শার্টের এ টু জেড

0
465

শার্ট মানুষের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিধেয় বস্ত্র। শার্ট (shirt) ঊর্ধাঙ্গের পরনের একটি পোশাক। যুগ যুগ ধরে এটি মানুষের অত্যন্ত প্রিয় বস্ত্র। অফিসের নির্ধারিত পোশাক থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের ইউনিফর্ম সব জায়গায়তেই শার্টের অবস্থান অগ্রগণ্য। কিন্তু আমরা খুব কম জনই আছি যারা কিনা এই বস্ত্রের ইতিহাস এবং বিবর্তন সম্পর্কে জানি। হ্যাঁ, আজ ঠিক এই নিত্যদিনের অতীব প্রয়োজনীয় বস্ত্রকে নিয়ে আমার এই লিখনী।

ইতিহাস অনুযায়ী সবথেকে পুরনো যে সময় শার্টের উল্লেখ করা হয়েছে তা আনুমানিক ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে। প্রাচীন মিশরে লিনেন কাপড়ের তৈরি শার্টটি এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া শার্টের মধ্যে সর্বাধিক পুরোনো। তবে এটা বলতেই হয় যে, আজ থেকে প্রায় ৫০০০ বছরের পুরনো শার্টটি বর্তমান শার্টের মতো মোটেই ছিল না। এতোগুলা বছরে শার্টের গড়নে পরিবর্তন এসেছে বহুবার। তবে এটাও সত্যি যে, গত অর্ধশতক সময়ে শার্টের তেমন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে নি।

শার্টের পরিবর্তনের মূল অংশ জুড়ে রয়েছে হাতা ও কলার। শার্টের বিবর্তনের ইতিহাস অনুযায়ী ত্রয়োদশ থেকে পঞ্চদশ শতাব্দীর মধ্যে পৃথকভাবে হাতা যুক্ত হয় শার্টের সাথে। ঠিক সমসাময়িক সময়েই শার্ট যে কেবলমাত্র পুরুষদের পোশাক, এই ধারণা পরিবর্তন হতে থাকে। অর্থাৎ ঠিক ওই সময় থেকেই মেয়েদের শার্ট পরিধান চালু হয়।

পুরুষ এবং মহিলাদের শার্ট এর মধ্যে রয়েছে সামান্য পার্থক্য। আর তা হলো মহিলাদের শার্টের বোতাম হয় বাম দিকে। বোতামের পার্থক্যটা শুরু হয় মূলত ইউরোপীয় রেনেসাঁসের পর। ততকালীন সময়ে নারীরা নিজেরা শার্ট পরিধান করতেন না। তাদের শার্ট পরিয়ে দিতেন তাদের কাজের লোক এমনকি তারা বোতামও লাগিয়ে দিতেন। যেহেতু বাম দিক থেকে বোতাম লাগিয়ে দেয়া সহজ। তাই তখন থেকেই নারীদের শার্টের বোতাম বাম দিকে থাকতো। আর পুরুষরা নিজেরাই পরিধান করতো আর ডান দিক থেকে লাগানো যেহেতু সুবিধাজনক। সেই থেকে আজও এই নিয়ম মেনেই চলে আসছে।

এটি বলা হয়ে থাকে যে, শার্টের সবচেয়ে পরিবর্তনশীল অংশ হলো কলার। প্রথমদিকে শার্টে কোনো কলার ছিল না। এরপর পৃথকযোগ্য, লম্বা, হাই কলার আবার নিচু ও ফিক্সড কলার, এইরকম বেশ কয়েকটা ধাপের পরিবর্তন হয় শত বছর ধরে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তৃতীয় শতকে শার্টের গঠনে বিশাল পরিবর্তন আসে, সেটি হলো ফিক্সড কলার। ইংরেজি একটা প্রবাদ আছে দয়ালু মানুষ সম্পর্কে। প্রবাদটি হলো- “To give the shirt one’s back”। ধারণা করা হয় প্রবাদটির প্রচলন শুরু হয় দুই শতাধিক বছরেরও পূর্ববর্তী সময়ে।

অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুর সময় থেকেই শার্টকে প্রধান বস্ত্র হিসেবে ব্যাবহারের প্রচলন শুরু হয়। আজও যেমন সাদা শার্টকে ফরমাল পোশাক হিসেবে মনে করা হয় ঠিক তেমন ধারণা ঊনবিংশ শতাব্দীতেও ছিল। ঠিক সেই সময়ে শার্টকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা হতো- ১) স্পোর্টস শার্ট ও ২) লেবার শার্ট। সাদা ব্যতীত অন্য রঙের শার্টের ধারণা শুরু হয় ওই সমসাময়িক সময়েই। তখনকার সময়ে শার্টের কারিগর ছিলেন ছোট ছোট দর্জিরাই।

প্রাচীনকালে শার্ট তৈরি হতো মূলত লিনেন কাপড় দিয়ে। আর যেহেতু এটি ধনীদের ব্যবহার্য বস্ত্র হিসেবে পরিচিতি ছিল। তাই পরের দিকে এটি রেশম দ্বারাও তৈরি হতো। কৃত্রিম সুতা আবিষ্কারের পর, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে রেনন, নাইলনের মতো কাপড়ের ব্যবহার শুরু হয়। শার্টকে শুরুর দিকে আন্ডার গার্মেন্টস হিসেবে ব্যাবহার করা হতো, তাই এখনো কিছুটা তেমনটাই হয়ে থাকে। শার্টে বুক পকেটের প্রচলন শুরু হয় ১৯৬০ সাল থেকে। হাফ হাতা, ফুল হাতা শার্টের প্রচলন ওই সময়েই যাত্রা করে।

শত শত বছর আগে থেকে শার্ট আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাশনের অংশ হিসেবে পরিগনিত হচ্ছে। এখনকার রং-বেরঙের বাহারি শার্টের ইতিহাসটা বেশ সমৃদ্ধ। আজ যেন সেই সুপ্রাচীন কালের শার্টের চাহিদা দিন দিন ক্রমবর্ধমান।

কন্টেন্ট রাইটার-
শমিত কুমার প্রামানিক
ডিপার্টমেন্ট অফ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, ব্যাচ-৪০,
আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here