Friday, July 19, 2024
More
    HomeTechnical Textileহারিয়ে যাচ্ছে বাংলার ঐতিহ্যের শীতল পাটি

    হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার ঐতিহ্যের শীতল পাটি

    বাংলার কুটির শিল্পের একটি ঐতিহ্য শীতল পাটি।ইহা এক ধরনের মেঝেতে পাতা আসন। এই পাটি বাঙালির ঘরেঘরে আবহমানকাল থেকে শোভা পাচ্ছে। শীতল পাটি বাংলাদেশের এক প্রকার হস্তশিল্প। বেত বা মুর্তা বা মোস্তাক (বৈজ্ঞানিক নাম : Schumanninthus dichotmus) নামক গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদের ছাল থেকে এগুলো তৈরি হয়ে থাকে।শহরের শো-পিস এবং গ্রামে এটি মাদুর অথবা চাদরের পরিবর্তে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।

    শীতল পাটির ইতিহাস:

    অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্ত্বনিধি (জন্ম: ১৮৬৫ খ্রি., মৃত্যু: ১৯৫৩ খ্রি.) কর্তৃক বিরচিত এবং ১৯২০-এর দশকে প্রকাশিত “শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত” নামীয় বিশালকার গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের ৪র্থ অধ্যায়ে শীতল পাটি সম্পর্কে নিম্নরূপ বর্ণনা পাওয়া যায়: “… এই শিল্পের মধ্যে শীতল পাটি সর্বপ্রধান ও বিশেষ বিখ্যাত। মূর্ত্তা নামক এক জাতীয় গুল্মের বেত্র দ্বারা ইহা প্রস্তুত হয়। ইহা শীতল, মসৃণ ও আরামজনক বলিয়া সর্বত্র আদৃত। বঙ্গদেশের অন্য কোথায়ও এইরূপ উৎকৃষ্ট পাটি প্রস্তুত হইতে পারে না। পাটির বেত্র রঞ্জিত ক্রমে পাশা, দাবা প্রভৃতি বিবিধ খেলার ছক ইত্যাদি চিত্রিত করা হয়। পাটির মূল্য গুণানুসারে ১০ আনা হইতে ১০ দশ টাকা পর্যন্ত হইতে পারে। বেত্র যত চিকণ হয়, মূল্য ততই বর্ধিত হয়। পূর্বে নবাবের আমলে ২০-২৫ টাকা হইতে ৮০-৯০ টাকা, এমন কি শত দ্বিশত টাকা পর্যন্ত মূল্যের পাটি প্রস্তুত হইত বলিয়াও শুনা যায়। ২০-২১ হাত দীর্ঘ পাটিকে ‘সফ’ বলিয়া থাকে। ইট ও চোঁয়ালিশ পরগণাতেই সর্ব্বোৎকৃষ্ট শীতল পাটি প্রস্তুত হয়। পাটি প্রস্তুতকারকগণ ‘পাটিয়ারা দাস’ নামে খ্যাত। ১৮৭৬-৭৭ খৃষ্টাব্দে শ্রীহট্ট হইতে ৩৯২৭ টাকা মূল্যের পাটি রপ্তানি হইয়াছিল।

    বয়ন পদ্ধতি :

    যে গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ থেকে শীতল পাটি তৈরি করা হয় তার স্থানীয় নাম মুর্তা,মুক্তা, পাটিবেত ইত্যাদি। এগুলো সাধারণত সরু বাঁশ এর মতো, জন্মায় ঝোপ আকারে।প্রথমে মুর্তা গাছের ছাল গুলো রোদ এ শুকায় যাতে পাটি মজবুত হয়।দুটি বেত নিয়ে মাঝখানে ভাঙ্গা দিয়ে চারটি বেত বানিয়ে বুনন শুরু করে এক কোনা থেকে। আসতে আসতে ২ কোনা ৩ কোনা তারপর সর্বশেষ ৪ কোনা তৈরি হয়।


    🌍শীতল পাটি ইউনেস্কোর নিবর্স্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ‌্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তিঃ

    জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ইউনেস্কো বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আবেদনক্রমে ৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের শীতল পাটি বুননের ঐতিহ্যগত হস্তশিল্পকে কে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নিবর্স্তুক বা ইনট্যানজিবল (ইং: Intangible ) সাংস্কৃতিক ঐতিহ‌্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর নিবর্স্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ‌্য সংরক্ষণে গঠিত আন্তজাতিক পর্ষদ (Inter-governmental Committee for the Safeguarding of the Intangible Cultural Heriatge) বাংলাদেশ সরকারের শীতল পাটি বিষয়ক প্রস্তাবটি অনুমোদন করে এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রস্তাবটি Nomination file no. 1112 হিসেবে চিহ্নিত ছিল সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর এই প্রস্তাবনাটি প্রণয়ন করে এবং ইউনেস্কোর নিকট ২০১৬ খ্রি. এর সেপ্টেম্বরে দাখিল করে। ২০১৭ এর ২৭ অক্টোবর ইউনেস্কোর সংশ্লিষ্ট মূল্যায়ন কমিটি বাংলাদেশের প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য বলে অভিমত ব্যক্ত করে।

    অতঃপর ইউনেস্কো বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের শীতল পাটি বুননের ঐতিহ্যগত হস্তশিল্পকে (Traditional art of Shital Pati weaving of Sylhet Bangladesh) কে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নিবর্স্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ‌্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

    🍀ইহএকটি জনপ্রিয় পাটি। তুলনা মুলক গরমের দিনে এর ব্যাবহার বেশি,কেননা এই পাটিতে শুলে শরির শীতল হয়ে যায়।তাই সাধারণত গরমকে নিবারনের জন্যে এই পাটি ব্যাবহার করা হয়।
    কিন্তু এখন এই পাটি বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে এবং এই পাটি দিয়ে অনেক কিছু তৈরি হচ্ছে,এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্যাগ ও বিভিন্ন ধরনের শিল্পা দ্রব্য।

    এই পাটিও একটি প্রাচীন শিল্পাচার্য কিন্তু ধীরে ধীরে তা বিলিন হয়ে যাচ্ছে।
    তথ্য : উইকিপিডিয়া
    Fouzia Jahan Mita
    NITER (10 th Batch)

    RELATED ARTICLES

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    - Advertisment -

    Most Popular

    Recent Comments