জীবন রক্ষাকারী কবচের আদ্যোপান্ত

1
373

“বহমান গতিস্রোত খুজে ফিরে পূর্ণতা অশেষ
সেই যে ঠিকানা,
পদ্মা মেঘনার দেশ
চিত্রা মধুমতীর বাংলাদেশ।”

নদীমাতৃক আমাদের এই দেশে নৌ-যানে চলাচল একটি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ হওয়ায় ঘূর্ণিঝড়,জলোচ্ছ্বাস,বন্যার মত দুর্যোগের আবির্ভাব ঘটে হরহামেশাই। বাংলাদেশের অধিকাংশ অঞ্চল বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী হওয়ায় এই বিষয়গুলো আমাদের জীবনের সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। বিভিন্ন উৎসবে ফেরিঘাটে বাড়িমুখী মানুষের উপচে-পড়া ভীড় যেন মনে করিয়ে দেয় লঞ্চডুবির মত দূর্ঘটনার কথা। এছাড়াও সময়ের সাথে সাথে বাড়ছে মানুষের কৌতূহল।

রোমাঞ্চকর অনুভূতির জন্য মুখোমুখি হচ্ছে দুঃসাহসিক অভিযানের। সাধারণত এইসব ভ্রমণের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয় লেক,ঝর্ণা,জলপ্রপাত,নদী-সমুদ্র ইত্যাদি। এই ভ্রমণ যেমন একদিকে আনন্দে পরিপূর্ণ তেমনি বিপজ্জনকও বটে। তাই সব ভ্রমণে একজন সচেতন মানুষ হিসেবে উচিত সর্বপ্রথম নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। আর নৌ-পথে আপনার সুরক্ষা-কবচ হিসেবে কাজ করবে লাইফ জ্যাকেট।

লাইফ জ্যাকেট নাম শুনলেই এর কাজ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। দূর্ঘটনাক্রমে পানিতে পড়ে গেলে এটি আপনাকে দীর্ঘক্ষন ভেসে থাকতে সাহায্য করবে। এটি একটি স্লিভলেস (sleeveless) জ্যাকেট যা বুয়্যান্ট (buoyant) বা ইনফ্ল্যাটেবল উপাদান দিয়ে তৈরি। এতে ব্যবহৃত হয় কিউব আকৃতির ফোম যা পলি-এস্টার দিয়ে গঠিত। জ্যাকেটগুলো সাধারণত উজ্জ্বল বর্ণের (হলুদ বা কমলা) হয়। যাতে দূর থেকে সহজে বুঝা যায়।

চিকিৎসক এবং উদ্ভাবক ডাঃ ক্রিস্টোপার ব্রুকসের লেখা “It’s called Designed for Life: Life Jackets Through the Ages” বইয়ে লাইফ জ্যাকেট সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। তিনি লিখেছিলেন “কাঠের জাহাজ যদি দূর্ঘটনার সম্মূখীন হয়ে ভেঙে যেত তবে নাবিকরা ভাসমান ধ্বংসাবশেষ,স্পার এবং মাস্টের সাহায্যে ভেসে থাকত। কিন্তু আয়রনের জাহাজে সেই সুযোগটি ছিলনা,সেক্ষেত্রে আরোহীদের জন্য লাইফ জ্যাকেট তৈরি করাটা অত্যাবশ্যক হয়ে পড়ে। বর্তমানে ব্যবহৃত লাইফ জ্যাকেটটির মডেল ১৮৫০ এর দশকে তৈরি হয়।

এবং তার মতে, মানুষ অনেক আগে থেকে পানিতে ভাসতে বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করতো। লাইফ জ্যাকেট কখন প্রচলন বা বিকশিত হয় সে সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া না গেলেও ধারণা করা হয়, প্রথম লাইফ জ্যাকেট বা ফ্লোটেশন ডিভাইস ব্যবহৃত হয় খ্রিষ্টপূর্ব ৮৭০-এ। এমন-ই একটি মডেল ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে এবং এর উপাদান ছিল প্রাণীর চামড়া যা ফুলিয়ে ব্যবহার করা হয়েছিল। বছরের পর বছর লাইফ জ্যাকেটের উপাদানগুলোর সংস্করণ ঘটছে।

টাইটানিক ট্র‍্যাজেডির পরে ১৯১৪ সালে সোলাশ কনভেশন সম্মেলনে “জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম” বলে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল। যার ভিত্তি ছিল “প্রতিটি যাত্রীর জন্য অত্যাবশকীয় লাইফ জ্যাকেট”।

সবার জন্য কিন্তু একই সাইজের লাইফ জ্যাকেট কার্যকর নয়।ছোট আকারের লাইফ জ্যাকেট যেমন আপনাকে ভাসাতে পারবেনা,তেমনি বড় আকারের জ্যাকেট খুলে গিয়ে আপনাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তাই সঠিক জ্যাকেট বাছাই করা উচিৎ যা শরীরের সাথে সঠিকভাবে ফিট হয়।

আজকাল সাতাঁর জানা থাকলেও সাবধানতা অবলম্বনের জন্য লাইফ জ্যাকেট পরিধান করা হয়।একজন সচেতন মানুষকে লাইফ জ্যাকেট দেয় জীবনের নিরাপত্তা এবং রাখে সুরক্ষিত। নৌ- দূর্ঘটনার সংকটময় মূহুর্তে এটি যেন এক রক্ষাকারী কবচ।

তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া,কটেজ লাইফ,ফেইসবুক।

Writer information:
Alia Yasmin Alo
Jannatuz faria
Team member(TES)

Dr M A Wazed Miah Textile Engineering college.

1 COMMENT

  1. বলতে গেলে টাইটানিকের কারনে আমরা কোবচ পেয়েছি।অনেক তথ্য বহুল ছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here