Home Life Style & Fashion প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা ও তৎকালীন ফ্যাশন

প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা ও তৎকালীন ফ্যাশন

প্রাচীন অনেক সভ্যতার মাঝে মিশরীয় সভ্যতা অন্যতম। মিশরীয় সভ্যতার অনেকটা অংশ জুড়ে আছে মিশরীয় পিরামিড। এই পিরামিড গুলো ব্যবহার করা হতো তৎকালীন রাজা বাদশাহদের সামাধি দেয়ার জন্য। অতীতের মিশরীয় সভ্যতার মধ্যে মিশরীয় পোশাকের কিছু চমকপ্রদ নজির পাওয়া গেছে যা তাদের সমাধি এবং মন্দিরগুলির দেয়ালে মিশরীয় জীবনের চিত্রগুলিতে ফুটে উঠেছিল। এই অঙ্কন চিত্রসমূহ স্বতন্ত্র এবং অন্যান্য সভ্যতা থেকে পৃথক ছিল। এই প্রাচীন রেকর্ডগুলি ধনী এবং দরিদ্রদের পোশাক সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা দেয়। কেননা মিশরীয়রা মনে প্রানে বিশ্বাস করত যে মৃত্যুর পরেও জীবন বিদ্যমান। মৃত্যুর পরেও তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র লাগবে এই কারণেই তাদের ব্যক্তিগত জীবদ্দশায় ব্যবহৃত জিনিসগুলি সহ তাদের দেহটি কবর দেয়া হতো। এই সমাহিত ও সংরক্ষিত দেহগুলিকে মমি বলা হয় এবং পিরামিডগুলিতে রাখা হতো। এমন অনেক প্রাচীন মমির মধ্যে King Tutankhamen, Ramesses II, Ginger অন্যতম।

এই মমি গুলা যখন আবিষ্কার করা তখন মমির সাথে অনেও মূল্যবান জিনিস পাওয়া যায়। মুলত এসব গবেষনা করেই প্রাচীন মিশরীয় সভ্যভার ফ্যাশন সর্ম্পকে জানা যায়। মিশরীয়রা নীল নদের কাছে বাস করত এবং দুটি দলে বিভক্ত হছিল। তাদের সাধারণত একজন সাধারণ রাজা ছিল। তবে অনেক সময় দু’জন রাজাও ছিলেন। আসলে শ্রেণী এবং বংশীয় বিভাগের কারনে, প্রাচীন মিশরে বর্ণ প্রথার সৃষ্টি হয়। মিশরের উচ্চ বর্ণের রাজা একটি সাদা রঙের মুকুট ব্যবহার করতেন এবং নিম্ন বর্ণের রাজা লাল রঙের মুকুট পরিধান করতেম। শুরুর দিকে নিম্ন শ্রেনীর লোকেরা কোনও কাপড় পরত না এবং উচ্চবিত্তরা খুব কম কাপড় পরত। আস্তে আস্তে পোশাক উৎপাদন ও সহজ লভ্যতা হলে সাধারণ জনগন অল্প পোশাক এবং স্কার্ট যা উচ্চ শ্রেণীর দ্বারা অনুমোদন কৃত অ্যাপ্রোন এর মত করে কটি হিসেবে পরিধান করত। পাশাপাশি তারা তাদের কোমরে ফ্যাব্রিকের ত্রিভুজাকার টুকরা পরতেন। এই ত্রিভুজাকার টুকরা শেহেন্তি নামে পরিচিত ছিল।

ওই সময়ে রাজারা যে পোশাকটি পরিধান করতো তা খুব সাধারণ ছিল। এটিতে আয়তক্ষেত্রাকার একটি টুকরা থাকত যা কোমরের সাথে বেল্ট দ্বারা একসাথে আটকে থাকত। এটির উপরে, রাজা একটি স্বচ্ছ স্কার্ট পরতেন, যার নাম কালাসিরিস। কখনও কখনও, বেশ কয়েকটি স্কার্ট একসাথে পরতেন। স্কার্টটি সাধারণত সাদা রঙ্গের এক টুকরো কাপড় এর মত পরিধান করতেন যা ডান থেকে বামে দেহটি জড়িয়ে রাখার কাজ করতো। স্কার্টটি এতটাই দীর্ঘ এবং প্রশস্ত হয় যে, তা রাজার গোড়ালি পর্যন্ত পৌঁছায়। উৎসব অনুষ্ঠানের জন্য, মিশরের মহান রাজারা স্বর্ণের স্কার্ট পরিধান করতো।

রাজবংশের পরিবর্তনের সাথে পোশাকের বেশ পরিবর্তন ঘটেছিল। তখন মিশরীয়রা তুলনামূলক মোটা সুতা আরো সূক্ষ্মতর করার উপায় বের করে। একই সাথে সুতি এবং লিনেন এর ব্যাপকভাবে ব্যবহার শুরু করে। সেই সময়কালে প্রাচীন মিশরীয়রা শরীরের উপরের অংশ এবং নিম্ন অংশ আবৃত করার জন্য একটি শর্ট স্কার্ট এর প্রচলন শুরু হয় এবং এটি সেই সময়ে একটি নতুন ফ্যাশনের ট্রেন্ড হিসেবে পরিগণিত হয়।

মিশরের মহিলারা চুল ছোট রাখত এবং পুরুষরা মাথা কামিয়ে রাখত। রাজকীয় নকশা, পুষ্পবতী, রঙিন ফিতা, পদ্ম ফুল প্রায়শই চুলের চারপাশে সুতাযুক্ত করে ব্যবহার করত। মিশরীয় মহিলারা অন্য সভ্যতার মহিলাদের থেকে ফ্যাশন হিসেবে অনেক রত্ন এবং অলঙ্কার পরিধান করত, বিশেষত কানের দুল এবং আর্মলেট। পুরুষ এবং মহিলা উভয় রঙিন সূচিকর্মের নেকলেস, উপরের এবং নীচের বাহুর জন্য ব্রেসলেট পরিধান করত। প্রাচীন মিশরের ফ্যাশনের প্রভাব আধুনিক ডিজাইনারদের পোশাকগুলিতে স্বীকৃতি পেয়েছে। নকশা এবং অলঙ্কারের ব্যবহার বহু শতাব্দী জুড়ে বেঁচে আছে এবং এখনও মানবতার আগ্রহকে ধারণ করে এমন নতুন ব্যবস্থা এবং সংমিশ্রণের অনুপ্রেরণা হিসাবে অবিরত রয়েছে।

✒️ Writer information:

Name: Md. Murad Hassan
Institute: Primeasia University
Batch: 192
Campus Core Team Member (TES)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Post

Most Popular

Related Post

Related from author