Monday, July 15, 2024
More
    HomeBusinessশিল্পোদ্যোগ এবং উদ্যোক্তা(Entrepreneurship & Entrepreneur)

    শিল্পোদ্যোগ এবং উদ্যোক্তা(Entrepreneurship & Entrepreneur)

    প্রতিটি মানুষই জন্মগতভাবে একজন উদ্যোক্তা

    -ড. মুহাম্মদ ইউনূস


    আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে Entrepreneurship যার বাংলা অর্থ হচ্ছে শিল্পোদ্যোগ।এটি হলো উৎপাদন প্রক্রিয়া ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান উপাদান। আর একটি পণ্য,দ্রব্য বা সংগঠন স্থাপনের প্রাথমিক উদ্যোগ যে গ্রহন করে তাকে উদ্যোক্তা বা ইংরেজিতে Entrepreneur বলা হয়।আবার অন্যভাবে বলা যায়, কোন একজন ব্যক্তি ঝুকির কথা মাথায় রেখে একটি নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ গ্রহন করে থাকে তাকে উদ্যোক্তা বা Entrepreneur বলা হয়।
    এবং একজন উদ্যোক্তা তার চিন্তাধারণাকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যে উদ্যোগ গ্রহন করে থাকে তাকে বলা হয় শিল্পোদ্যোগ বা Entrepreneurship ।
    *এবার একটু জেনে নেয়া যাক কিভাবে হওয়া যায় একজন সফল উদ্যোক্তা-

    ★সফল উদ্যোক্তাদের জীবনী পড়ার মাধ্যমে এবং তাদের জীবনীকে অনুসরণের করার মাধ্যমে সহজেই অনেক ধরনের মন্ত্র জানা যায় সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য।

    ★দেখা এবং শেখার মনমানসিকতা তৈরি করা কারণ কোন বিষয়ে যদি সঠিক জ্ঞান না থাকে সেক্ষেত্রে সফল হওয়া অসম্ভব। বিশেষ করে একজম সফল উদ্যোক্তা এবং পৃথিবীর সেরা ধনী বিল গেটস সকল উদ্যোক্তাদের ৫ টি বই পড়ার জন্য বলেছেন-

    1.Mindset: The New Psychology Of Success (Carol Dweck)
    2.Where Good Ideas Come From: The Natural History of Innovation (Steven Johnson)
    3.Business Adventures (John Brooks)
    4.Steve Jobs (Walter Isaacson)
    5.The Black Swan: The Impact of the Highly Improbably (Nassim Taleb)

    ★উদ্ভাবনী হয়ে উঠা।মাথায় রাখতে হবে ব্যবসার পরিবেশ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রূপে পরিবর্তন লাভ করে।আজকে যেই আইডিয়া বা কৌশল কাজ করছে তা হয়তো কাল নাও করতে পারে তাই প্রতিনিয়ত নতুন কিছু করার চেষ্টা করতে হবে।ভাবতে হবে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সেই অনুযায়ী ব্যবসার তাল মেলাতে হবে।যুগের সাথে এগিয়ে যেতে হবে।পৃথিবীতে অনেক ব্র‍্যান্ড আজ অকেজো হয়ে গিয়েছে শুধুমাত্র কিছু ভুল আর যুগের সাথে তাল না মেলাতে পাড়ার জন্য উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি Nokia মোবাইল ফোন একটা সময় ছিলো যখন সবার হাতে এই মোবাইল ফোন থাকতো কিন্তু যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন আনতে না পাড়ায় আজ এই ব্র‍্যান্ডটি প্রায় অকেজো হয়ে গিয়েছে বললেই চলে।

    তাই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলাটাও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    ★ঝুঁকি নেয়ার মনমানসিকতা রাখতে হবে এবং সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে জানতে হবে।একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য বড় গুণ হল, সে জানে কোন ঝুঁকি নিতে হবে এবং কোন ঝুঁকি নেয়া উচিত নয়।ঝুঁকি নেয়ার পূর্বে অবশ্যই কিছু বিষয় নিয়ে বিশ্লেষণ করতে হবে-

    *ঝুঁকি সনাক্ত করা।
    *নির্দিষ্ট ঝুঁকির জন্য সম্পদের দুর্বলতা মূল্যায়ন করা।
    *সম্পদের উপর সম্ভাবনা, আক্রমণের এবং ফলাফলের পরিমাণ নির্ধারণ।
    *ঝুঁকি কমানোর উপায় চিহ্নিত করা।

    ★নিজের লক্ষ্যকে দৃশ্যায়ন করতে হবে।যেমনঃ *আমি সফল উদ্যোক্তা হতে চাই।

    *গ্রাহকদের সঠিক, নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধান প্রদান করা যায় এমন বিষয়ের উপর কাজ করে সফল উদ্যোক্তা হতে চাই।
    তবে মূল কথা হচ্ছে স্বপ্ন আর লক্ষ্য পূরণের ধাপ গুলো দৃশ্যায়ন করতে হবে।

    ★মূলধনের উৎস নির্ধারন করতে হবে,একজন নতুন উদ্যোক্তা সাধারণত দুটি মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে-

    **আভ্যন্তরীণ উৎস: নিজস্ব তহবিল, পারিবারিক সঞ্চয়, আত্মীয়-স্বজন কিংবা বন্ধু-বান্ধবের সঞ্চয় ইত্যাদি।
    **বাহ্যিক উৎস: ব্যাংক ঋণ, সরকারি ঋণ, শেয়ার বাজার ইত্যাদি।
    তবে নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে মূলধনের উৎস নির্ধারনে কিছু বিষয়ে লক্ষ্য রাখা জরুরী। যদি ব্যাংক লোন নেয়া হয় সেক্ষেত্রে অতি উচ্চমাত্রায় সুদ দিতে হবে যা কিনা প্রাথমিক অবস্থায় বড় বাধা হয়ে দাড়াতে পারে। তাই চেষ্টা করতে হবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সংগ্রহ করার আর বাহ্যিকক্ষেত্রে সরকারি ঋনের খাতকে নির্বাচন করা যায়।

    ★সঠিকভাবে গ্রাহক নির্ধারন করতে হবে এবং মার্কেটিং করতে হবে।যদি আপনি চান শিশুদের জন্য পন্য তৈরি করে সেটা নিয়ে কাজ করার জন্য সেক্ষেত্রে আপনার এমনটা নয় যে আপনার গ্রাহক হচ্ছে শিশু বরং আপনার পন্য শিশুদের জন্য হলেও মূল গ্রাহক হচ্ছে শিশুর পিতামাতা। সুতরাং, গ্রাহক নির্ধারনের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে।এবং ব্যবসায় সফল হওয়ার জন্য সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে গ্রাহকের অভিযোগ শোনা এবং সেগুলোর উপর ভিত্তি করে যদি কাজ করা যায় সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে গ্রাহক দ্রুত সন্তুষ্টি পাবেন এবং আপনিও সফল হতে পারবেন।

    ★অবশ্যই একটি বিজনেস মডেল ক্যানভাস থাকা জরুরি যা ব্যবসা এবং পন্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা বহন করবে এই বিজনেস মডেল সফলতার জন্য অন্যতম ভূমিকা রাখবে।

    সর্বোপরি একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য উপরের বিষয় গুলোকে অনুসরণ করতে হবে। শুধু মাত্র তাই নয় হতে হবে সৎ এবং গ্রাহককে সম্পূর্ণ সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকতে হবে তাহলেই একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব।

    Source : www.investopedia.com,byjus.com,www.shopify.com,entrepreneurhandbook.co.uk

    Mohammad Arshil Azim
    Department Of Textile Engineering
    BGMEA University Of Fashion & Technology(BUFT)

    RELATED ARTICLES

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    - Advertisment -

    Most Popular

    Recent Comments