Home Uncategorized পাইকারী কাপড়ের সর্ববৃহৎ হাট "বাবুরহাট"

পাইকারী কাপড়ের সর্ববৃহৎ হাট “বাবুরহাট”

দেশের সর্ববৃহৎ পাইকারী কাপড়ের হাটের মধ্যে একটি হলো বাবুরহাট।বাংলাদেশের একটি প্রসিদ্ধ কাপড়ের বাজার।এর অবস্থান প্রাচ্যের  রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ৩৫ কি.মি দূরে ব্রক্ষপুত্র নদের তীরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে প্রাচ্যের ম্যানচেস্টারখ্যাত নরসিংদী জেলার শেখেরচড়ে।৭৯ বছরের পুরনো এই হাট আগে সপ্তাহে একদিন বসতো এখন সপ্তাহে ৩ দিন বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার। শুধুমাত্র নরসিংদীর তাঁতই নয় আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিভিন্ন ধরনের উৎপাদিত কাপড় এবং কাপড়জাত পন্য এই হাটে নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা।

ঢাকা থেকে শেখেরচর যাওয়ার পথে এর আগে আরও একটি হাট আছে।তার নাম মাধবদীর হাট বা মাধবদী বাবুরহাট।এটি নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানায় অবস্থিত। লোকমুখে শোনা যায়,এই অঞ্চলের জমিদার আশু বাবু প্রথমে ত্রিশের দশকে মাধবদীতে হাট প্রতিষ্ঠা করেন।কিন্তু কোন এক কারনবশত তার ভাই কালী বাবুর সঙ্গে তার ঝগড়া হলে কালী বাবু,প্রমথ ও গোপাল বাবু মিলে শেখেরচরে বাবুরহাট প্রতিষ্ঠা করেন।কিন্তু গুটি কয়েকদিনেই নতুন বাবুরহাট বাজার সবার কাছে সুপরিচিত হয়ে যায় এবং বড় বাজারে পরিনত হয়ে যায়।

কিন্তু ইতিহাস বলে,মাধবদীর গোপালবাবু,প্রসাদবাবু ও বিষাদবাবু এই তিন জমিদার ভাই মিলে মাধবদীতে একটি হাট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কিন্তু তারা থাকতেন কলকাতায় এবং তাদের হয়ে খাজনা আদায় করতেন একজন ব্যবস্থাপক।কিন্তু ওই ব্যবস্থাপক হাটের খাজনা দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেন।তখন এই খাজনা বৃদ্ধির প্রতিবাদে তখনকার শেখেরচরের জমিদার হলধরবাবু,বালাপুরের জমিদার কালীবাবু ও স্বদেশি আন্দোলনের নেতা সুন্দর আলী গান্ধী মিলে নতুন হাট প্রতিষ্ঠা করেন।পাইকাররা বলতেন এই হাটকে বাবুদের হাট।সময়ের পরিবর্তন এর সাথে সাথে এই হাটের নাম হয়ে যায় বাবুরহাট।

বহুকাল আগে থেকেই এই অঞ্চলটি তাঁতবস্ত্রের জন্য প্রসিদ্ধ। সারা সপ্তাহজুড়ে তৈরিকৃত কাপড়গুলো তাঁতিরা হাটের দিন নিয়ে আসতো এবং পাইকারদের কাছে বিক্রয় করতো। ধীরে হাট জমতে শুরু করে।একটা সময় শুধুমাত্র নদীপথেই পাইকাররা কাপড় কিনতে আসতো। তারপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মোমিন কোম্পানি রাস্তা নির্মান করে বাস সার্ভিস চালু করে। আর পাশেই রয়েছে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন।এরপর থেকে সড়কপথ, নদীপথ, রেলপথ তিনপথ ব্যবহার করেই পাইকাররা আসা শুরু করে কাপড় কিনে নিতে। একটা সময় এই অঞ্চলেই মসলিন কাপড় তৈরি হতো, তৈরি হতো মসলিনের জন্য উপযুক্ত সুতা।কিন্তু ইংরেজদের আগমনের পরে সুতা উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। তখন তাঁতিরা কলে তৈরি সুতার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।ইংরেজদের শাসনামলে বিলেত ও বোম্বে থেকে সুতা আমদানি হয়ে নারায়নগঞ্জে আসতো, তারপর সেখান থেকে আসতো বাবুরহাটে।ইংরেজ আমলের শেষ দিকে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকেশ্বরী, লক্ষ্মীনারায়ণ ও চিত্তরঞ্জন কটন মিলস স্থাপিত হয় এবং সেখানকার কাপড় তৈরির পর উদ্বৃত্ত সুতা তাঁতিদের নিকট এই হাটের মাধ্যমে বিক্রি হতো। পাকিস্তান আমলে কালীগঞ্জ কটন মিল কেবল সুতা তৈরি করে তাঁতিদের সরবরাহ করা হতো। 

বর্তমানে বাবুরহাটে ছোট বড় প্রায় পাঁচ হাজার দোকান রয়েছে যেখানে কাপড় বেচাকেনা হয়।বিক্রি হওয়া সকল কাপড়ই আমাদের দেশে উৎপাদিত হওয়া কাপড়,বিদেশি কাপড় নাই বললেই চলে।আগে কেবল সপ্তাহে একদিন রবিবারে হাট বসতো কিন্তু এখন শনি,রবি এবং সোমবার সপ্তাহে এই তিনদিন হাট বসে।তবে সপ্তাহের অন্যান্য দিনও বাজার খোলা থাকে।

এখন আর ব্যবসায়ীদের দিতে হয় না কোনো টোল বা খাজনা।শুধুমাত্র ঘরমালিকেরা রাজস্ব জমা দেন সরকারি কোষাগারে। দেশে নিত্যদিনের ব্যবহার্য কাপড়ের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ পূরণ করছে বাবুরহাট।প্রতি বছর সপ্তাহজুড়ে এই হাটে গড়ে অন্তত এক হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়।

Writer information:

Mohammad Arshil Azim 
Department Of Textile Engineering, 
BGMEA University Of Fashion & Technology (BUFT)

Previous articleTech Pack (Part 1)
Next articleসিসাল কি?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Post

Most Popular

Related Post

Related from author