Tuesday, May 28, 2024
More
    HomeIndustrial Calculationটেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এ গণিতের ব্যবহার

    টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এ গণিতের ব্যবহার

    টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এ গণিতের ব্যবহার

    “বস্ত্র প্রকৌশল” বা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে যারা পড়াশোনা করছি তারা অহরহ একধরণের কথা শুনে থাকি যে, “টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কিভাবে হয়? “ কিংবা “কাপড় চোপড় সেলাই আবার ইঞ্জিনিয়ারিং কীভাবে হয়” ।
    “বিষয়টি অনেক সহজ, গণিত করা লাগে না”।
    ব্যাপারটি খুব দুঃখজনক হলেও সত্য যে অধিকাংশ মানুষের ধারণা নাই এই সাবজেক্ট সম্পর্কে। প্রথমত, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং মানেই কাপড় চোপড় সেলাই না। এটি একটি সম্পূর্ণ ম্যানুফ্যাকচার বেইজড প্রক্রিয়া।
    আর দ্বিতীয়ত , ইঞ্জিনিয়ারিং বা প্রকৌশলে অধ্যয়ন করা মানেই গণিতের ব্যবহার বাধ্যতামূলক এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এ যে গণিত লাগে না সেই ধারণাও আজকের এই আর্টিকেল দ্বারা ভুল প্রমান করা হবে।

    টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারের করা বেশিরভাগ হিসাবই তুলনামূলকভাবে সহজ ধাপের একটি ধারাবাহিক যা প্রধানত গাণিতিক এবং মাঝে মাঝে ত্রিকোণমিতি, জ্যামিতি, বীজগণিতের প্রাথমিক দিকের ব্যবহার করে হয়ে থাকে। একজন প্রকৌশলী বা গবেষণা বিজ্ঞানী বিশুদ্ধ এবং প্রয়োগকৃত গণিতের পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জটিল গণিতকে কাজে লাগাতে পারেন।

    টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এ গণিতের ব্যবহার:
    বস্ত্র প্রকৌশল বা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এ গণিতের ব্যবহার অবশ্যই আছে। বিশেষত, স্পিনিং সেক্টর এ আপনি প্রতিটি অধ্যায়ে প্রচুর গণনা ও হিসাব নিকাশ করতে পাবেন।
    বেশিরভাগ গণনা গিয়ার সেটিং, কাঙ্ক্ষিত গণনার জন্য পুলি সেটিং, টুইস্ট, মেশিনের স্পিড,কপ দৈর্ঘ্য (Cops Length) ইত্যাদি।
    ওয়েট প্রসেসিং এ , আপনি রেসিপি তৈরির জন্য ক্যালকুলেশন পাবেন। উইভিং(weaving) এ , গিয়ার, পুলিং, ওয়ার্পে সুতার সংখ্যা, কাপড়ের প্রস্থ এবং দৈর্ঘ্যের উপর ভিত্তি করে গণিতের ব্যবহার রয়েছে। গার্মেন্টসে, পরিমাপের জন্যও প্রচুর হিসাব নিকাশ রয়েছে।

    আবার মার্চেন্ডাইজিং-এ, বিভিন্ন উপাদানের ব্যবহার, খরচ এবং মূল্য নির্ধারণের জন্য কিছু হিসাব আছে।
    ফিড ক্যালকুলেশন, ওয়েস্টেজ ক্যালকুলেশন ও প্রোডাকশনের জন্য কিছু ক্যালকুলেশন রয়েছে।
    এখন আমরা বিস্তারিত ভাবে জানবো টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ম্যাথ এর ব্যবহার সম্পর্কে ।

    ★টেক্সটাইলে ইঞ্জিনিয়ারিং এ বিভিন্ন গাণিতিক গণনা পদ্ধতিগুলো হলো:

    ১। স্ট্যাটিসটিকাল টেস্ট (Statistical Tests) : স্ট্যাটিস্টিকস বা পরিসংখ্যানকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয় যা তথ্য সংগ্রহ, সংকলন, বিশ্লেষণ এবং উপস্থাপনার সাথে সম্পর্কিত । এর কিছু Techniques হলঃ Chi-square Test, ‘F’ Test, ‘T’ Test, Critical Difference, Six Sigma, Linear Programming ইত্যাদি।
    ২। গ্রাফিক্যাল এনালাইসিস(Graphical Analysis): এখানে চার্ট ব্যবহার করা হয়, গ্রাফিকাল আকারে ডেটা উপস্থাপন করে যাতে আমরা দুই বা ততোধিক ভেরিয়েবলের মধ্যে রিলেটিভ ভ্যারিয়েশন পেতে পারি।
    ৩। ত্রিকোণমিতিক ফাংশন (Trigonometric Functions): উইন্ডিং মেশিন এ উইনিং রেইট নির্ণয় এ ত্রিকোনমিতির ” Pythagoras Theorem” ব্যবহার করা হয় । এছাড়া ফ্রিকশন ড্রাইভস অর্থাৎ সুতার টান(Tension), এবং প্রয়োজনীয় পরিমাণ সুতার টানের হিসাব করা হয়।
    আরো অনেক ধরণের পদ্ধতি যেমন – ম্যাট্রিক্স, ভেক্টর, বিভিন্ন ধরনের ইয়ার্ন কাউন্ট পদ্ধতি(tex system,denier etc) এবং ক্যালকুলাস এর Partial Differential Equations ব্যবহার করে রঙের নির্ভুলতা, ডাইজ(Dyes) এলাইনমেন্ট, স্যাচুরেশন লিমিট ইত্যাদি হিসাব নিকাশ এর জন্য গণিতের ব্যবহার রয়েছে।
    কম্পিউটার কালার ম্যাচিং: কম্পিউটার কালার ম্যাচিংয়ের ক্ষেত্রেও গণিতের ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এর উদ্দেশ্য শুধুই কালার ম্যাচিং করা নয় বরং নূন্যতম খরচে শেড তৈরির বিভিন্ন সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করতেও ব্যবহৃত হয়।
    যেমন:
    • ম্যাট্রিক্স(Matrix): এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন দাই কম্পোজিশন, তাদের তীব্রতা, অনুপাত, ঘনত্ব এবং খরচকে ভেরিয়েবল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার জন্যে Tristimulus Method দ্বারা সমাধান করা হয়।
    • ফ্যাক্টরিয়াল (Factorials): ফ্যাক্টরিয়াল মূলত একটা ডাইয়ের শেডের সাথে কতগুলো কম্বিনেশন দেখানো সম্ভব, বা বিভিন্ন আলোতে কম্বিনেশনগুলো একটা আরেকটার কত কাছাকাছি থাকতে পারে টা নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।
    N= n!/(n-m)!m!
    যেখানে,
    N= number of combination involved, n = total number of dyes involved, m = Maximum number of dyes in a recipe
    • Partial Differentiation: এই পদ্ধতি নিখুঁত, নির্ভুল কালারের নির্ণয়, প্রতিফলন পরিমাপ, স্যাচুরেশন সীমা, সামঞ্জস্যতা এবং ব্যবহৃত ডাইয়ের শক্তি, কালার টোনের পার্থক্য নির্ণয়ে ব্যবহার হয়।

    টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ফাইবার থেকে ফ্যাব্রিক তৈরির সুতা থেকে নিয়ে পোশাক পর্যন্ত প্রতিটি প্রক্রিয়ায় কোনো না কোনো ধরণের গাণিতিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। প্রয়োজনীয় গুণমান এবং নিখুঁত প্রোডাকশন পেতে গাণিতিক জ্ঞান থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
    তথ্যসূত্র ঃ Fiber2Fashion, Quora etc.
    Writer’s Information :
    Mohamad Mohiminul Pritom ( Batch-211)
    &
    Tanvir Hasan Molla ( Batch-201)

    Department Of Textile Engineering

    Green University of Bangladesh

    RELATED ARTICLES

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    - Advertisment -

    Most Popular

    Recent Comments