বিভিন্ন প্রকারের কাপড় ও তাদের প্রকারভেদ

0
361
বিভিন্ন-প্রকারের-কাপড়-ও-তাদের-প্রকারভেদ

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অতি প্রয়জনীয় বস্তু হলো কাপড় ।  কিন্তু আমরা কি কখনও চিন্তা করে দেখেছি  , আমরা যে কাপড়টি পরিধান করি এটা কি ধরনের কাপড়  বা কি ধরনের সুতা দিয়ে তৈরি  ?  এটি না জেনে থাকলে আমরা আমাদের চাহিদা মতো সঠিক কাপড় খুজে পাই না । এর ফলে আমাদের মনে কাপড়টি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন আসে যেমনঃ কাপড়টি কি কটন দিয়ে তৈরি  আবার কটন হলে এটা কি ১০০% কটন নাকি অন্য কোনো পদার্থ মিশ্রণ আছে । এই ধরনের সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদেরকে কাপড়ের প্রকারভেদ সম্পর্কে জানতে হবে ।

তাহলে আসুন জেনে নেই কাপড় কত প্রকার বা কাপড়ের প্রকারভেদ এর উপর ভিতরগত কিছু বিষয় নিয়ে।

কাপড় কাকে বলে ? 

কাপড় হচ্ছে একটি নমনীয় উপাদান যা প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম সুতা বা তন্তুর দিয়ে তৈরী হয়। ফেব্রিক মানে কাপড় ।  বিভিন্ন ধরনের ইয়াং এর সমন্বয়ে উইভিং বা নিটিং এর মাধ্যমে ফেব্রিক তৈরি হয় । আবার ইয়াং বিভিন্ন ধরনের ফাইবার দ্বারা গঠিত  । সুতা বা ইয়াং এর একক হচ্ছে ফাইবার  । কাপড় তৈরি করার প্রথম ধাপ হচ্ছে টেক্সটাইল ফাইবারকে স্পিনিং পদ্ধতির মাধ্যমে ইয়াং বা সুতা তৈরি করা ।  এরপর ঐ ইয়াং দিয়ে নিটিং বা উইভিং , ডায়িং , প্রিন্টিং ও ফিনিশিং ইত্যাদি পদ্ধতির মাধ্যমে কাপড় তৈরি করা হয় ।  আর এই কাপড়ই গার্মেন্টসে পোশাক তৈরির কাচামাল হিসাবে ব্যাবহৃত হয় । 

এবার আরেকটা বিষয় নিয়ে কথা বলবো মাঝে মাঝে আমরা ক্লোথ ও ফেব্রিক্স একই অর্থে ব্যাবহার করে থাকি । কিন্তু প্রকৃত পক্ষে দুটো দুই অর্থ বহন করে। প্রক্রিয়াজাত ফেব্রিকসকেই সাধারনত ক্লোথ বলে ।

ফেব্রিক বা কাপড় কতো প্রকার ?  

আমার যত সহজে প্রশ্নটা বলতে পাচ্ছি  কাপড়ের প্রকারভেদ কিন্তু এতোটা সহজ নয়।  চলুন এটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি । উৎসভেদে কাপড়ের প্রকারভেদ প্রধানত: দুই ধরনের হয়ে থাকে। যথা-

 ১.ন্যাচারাল বা প্রাকৃতিক এবং 

 ২.কৃত্রিম । 

ন্যাচারাল ফেব্রিকস পুনরায় তিন প্রকারের হয়ে থাকে:

১) উদ্ভিদ জাত ফেব্রিকস: যেমন- কটন ,পাট । 

২) প্রাণি জাত ফেব্রিকস: যেমন- উল, সিল্ক । 

৩) খনিজ পদার্থ হতে: যেমন এসবেসটস । 

কৃত্রিম ফেব্রিকসও আবার উৎসের উপর ভিত্তি করে তিন ধরণের হয় :

১) ন্যাচারাল পলিমারঃ রেয়ন, লয়সেল । 

২) সিনথেটিক পলিমারঃ নাইলন, পলিষ্টার, এক্রিলিক, স্পানডেক্স । 

৩) রিফেকটরি এবং রিলেটেড ফাইবারঃ কার্বন , গ্লাস  ,  মেটাল । 

বাজারে কোন কোন ধরনের কাপড় পাওয়া যায় ? 

বাজারে বিভিন্ন ধরনের কাপড় পাওয়া যায়  ।  এর মধ্যে কোন কপড়টি আপনার জন্য সঠিক বা কোন কাপড়টি আপনি কোন সময় ব্যাবহার করবেন তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো ।  আমাদের দেশীয় বাজারের কিছু জনপ্রিয় কাপড় হলোঃ-

কটনঃ- ইহা তুলা গাছ থেকে প্রপ্ত তুলার আঁশ দিয়ে তৈরি ফেব্রিকস । গৃষ্মকালে এই ধরণের ফেব্রিকস দিয়ে তৈরি কাপড় বহুল ব্যবহৃত হয়। কাপড়টি খুবই আরামদায়ক হয় । 

লিনেনঃ- Flax নামক গাছের মুলের ফাইবার হতে তৈরি হয় । এই ধরনের ফাইবার শীত প্রধান দেশে বেশি উৎপাদিত হয় । এটি কটন ফাইবার তুলনায় শক্তিশালী । 

বিভিন্ন-প্রকারের-কাপড়

উলঃ- এটি একটি প্রকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া ফেব্রিক । মূলত ভেড়ার পশমের মাধ্যমে এই ফেব্রিকটি তৈরি করা হয়  । যা শীত নিবারণে কার্যকরী ভূমিকা রাখে ।    [Picture-3(Wool).jpg] 

ডেনিমঃ- বর্তমানে যুব সমাজের কাছে সবচেয়ে পছন্দের কাপড় হচ্ছে ডেনিম ।  এটি সাধারণ মানুষের কাছে জিনস নামে পরিচিত । ফ্রান্সের “De Nimes” শহর থেকে এর আবির্ভাব হয়েছে তাই এর নামকরণ করা হয় ডেনিম ।  এটি শতভাগ কটন দিয়ে তৈরি করা  হয়  তবে কখনও কখনও  এর সাথে সিনথেটিক ফাইবার পলিস্টার মেশানো হয় । এই ডেনিম কাপড় খুবই শক্ত প্রকৃতির, টেকসই ও আরামদায়ক  । 

ক্যাম্ব্রিঃ- খুবই হালকা ও সুক্ষ ধরনের সুতা দ্বারা তৈরি করা হয় ।  শিশুদের পোশাক তৈরিতে ব্যাবহার করা হয় এবং কাপড়টি খুবই মসৃণ হয়।   

লোনঃ- এই ধরনের ধরনের কাপড় খুবই নরম ও আরামদায়ক হয় । থ্রি-পিস ও মহিলাদের অন্যান্য পোশাক লোন কাপড় দিয়ে বানানো হয়।   

চামব্রেঃ- সুতি কাপড় হালকা থেকে মাঝারি ওজনের হয় । এই ধরনের কাপড় শার্ট, টপস ও বিভিন্ন পোশাক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

ভেলভেটঃ- এর পৃষ্ঠটি বেশ উজ্জ্বল, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিশেষ রেশম  দ্বারা গঠিত হয় ।  এই কপড়টি পর্দায় , সোফার কভার ,  হোটেল ও হিয়েটারে সাজানোর জন্য ব্যাবহার করা হয়

সিনোঃ- এটি একটু ভারি সুতি কাপড়। সাধারণত ইউনিফর্ম ও ট্রাওজারস তৈরি এটি ব্যাবহার করা হয় ।

সোর্সঃ- NTF Note (Engineer Md. Noor Alam) & Google 

সৈয়দ মোঃ সিয়াম 

ফেব্রিক ইজ্ঞিনিয়ারিং 

ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, পীরগঞ্জ, রংপুর । 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here