Home Life Style & Fashion সব সময়ের সেরা ১০ ফ্যাশনেবল ফিমেল অ্যানিমে আউটফিটস

সব সময়ের সেরা ১০ ফ্যাশনেবল ফিমেল অ্যানিমে আউটফিটস

জাপানে তৈরি করা বিশেষ ধরণের অ্যানিমেশনকে অ্যানিমে বলে। তবে এর জনপ্রিয়তা খুব তাড়াতাড়ি জাপানের গণ্ডি পেরিয়ে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। আমরা যখন কোন অ্যানিমে দেখি তখন তার ক্যারেক্টারগুলোতে অনেক সময় মিশে যাই। অনেকে এই ক্যারেক্টারগুলো রিক্রিয়েট করারও চেষ্টা করে। আবার কেউ কেউ নিজের Idol হিসেবেও বেছে নেয়।

বাস্তব জীবনের রিক্রিয়েট করা সম্ভব এমন সেরা ১০ ফ্যাশনেবল ফিমেল অ্যানিমে আউটফিটস নিয়ে আলোচনা করা হলো:

১০. নিকো রবিনের সংরক্ষিত পোশাক – One Piece :
একটা সময় ছিল যখন জল ও স্থল উভয় পথেই জলদস্যুরা তাদের প্রভাব বিস্তার করেছিল। ঐতিহাসিকভাবে বিখ্যাত পাইরেট কিং “গোল ডি রজার” একদা ওয়ান পিসের সন্ধানে গ্র্যান্ড লাইন ধরে যাত্রা করেন সমুদ্র পথে। পরবর্তীতে বিশ্ব সরকার কর্তৃক ধরা পরায় ও মৃত্যু কার্যকর হওয়ায় তিনি যাত্রায় সফল হতে পারেন নি। কিন্তু তাঁর বলে যাওয়া শেষ কথাগুলো পরবর্তী প্রজন্মকে চ্যালেঞ্জ নিতে উৎসাহিত করেছিল। এই চ্যালেঞ্জারদের মধ্যে বার্নর ডি লফি নামের একজন ছিলেন, যিনি সাধারণত জলদস্যুদের পছন্দ করেন না। তাই তিনি তার স্ট্র হ্যাটস ত্রু, নামি, ফ্রাঙ্কি, ব্রুক, রবিন, সানজি, জোরো ইউসপ্প এবং চপারকে নিয়ে জলদস্যুদের থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন যাত্রা পথে। যার ফলে তাদের দুঃসাহসিক অদম্য আত্মারা তাদের এক অবিশ্বাস্য ও অকল্পনীয় ভ্রমণে নিয়ে যায়, যে ভ্রমণের পথে পথে ছিল ধাঁধা আর অসংখ্য মোড়।

সেই ক্রুদের মধ্যে নিকো রবিনের রয়েছে একটি নিদিষ্ট স্টাইল, যা তার ব্যক্তিত্ত্ব এবং চারপাশেকে প্রবাহিত ও প্রতিবিম্ব করে। সব কিছু মিলিয়ে রবিনের স্ট্র হ্যাটস ও পোশাকগুলি, তার শরীরের ধরণ ও সেরা বৈশিষ্ট্য গুলোকে মাধুর্য রুপে ফুটিয়ে তুলে। যা মোটেও কারো চোখ এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। তার পোশাক বেশ খানিকটা সংরক্ষিত ধরণের, যাতে রয়েছে প্রচুর কাভার আপ টুকরা ও বোতাম ডাউন-শার্ট। সেই সাথে রয়েছে তার স্বাক্ষরযুক্ত কমলা শেডের টুপি।

৯. রিন তোহসাকার গ্রেইল জয়ের পোশাক- Fate/Stay night:
এই অ্যনিমে চতুর্থ হলি গ্রেইল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নির্মিত। এই যুদ্ধের ১০ বছর পর এর প্রধান অংশগ্রহণকারী চরিত্রগুলোর বংশধরদের নিয়ে আবার যুদ্ধ সেট করা হয়। এই Fate/stay night এর মাধ্যমে গ্রেইল জয়ের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা তৈরিতে এর সার্ভেন্ট ও মাস্টারকে সহযোগিতামূলক জ্ঞানের প্রয়োজন এবং সেই সাথে দরকার এক সুষ্ঠু প্রক্রিয়া, কিন্তু এই যুদ্ধের কান্ডারী ‘শিরো’ ছিলেন এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে। কারণ তিনি মনে করেন, এই যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করার জন্য প্রতিটি সার্ভেন্টকে আগে তাদের পিতার মতো হওয়া উচিত। তাই তিনি একজন মহৎ যোদ্ধা হতে অনেক লড়েছিলেন। এরপর যখন তিনি তার হৃদয়কে সঠিক বলে মনে করেছিলেন ঠিক তখনই পবিত্র গ্রইল জয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন।

সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের উত্তরাধিকারসূত্রে, রিন তোহসাকা ও তার সার্ভেন্ট আর্চারকে নিয়ে গ্রেইল জয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। পবিত্র গ্রেইল জয় করার পথে, বিদ্যালয়ের রাস্তা দিয়ে যাত্রার সময় তিনি রেড কালারের কিছু পরিধান করার গুরুত্ব উপলব্ধি করেন। তাই রিন ও আর্চার মিলে বোল্ড রেড কালারের এক অভিন্ন পোশাক ভাগ করে হ
পরিধান করেন। যদিও রিন পুরো অ্যনিমে জুড়ে বেশ কয়েকটি অসাধারণ পোশাক পরেছিলেন। যেমন- লং মোজার সাথে জুড়ে দেয়া স্কার্ট ইত্যাদি। তবে রিন সব সময় লাল রঙের কিছু একটা দিয়ে তার লুকটা সম্পূর্ণ করতেন।

৮. নানা কোমাতসু ফ্লোয়িং ফেব্রিকের তৈরি পোশাক – Nana:
২০ বছর বয়সী ‘নানা’ নামের দুই জন মহিলাকে নিয়ে এই অ্যানিমেটি নির্মিত হয়েছে, যারা তাদের স্বপ্ন পূরণের জন্য টোকিও শহরের চলে আসেন। তবে এই সম্পূর্ণ অ্যানিমেটি “নানা কোমাতসু” নামের একজন দুঃসাহসী আত্মাকে প্রকাশ করে বর্ণিত হয়েছে। যিনি তার প্রেমিক শোজির আরো ঘনিষ্ঠ হতে চলে আসেন এই অপরিচিত বড় শহরে। অপরদিকে “নানা ওসাকি” হলেন একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী সঙ্গীতশিল্পী যার সমস্ত স্বপ্ন পাঁঙ্ক ব্যান্ডকে ঘিরে। তবে একদিন কাকতালীয়ভাবে দুই নানারই দেখা হয়ে যায় ট্রেনে এবং সেখানেই তারা দুজন অপ্রত্যাশিতভাবে বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যান। শেষমেশ তারা রুমমেট হন। আর এর মাধ্যমেই এই সম্পূর্ণ অ্যানিমেটি আকর্ষণের নতুন মোড় নেয়।
অ্যানিমেতে নানা কোমাতসুর ক্যারেক্টার ছিল হতাশ-রোমান্টিক টাইপ এবং অত্যন্ত মধুর ও মমতাময়ী । তিনি সারাক্ষণই তার প্রেমিক শোজির চিন্তায় বিভোর থাকতেন। নানা কোমাতসুর ক্যারেক্টার বিকাশের সাথে সাথে তিনি পরিবেশের সাথে আরো গভীরভাবে অভিযোজিত হচ্ছিলেন এবং জীবনে নানা রকম ধাক্কা খেয়ে আরো জ্ঞানী হয়ে উঠেছিলেন। তিনি ডেলিকেট প্যাস্টেল ও হালকা রঙের ফ্লোয়িং ফেব্রিকের তৈরি কাপড় পড়তেন, যা তার বৃদ্ধি ও বিকাশের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয় অ্যানিমেতে। সেই সাথে নানা কোমাতসু পোশাক সম্মিলিভাবে খুবই সুন্দর‌, মেয়েলি এবং কিউট ছিলেন।

৭.মিসা আমানে গথিক ললিতা পোশাক-Death Note:
এই অ্যানিমেটি লাইট ইয়াগামীকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে, যিনি শয়তানি শক্তি দিয়ে ঘেরা এক যাদুকরী নোটবুকের দিকে ঝুঁকে পরেন। যা জগতের রিয়াক নামক মৃত্যুর দেবতার শিনিগামি থেকে জীবিতদের জগতে পরে গিয়েছিল। কোন ব্যক্তির নাম যদি একবার এর পৃষ্ঠায় লেখা হয়ে যায় তাহলে তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয় এবং সাথে সাথে নোটবুকের শক্তিটিও জাগ্রত হতে শুরু করে এবং সাথে সে ডেথ নোটটিতে ব্যক্তিটির কখন, কিভাবে মৃত্যু হবে তার সময় ও তারিখ লেখা হয়ে যায়। অ্যানিমেতে লাইট এক অবিশ্বাস্য বুদ্ধিমান যুবক। অন্যদিকে তিনি তার মৃত্যু নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট ছিলেন না। তিনি ডেথ নোটে তার মৃত্যু সম্পর্কে এমন কিছু পেয়েছিলেন যা দেখে তিনি তার মৃত্যুকে ‍’খারাপ” বলে খুবই নিন্দা করেছিলেন।

এই অ্যানিমের ডেথ নোটটিতে যে থিমটি অনুসরণ করা হয়েছে তা হলো মিসা আমানের লাইটের প্রতি আসক্ত ও আনুগত্য টাইপ কারেক্টর। যা মিসার বাস্তবতার সাথে একদমই মিলেনা। সে খুবই মিষ্টি, চমৎকার এবং বুদ্ধদ টাইপ, যা পুরো অ্যানিমের থিমটাকে কুয়াশাচ্ছন্ন অন্ধকার ও রহস্যময় করে তুলেছিল। সুতরাং তার পোশাকে “গথিত ললিতা” টি তার ব্যক্তিত্ব ও চারপাশের ঝাপসা সত্যের রহস্যের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। মিসাকে প্রায়ই ডার্ক কালার এর পোশাকে দেখা যেত। সে বেশিরভাগ সময়ই তার স্বর্ণকেশী চুলে দুটো পিগটেল বেঁধে রাখতো এবং‌ মিসার হাইট কম হওয়ায় তিনি সবসময় হিলের জুতা ও লং স্কার্ট পরতেন। নিজের মত করে নিজেকে সাজিয়ে শেষে নিজেকে দেখে খুব গর্ববোধ করতেন, যা তিনি উল্লাসের সাথে প্রকাশ করতেন। আর তার এই আত্মবিশ্বাস কখনোই ভুলার মত নয়।

৬. রিসা কোইজুমির আনকমন কালারের পোশাক-Lovely Complex:
লাভলী কম্প্লেক্স “রিসা কোইজুমি” নামক একটি মেয়েকে কেন্দ্র করে নির্মিত, যার উচ্চতা গড় জাপানিজ স্কুলের অন্যান্য মেয়েদের তুলনায় খুব বেশি ছিল। তার এই অস্বাভাবিক লম্বা হওয়ার কারণে হাই স্কুলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে খুবই বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। ঠিক সেই মুহুর্তে তার চেয়ে তুলনামূলক খাটো ছেলে “ওটানি অতুসীর” সাথে তার দেখা হয়। তাদের দৃষ্টি পড়ার পর সাথে সাথেই তারা একে অপরকে তুচ্ছ করে দেখে। কিন্তু সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে তাদের মাঝে খুব স্ট্রং একটা বন্ডিং তৈরি হয়। এই বন্ধুত্ব থেকে শুরু হওয়া সম্পর্কটা ব্যক্তিগতভাবে আরো বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে লাভলী কমপ্লেক্স এক অবিশ্বাস্য রকম হৃদয় স্পর্শ কারী কাহিনী।
রিসার আউটফিটগুলোর মধ্যে স্কুল ইউনিফর্ম ছাড়াও অনেক পোশাকের ভান্ডার রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে লেয়ার, ফ্রিলস, স্কার্ফ এবং টুপি মত কিছু পোশাক। তবে রিসা পোশাকের এক্ষেত্রে খুবই আনকমন কালার চয়ন করতেন, যেগুলো সচরাচর চোখে পড়ে না।

৫. আমো হিনামোরির ইউনিক প্যাটার্নের পোশাক- Shugo Chara:
একদা শুগো চারা নামক একজন ব্যক্তি “আমো হিনামোরি” নামে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া একটি মেয়ে ইতিহাস লিখে। আমু সম্প্রতি একটি নতুন স্কুলে বদলি হয়েছে, তবে সে স্কুলের সবাই হয়তো তাকে তাদের থেকে একটু উপরে ভাবতো। তার কারণ সে সম্ভবত স্কুলের সবচেয়ে সুন্দরী ছিল। যদিও সব কিছু মিলিয়ে আমু খুব লজ্জা পাচ্ছিলো। একদিন রাতে সে তার অতীত নিয়ে ভাবতে লাগলো কিভাবে সে মেয়ে হল এবং এটি তার জন্য কতটা সহজ ছিল। কারণ তার স্বপ্ন ছিল “কুল ও স্পাইসি” মেয়ে হওয়ার, যাকে দেখলে সবাই ক্রাশ খাবে। পরের দিন সকালে আমু তিনটি ডিমের সামনে উপস্থিত হল। পুরো অ্যানিমেতে এই তিনটি ডিমই তার অভিভাবকের ভূমিকা পালন করে। এই তিনটি ডিমে ছিল সুপার ন্যাচারাল পাওয়ার। যার সাহায্যে তারা আমোকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করত।
আমোর পোশাকটি খুব সহজেই জাপানিজদের প্রতিদিনের আউটফিটের তালিকায় রাখা হয়। কারণ তা ছিল খুবই সিম্পল এবং অল্প বয়সী মেয়েদের জন্য বেশ উপযোগী। তবে আমোর পোশাকের প্লুড, স্ট্রাইপস এবং টন জাতীয় কিছু ইউনিক প্যাটার্ন ছিল, যা তাকে অনন্য করে তুলে। আর এই পোশাকের সাথে সে নিয়মিত লং মোজা, বুট অথবা প্ল্যাটফর্ম জাতীয় জাতীয় জুতা পরতো। শুধু তাই নয়, সে পোশাকের সাথে ম্যাচিং করে হেয়ার স্টাইলও করত।

৪. লাকি হার্টফিলিয়া ক্রপ টপস পোশাক – Fairytail:
যাদুতে ঘেরা পৃথিবী। যেখানে লাকি হার্টফিলিয়া নামক এক তরুণী বসবাস, আর তাকে ঘিরেই সম্পূর্ণ অ্যানিমেটি নির্মিত হয়েছে। সে জাদুকরী পৃথিবীতে কিছু ম্যাজিকেল গাইড ছিল, যা বিভিন্ন গোত্র ও সম্প্রদায়ের মানুষেরা মেনে চলত। আর তারা এগুলোর নিয়ম অনুযায়ী চাকরি করত ও বিভিন্ন মিশনে যেত। লাকির জাদুতে এমন কিছু ‘কী ওয়ার্ড’ ছিল যা স্বর্গীয় প্রাণীদের নিয়ে আসতে পারতো। তবে তার এই ক্ষমতার মজার দিকটি হলো সে যাদের তলব করত তারা প্রায়ই স্মার্ট ও সাহসী বীর সন্ন্যাসী এবং এরা লাকির প্রেমে হাবুডুবু খেত। তবে লুসি তার হৃদয় অনেক কঠিন ফেরারী টেইল গাইড দিয়ে সেট করে নিয়েছিল। যার কারণে সেই সন্ন্যাসীররা কেউই সফল হতে পারেনি। একদিন ভাগ্যক্রমে তার মিশনের মোক্ষম সুযোগটি চলে আসে নাটসুর একজন সদস্যের মুখোমুখি হওয়ায় এবং সে তাকে নাটসুর সদস্য হওয়ার প্রস্তাব দেয়। এই ফেরারী টেইলটি লাকি ও তার সহযাত্রীদের সেই যাত্রাপথের অ্যাডভেঞ্চারেরই বর্ণনা দেয় মূলত। তবে এই কথাটি বলে রাখা ভালো যে, লাকির এসব কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্যই ছিল সেই জাদুর পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় জাদুকর হওয়া।
লাকির আউটফিটের তালিকাতে রয়েছে অনেকগুলো শর্ট স্কার্ট। কারণ সে বেশিরভাগ সময়ই শর্টস অথবা ফরমাল ড্রেস পরিধান করতো এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের চমৎকার চুলের প্রসাধনী ব্যবহার করে তার চুলকে বেঁধে রাখত। লাকি প্রচুর ক্রপড টপস পরত, যা বর্তমান সময়ের নতুন ফ্যাশন ট্রেন্ড। তার ক্রপ‌ টপস গুলো বেল্ট দিয়ে বাঁধা থাকতো, যা খুবই লক্ষণীয় একটি ব্যাপার ছিল।

৩. কুরিসু মাকিজের পরিশালীন পোশাক (Steins;Gate):
স্টেইন;গেট টাইম মেশিনের উপর নির্মিত খুবই মজাদার ও জটিল একটি অ্যানিমে। টাইম মেশিনের উপর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করার ফলস্বরূপ এই অ্যানিমের প্রতিটি চরিত্রের ওপর যে প্রভাব পড়েছিল তা খুবই সুচারুরূপে বর্ণিত আছে। কুরিসু হলেন এই অ্যানিমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যারেক্টার। তার বর্ণনা দিতে গেলে বলা যায় -“বিউটি উইথ ব্রেইন”। তিনি একাধারে সুন্দরী, শিক্ষিতা ও বুদ্ধিমতী। মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তার অধ্যায়নের বিষয় ছিল মস্তিষ্কে কিভাবে স্মৃতি ধরে রাখা যায়। আর এ কারণে তিনি বিজ্ঞান মহলে বিশেষ খ্যাতিও অর্জন করেছিলেন।
তার স্টাইলটি তার বুদ্ধিমত্তা ও পরিশালীনতাকে প্রতিফলিত করে। তিনি খাকি ব্লেজারের সাথে লাল টাই, কলার্ড শার্ট ও গাঢ় কালো রংয়ের কাপড়ের জুতা পরিধান করতেন। কোন চাকরির ইন্টারভিউ কিংবা শহরের স্টাইলের সাথে তার আউটফিট খুবই মানানসই।

২. কাউকো কগার কাট আউট টাইপ পোশাক (Golden Time):
এই অ্যানিমেটি তদা বানরিকে কেন্দ্র করে নির্মিত। যিনি সেতুতে একটা এক্সিডেন্টের পর অ্যামনেসিয়ায় আক্রান্ত হন। পুনরুদ্ধাররের সময় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি কলেজে ফিরে যেতে চান এবং তিনি নিজের এই সিদ্ধান্তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই দুর্ঘটনার আগে তিনি লন্ডা, মিতসো ও কাউকো সহ আরও একাধিক ব্যক্তির সাথে দেখা করেছিলেন। এদের মধ্যে কাউকো তার অনেকটা নিকটবর্তী হয়েছিলেন বন্ধু হিসেবে এবং রোমান্টিক ভাবে। “গোল্ডেন টাইম” অ্যানিমেটি অতীতের স্মৃতি চারণকে কেন্দ্র করে নির্মিত। অর্থাৎ কিভাবে তদার তাদের সাথে দেখা হয়েছিল তার অভিজ্ঞতা এবং এদের সাথে কিভাবে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল তার বর্ণনা। কাউকের ক্লোজেটে রয়েছে সোয়েটার, ফ্লোয়ি পোশাক, ফর্ম-ফিটিং পোশাক, কাট আউট টাইপ প্রচুর মেয়েলি টাইপ পোশাক এবং তিনি সব‌ ড্রেসের সাথেই হিল পড়তেন। তার ফ্যাশন সেন্স খুবই উচ্চ মানের। তাকে দেখলে মনে হবে প্যারিস ফ্যাশন উইক থেকে সবে মাত্র ফিরে এসেছেন এবং সেখানের সর্বশেষ ট্রেন্ডগুলোর নমুনা তিনিই তৈরি করেছেন।

১. কাওরি মিয়াজোনুর সাকুরা পোশাক-Your Lie in April” (Shigatsu Wa Kimi no Uso):
এই অ্যানিমেটি পিয়ানো উজ্জীবনী এবং “Human metronome” হিসেবে পরিচিত। অ্যানিমেটি মূলত কৌসি আমিরার জীবন অনুসরণ করে নির্মিত। কিন্তু তার মায়ের মৃত্যুর পর তার পিয়ানো ক্যারিয়ারে ফাটল ধরে, কারণ সে তার নিজের গানের শব্দ শুনতে শুনতে একপর্যায়ে শুনতে অক্ষম হয়ে যান এবং অসুস্থতায় ভুগতে শুরু করেন। তাই তিনি পিয়ানো বাজানো বন্ধ করে দেন। এর দু’বছর পর তার দেখা হয় একজন প্রাণবন্ত ও সতেজ বেহালা শিল্পী কাওরি মিয়াজোনোর সাথে। এরপর কাওরির সহায়তায় কৌসি আবার নতুন করে পিয়ানো বাজানোর আবেগ ও উদ্যম খুঁজে পান।
বেশিরভাগ দর্শকদের কাছেই কাউরির স্টাইল খুবই প্রাণবন্ত ও তরুণ হওয়ায় বেশ পছন্দ। তার অসাধারণ পার্সোনালিটি ও স্টাইল কৌসির জীবনে হয়ে ওঠে ‘Breath of fresh air”। এপ্রিল মাসে জাপানে বসন্তকাল থাকে। কাকতালীয়ভাবেই অ্যানিমের কাহিনীটিও এপ্রিলের বসন্ত, পুনর্জন্ম এবং পুনর্নবীকরণের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। জাপানের টোকেন উদ্ভিদের “সাকুরা” ফুলকে বসন্তের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করা হয় আর কাওরির পোশাকের রঙগুলো এই ফুলেরই প্রতিনিধিত্ব করে।

Writer Information:


Tazim Sultana Nandita
Ahsanullah University of Science and Technology (AUST)
Dep. of Textile Engineering(Batch-40)
1st year 2nd semester

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Latest Post

Most Popular

Related Post

Related from author

error: Content is protected !! Don\\\\\\\\\\\\\\\'t Try to Copy Paste.