Home Fiber কয়ার ফাইবার (Coir – Fiber)

কয়ার ফাইবার (Coir – Fiber)


কায়ার ফাইবার একটি প্রাকৃতিক ফাইবার, নারিকেলের(Coconut) ছোবড়া থেকে যে ফাইবার তৈরি হয় তাকে কয়ার ফাইবার বলা হয়। কায়ার ফাইবারকে বাস্ট ফাইবার ও বলা হয়।
নারকেলের ছোবড়ার আঁশ দিয়ে তৈরি পণ্য এখন বিদেশে রফতানি হচ্ছে। এখানে একের পর এক গড়ে উঠছে ন্যাচারাল ফাইবার থেকে রফতানি পণ্য তৈরির কারখানা। বৈদেশিক রফতানি পণ্যের কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত নারকেলের ছোবড়া মেশিনের সাহায্যে গুঁড়া ও আঁশ পৃথক করে সেই আঁশ দিয়ে যন্ত্রের সাহায্যে তৈরি করা হচ্ছে তোশকের (ম্যাট্রেস) ভেতরের অংশ, যা ‘কয়ার ফেল্ট’ নামে পরিচিত। নারকেলের ছোবড়ার পাশাপাশি ছোবড়ার গুঁড়াকে প্রক্রিয়াজাত করে রফতানির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। শুরুতেই রফতানি হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ায়।


কয়ার ফাইবারের গুণাবলী (Properties of Coir Fiber)
▪কয়ার ফাইবারের আঁশ শক্ত ও খসখসে হয়।

▪সাধারনত আঁশ বাদামী রঙের হয়ে থাকে।

▪কয়ার ফাইবার বেসিক ডাই, এসিড দায়ী, ডাইরেক্ট ডাই দ্বারা রং করা হয়।

▪কয়ার ফাইবার পানিতে সহজে নষ্ট হয় না।
কয়ার ফাইবারের ব্যবহার (Use of Coir Fiber) 

▪বাসা বাড়িতে, কার্পেট, পাপোশ, ফ্লোর ম্যাট ইত্যাদি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

▪অটোমোবাইল তৈরিতে ব্যাবহৃত হয়।   

 ▪কুটির শিল্পে, ব্যাগ, পাখা, ঝুড়ি ইত্যাদিতে ব্যবহার হয়।

▪বাচ্চাদের বিভিন্ন খেলনা তৈরিতে ব্যাবহৃত হয়। 

  ▪পানিতে সহজে নষ্ট হয় না তাই দড়ি কাছি ও জাহাজের বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়।

▪সবথেকে বেশি ব্যবহৃত হয় ম্যাট্রেস তৈরীর কাজে।


কয়ার ফাইবারের উপাদান (Coir Fiber Material)
▪ছোবড়া ১৮%

▪মালা ১৪%

▪আঁশ ২২%

▪পিথ ১৬%

▪কারনেল ৩০%

▪পানি ১৪%


রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যঃ 
▪লিগনিন ৪৫.৮৪%

▪সেলুলোজ ৪৩.৪৪%

▪হেমি-সেলুলোজ ০.২৫%

▪দ্রবণীয় পানি ৫.২৫%

▪পেকটিন ২.২২% 


বাণিজ্যিক নামঃ
▪ Bristol Fibre: Long Fibre.

▪ Decorticated Fibre: Mixef Fibre.

▪ Mattress Fibre: Short Fibre.


▪ছোবড়া থেকে তোশকঃ 
নারিকেলের ছোবড়া জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। তবে বর্ষায় ছোবড়া শুকাতে অসুবিধা হতো বলে তা ফেলে দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। বর্তমানে ছোবড়ার আঁশের সঙ্গে রেজিন বা তরল রাবার মিশিয়ে প্রথমে পাতলা শিট তৈরি করা হয়। পরে ম্যাট্রেস কোম্পানির চাহিদা অনুযায়ী কয়েকটি শিটকে তাপ ও চাপ দিয়ে এক ইঞ্চি থেকে সাড়ে পাঁচ ইঞ্চি পুরুত্বের কয়ার ফেল্ট প্রস্তুত করা হয়। বিভিন্ন আকারের হলেও দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে যথাক্রমে সর্বোচ্চ ৭২ ও ৮০ ইঞ্চি কয়ার ফেল্ট করে থাকে তারা। বিসিকের কারখানাটিতে কাজ করেন ৩৫ জন শ্রমিক। দেশে বর্তমানে কয়ার ফেল্টের চাহিদা মাসে প্রায় ৩০ হাজার ঘনফুট। ৫ থেকে ৬ হাজার ঘনফুট উৎপাদন হয় ন্যাচারাল ফাইবার ফ্যাক্টরিতে।


Sajjadul Islam Rakib

Campus Ambassador-TES

National Institute of Textile Engineering and Research-NITER

Batch: 10     

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Post

Most Popular

Related Post

Related from author