Home Traditional Textile বোহেমিয়ান কালচার ও ফ্যাশন

বোহেমিয়ান কালচার ও ফ্যাশন

‘বোহেমিয়া’ চেক প্রজাতন্ত্রের একটি অঞ্চল। এঅঞ্চলের মানুষ যাযাবর ও প্রায় অসম্পূর্ণ জীবন-যাপন করে।
এরা জিপসি ও রোমানি নামে পরিচিত গোষ্ঠী যাদের ‘বোহেমিয়েন্স’ বলা হয়। আর এদের থেকেই ‘বোহিমিয়ান’ শব্দটি এসেছে। ‘বোহিমিয়ান’ শব্দের অর্থ ভবঘুরে অর্থাৎ উদাসীন,ঘুরে বেড়ায়,পিছুটান নেই এমন। মুক্তমনা শিল্পী,লেখক,বুদ্ধিজীবী কিংবা ব্যক্তি যারা তাদের নিজস্ব নিয়ম অনুসারে বাস করেন এবং প্রায়শই সামাজিক স্টাইলের দিকনির্দেশনা মেনে চলেন না তাদেরকে ‘বোহেমিয়ান’ বলে। এদের লাইফস্টাইলকে বলা হয় ‘বোহেমিয়ানিজম’। এতে সংগীত, শৈল্পিক,সাহিত্যিক বা আধ্যাত্মিক সাধনা জড়িত।

‘বোহেমিয়ান’ নান্দনিকতার মূল বিষয়টি ব্যক্তিগত স্বচ্ছন্দ, যা অন্য কোন মানুষের উপভোগের জন্য নয় কেবল মাত্র ব্যক্তির নিজস্ব। বোহেমিয়ানরা সামাজিকতাকে উপেক্ষা করে তাদের জীবনকে শিল্পের কেন্দ্রবিন্দু করে তোলে ১৯ শতকে, আর এদের এই নান্দনিক আন্দোলনই তাদের বোহেমিয়ান এ পরিণত করে। আর এদের ভিন্টেজ ফ্যাশন ট্রেন্ড হলো ‘বোহো’ , যা ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে এসেছে। বোহেমিয়ান স্টাইলটি সাধারণত আলগা,রঙিন পোশাক নিয়ে গঠিত এবং বোহো চিক,হিপ্পি স্টাইল এবং নান্দনিক পোশাক হিসেবে গৃহীত। তবে ২০ শতকে পশ্চিমা ফ্যাশন ডিজাইনাররা তাদের পোশাকের ডিজাইনে নতুনত্ব ও ভিন্নতা আনতে বিভিন্ন ধরনের জাতিগত নকশা তৈরি করেছিলেন যেমন: রাশিয়ান কৃষক পোশাক, মধ্য ইস্টেম ও প্রাচ্যের বিভিন্ন ঐতিহাসিক উপাদানগুলোর ব্যবহার বোহেমিয়ান ধারণাটিকে উচ্চ ফ্যাশনে পরিণত করে। যা শেষ পর্যন্ত মূলধারার ফ্যাশনের সাথে মিশে যায়। এভাবে বহু বছর ধরে অপরিবর্তিত বোহেমিয়ান স্টাইলটি প্রজন্মের বস্তুবাদী সংস্কৃতি থেকে নিজেকে দূরে রাখার প্রচেষ্টায় তরুণদের সাথে যুক্ত হয়েছে, আর এর ফলে এই স্টাইলটি আরো মুডি কাউন্টার সংস্কৃতি শৈলীর জন্ম দিয়েছে। এভাবে বিটনিকস তাদের কালো টার্টল নেক ও স্ট্রাইপযুক্ত শার্টের মাধ্যমে কড়া অ্যাটিটিউড ফ্যাশন স্টাইল যুক্ত করেছে পোশাকে, হিপ্পি স্টাইল রাখাল-বালকদের শৈশবের সাথে সম্পর্কিত এবং পাশাপাশি ভারতীয় স্টাইল যা গার্লিশ স্কার্টকে অন্তর্ভুক্ত করে।

পরবর্তীতে গণমাধ্যমগুলো এই ফ্যাশনকে সাদরে গ্রহণ করে নেয়। তবে এখনো পর্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় হলো এটির মূল ধারা পৃথিবীর সব সংস্কৃতির বিপরীত তবুও বোহেমিয়ান ধারাটি রয়েছে অপরিবর্তনীয়।

Writer Information:
Tazim Sultana Nandita
Ahsanullah University of Science and Technology (AUST)
Department of Textile Engineering (Batch-40)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Post

Most Popular

Related Post

Related from author