজনে হালকা হয়ে থাকে।

ভিকুনা ফেব্রিকের বাজারমূল্যঃ

ভিকুনা থেকে উৎপাদনকৃত পোশাক উষ্ণ ও মোলায়েম হয়ে থাকে, যা শীতকালে পরিধানযোগ্য। এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে দামী কাপড় বলা হয়। অবাক হচ্ছেন! ভাবছেন এর দাম কতো? চলুন জেনে নিই ভিকুনা ফেব্রিকের বাজারমূল্য… 

ওয়াল স্ট্রেট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, ভিকুনার পশম থেকে দিয়ে তৈরি একেকটি কোটের মূল্য ২১ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকার সমান। ভিকুনা পশম থেকে তৈরি একেকটি মাফলারের দাম গড়ে ৪ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার সমান। এক কেজি ভিকুনা সুতার মূল্য ৬৯০ ডলার, বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ৫৮ হাজার টাকা। 

এখন নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন কেনো ভিকুনা ফেব্রিককে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ফেব্রিক বলা হয়।

ভিকুনা ফেব্রিক দামী হওয়ার কারণঃ

ভিকুনা ফেব্রিক দামী হওয়ার প্রধান কারণ এর দুর্লভতা। এই ভিকুনা প্রাণীটিকে সহজে পাওয়া যায় না। আবার এদেরকে আবদ্ধ জায়গায় লালন পালন করা (ফার্মিং করা) যায় না। এরা প্রকৃতির আপন নিয়মে বেড়ে উঠে। একটি ভিকুনার দেহে বছরে মাত্র এক পাউন্ড পরিমাণ পশম তৈরি হয় এবং প্রতি তিন বছরে মাএ একবার এদের দেহ থেকে পশম সংগ্রহ করা যায়। একদিকে ভিকুনার দুর্লভতা, অন্যদিকে পশম সংগ্রহে দীর্ঘ সময় লাগা, সেইসাথে এই ফাইবার থেকে উৎপাদনকৃত পোশাক আরামদায়ক এবং গুণাগুণ মান ভালো হওয়া আর এইসবকিছু মিলিয়ে ভিকুনা ফেব্রিক পরিণত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ফেব্রিকে। 

ভিকুনা ফেব্রিক পোশাকশিল্পের আভিজাত্য। দিন দিন  ভিকুনা প্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় এই ফেব্রিকটির উৎপাদন কমে যাচ্ছে। ভিকুনা ফেব্রিকের উৎপাদন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার জন্য ভিকুনা প্রাণীদের আবাসস্থল, খাদ্যগ্রহণ সুনিশ্চিত, সুষ্ঠু প্রজনন প্রক্রিয়া এইসব বিষয়ের উপর আমাদের নজর দিতে হবে। প্রাণীটির সুষ্ঠু প্রজনন এবং স্বাভাবিক বেড়ে উঠা নিশ্চিত করতে পারলে এই প্রাণীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে ভিকুনা ফেব্রিক একটি সম্ভাবনাময় শিল্পে পরিণত হবে।

তথ্য ও ছবিঃ

  • উইকিপিডিয়া
  • গুগল
  • ইউটিউব 

Writer’s Information :
Rejaul Karim Mojumder 
NITER 10th batch 
Department of Textile Engineering 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Post

Most Popular

Related Post

Related from author

error: Content is protected !! Don\\\\\\\\\\\\\\\'t Try to Copy Paste.