Home Motivational Mastering frustration (হতাশার নিয়ন্ত্রণ)

Mastering frustration (হতাশার নিয়ন্ত্রণ)

সুখবর!

আপনি এখনো বেঁচে আছেন! কারণ আপনি কিছুতেই জানেন না আপনি কখন মৃত্যু কে বরণ করবেন কিন্তু এটা করতেই হবে। আপনি বেঁচে আছেন এটাই আপনার জন্য একমাত্র অনুপ্রেরণা। আপনাকে অনুরোধ করছি, আপনি চোখ বুঁজে বা খোলা রেখে ভেতরে একটি গভীর নিঃস্বাস নিন, এবার আস্তে আস্তে ছাড়ুন।অভিনন্দন! আপনার জীবনে আরও একটি নিঃস্বাস যোগ হলো। একমাত্র নিঃস্বাস প্রশ্বাস হচ্ছে আপনার জীবনের একক প্যারামিটার। সময়, অর্থ-সম্পদ, পদ, সম্পর্ক এগুলো দিয়ে কখনোই  জীবনকে পরিমাপ করবেন না।

হতাশা!

হতাশার বিস্বাদ আপনাকে তখনই তিক্ত করে যখন আপনি জীবনকে জীবনের, নিজের অথবা অন্যের প্রয়োজনে সময়, অর্থ, পদ, সম্পর্ক এগুলো দিয়ে বেঁধে দেন। আমাদের যতসব প্রয়োজনে কিংবা চাহিদায় জীবনকে আমরা অনেকেই যান্ত্রিক রুপ দিয়েছি। আপনি বাস্তবতার রোষানলে নিজেকে যান্ত্রিক রুপ দিলেও আপনি সৃষ্টির এক মহান, শ্রেষ্ঠ মানব সত্তা। এটাই সত্য।

হতাশার নিয়ন্ত্রণে আমি আপনাকে বৈজ্ঞানিক উপায় বলতে পারবো না, রুপক অর্থে ‘দেশিও টোটকা’ আপনাকে বলছি। গ্রহণ করা না করা আপনার কাছেই থাকলো।হতাশা ব্যাপারটাই হচ্ছে একটি হতাশা। এটা একটা চেইন, এর শৃঙ্খলা আপনাকে ভেঙে দিতে হবে। ভেঙে দিতে হবে বলছি কারণ খুব কম মানুষই আছেন যারা কখনো হতাশায় ভোগেননি অথবা নেই।

সকালে ঘুম থেকে উঠেই ভারাক্রান্ত হয়ে বের হলেন। গন্তব্য ইউনিভার্সিটি অথবা বন্ধুর বাসা, ব্যাংক, মার্কেট, রেস্টুরেন্ট কিংবা পার্কে যেখানেই যান সেখানে প্রবেশ এবং বের হতে একজন অথবা একাধিক মানুষ দেখবেন যারা ঐ জায়গাটির সুরক্ষার জন্য দাড়িয়ে আছে। আপনার মুখে হাসি নেই তবু্ও একটি প্লাস্টিকের হাসি দিয়ে হলেও তাদের সাথে সালাম বিনিময় করুন, কুশলাদি ও জানুন। রাস্তায় যেয়ে ঐ রিকশা/ খালি না ডেকে মার্জিত শব্দে ডাকুন, সালাম বিনিময় করুন, মামা কেমন আছেন? জিজ্ঞেস করতে ভুলবেন না, রিকশায় চড়তে চড়তে চালকের পায়ের দিকে তাকান পেডেল দেওয়া দেখুন। এগুলো আপনাকে মহানত্বের মহানুভবতা উপহার দিবে যা আপনার মনের ক্লেশ দূর করে হতাশা ঢেকে বরং একজন মহান মানুষে পরিণত করতে পারে।এভাবে প্রতিনিয়ত আপনার আশেপাশের পদাতিক, কম সচ্ছল মানুষ গুলোর সাথে নিজের সখ্যতা গড়ে তুলুন। সময়, অর্থ, পদ, সম্পর্ক এর প্রত্যকটা ক্ষেত্রে আপনার হতাশা নিয়ন্ত্রণ হতে পারে।

কবরস্থান, গোরস্থান, হাসপাতালের রোগীদের ওয়ার্ডে বিশেষ করে পঙ্গু হাসপাতালে প্রায়ই ভ্রমণ করবেন। চাহিদা, অপ্রাপ্তি, অহংকার সম্বলিত হতাশা গুলো ঢেকে যেতে পারে, আপনি হয়ে উঠতে পারেন মহান মানুষ।
সফল নামকরা বণিকরা শুধু ব্যবসাই বোঝেন তাদের চেয়ে ক্ষুদ্র যাদের ব্যবসা দিয়ে শুধু তাদের প্রয়োজন মেটে তাদের সাথে লেনদেন করুন। পরবর্তীতে দেখবেন তারা আপনার জন্য স্পেশাল পণ্যেটি রেখে দিয়েছেন।
ফকির, মিসকিন চাওয়ার আগেই দান করুন। তাদের বাসায় দাওয়াত দিয়ে খেতে দিন এতে চরম আত্মোপলব্ধির মাধ্যমে আপনিই হতাশাকে গ্রাস করতে পারবেন।

আশেপাশে কিংবা দূরের যাদের কারণে হতাশা আসে তাদের সাথে বিনয়ী হন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করুন সম্ভব না হলে উপেক্ষা করুন। পরিবারের সদস্যদের সময় দিন। তাদের সামনে সবসময় আপনার মুখে প্লাস্টিকের হাসি ঝুলিয়ে রাখুন। সেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলোর সাথে নিজেকে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ফেলুন।
ছোট বড়, বন্ধু শত্রু সবাইকে অভিবাদন জানান, সালাম দিন (এটা গ্যারান্টেড)।

প্রচুর বই পড়ুন, অন্যকে বই উপহার দিন।ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার চেষ্টা করুন।আপনি এগুলো দিয়ে হতাশা নির্মূল না করতে পারলেও খুব সহজেই হতাশাকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন। আপনি হতাশা নির্মূল করতে যাবেন না এতে আরও বেশি হতাশা পাবেন। এমন কাজগুলোই করতে হবে যাতে আপনার হতাশা নিয়ন্ত্রণ থাকে আর এটা বুঝতে পারলে জীবনের অপ্রত্যাশিত হতাশাও আপনি অগ্রাহ্য করতে পারবেন।

প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ আত্মহনন করেন হতাশার হতাশায়! আপনার যদি এমন এ্যান্টিবডি থাকে যা যেকোনো সময় হতাশাকে নিয়ন্ত্রণ করতে বাধ্য হয়, আপনি সেভাবে নিজেকে প্রস্তুত করুন।আপনার সার্বিক হতাশা নিয়ন্ত্রণ হোক আপনার হাতেই। জীবনকে নিজের বাস্তবতার সাপেক্ষে উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন। উপলব্ধি থেকে ইতিবাচক ব্যাপারগুলো গ্রহণ তো করবেনই সাথে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে নেতিবাচক ব্যাপারগুলোকেও সাদরে গ্রহণ করুন অনৈতিক নেতিবাচক ত্যাগ করার শর্তে।

পরিশেষে,আপনাকে উপকৃত করতে আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে আমার জীবনের চরম উপলব্ধি থেকে আপনার কাছে তুলে ধরলাম। আমি কোনো সাইকোলজিস্ট, মোটিভেশনাল স্পিকার নই। বিশ্বাস করুন আপনি অসাধারণ।

আপনি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ!

আমি আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী,

A. Rouf Ahmmad (Ishan)
TES Campus Ambassador
World University of Bangladesh

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Post

Most Popular

Related Post

Related from author