অল ওভার প্রিন্টিং (AOP) এর ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট এবং স্ক্রিন প্রিপারেশনে যে ১০ টি বিষয় মাথায় রাখতে হবে !!

0
1297

বিষয় – ১: যদি কোনো রিপিট না থাকে

আচ্ছা, অল ওভার প্রিন্টিং এর এই প্রথম বিষয় নিয়ে বলতে গেলে সবার আগে আমাদেরকে যে বিষয় টি বুঝতে হবে তা হলো; এই রিপিট বা রিপিট ইউনিট কি !!

আমরা যদি অল ওভার প্রিন্টেড ফেব্রিক এর ডিজাইন এর দিকে ভালভাবে খেয়াল করি তাহলে আমরা দেখতে পারবো যে এই প্রিন্ট ফেব্রিক এর কোন একটি ডিজাইন ইউনিট বারবার ফেব্রিকের সমগ্র পৃষ্ঠদেশ জুড়ে দেখা যাচ্ছে। এই ডিজাইন ইউনিট কেই অল ওভার প্রিন্টেড ফেব্রিক টির রিপিট ইউনিট হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অল ওভার প্রিন্টিং এর ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট সেকশনে বায়ার থেকে স্যাম্পল ডিজাইন পাওয়ার পর, ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট এর কাজ হবে সেই স্যাম্পল ডিজাইন থেকে রিপিট ইউনিটকে খুঁজে বের করা।

এখন, ডিজাইনের রিপিট ইউনিট বের করতে হলে, আমাকে ডিজাইন এর অবকাঠামোগত গঠন সম্পর্কেও বুঝতে হবে। সাধারনভাবে একটি ডিজাইন নানা রকমের উপাদান নিয়ে গঠিত হয়ে থাকে; যেমন: পশু, পাখি, গাছ-পালা, লতা-পাতা ইত্যাদি। এই প্রতিটা উপাদান কে ডিজাইনের জন্য মোটিফ হিসেবে ধরা হবে। অর্থাৎ, অল ওভার প্রিন্টীং এ যে সাব্জেক্ট নিয়ে ডিজাইন করবো, সাব্জেক্ট এর প্রতিটি অংশই মোটিফ হিসেবে বিবেচিত হবে।

তাহলে, এখন একটি প্রিন্টীং ডিজাইন যদি লতা-পাতা, ঘাস, ফুল, ফল নিয়ে গঠিত হয় সেই ক্ষেত্রে, ঐ ডিজাইনের জন্য লতা- পাতা, ঘাস, ফুল, ফল প্রতিটি উপাদানই মোটিফ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এখন, রিপিট ইউনিট বের করার জন্য, ডিজাইনের মোটিফ হিসেবে; একটি ফুল কে আমি ফিক্স করে নিলাম। বলে রাখা ভালো যে, রিপিট ইউনিট বের করার সময় এই ফুল টি ছাড়া আপনি অন্যান্য কিছুকেও মোটিফ হিসেবে ধরতে পারবেন। তবে যে বিষয়কেই মোটিফ হিসেবে সিলেক্ট করুন না কেন, যে কোনো একটি মাত্র উপাদানকেই মোটিফ হিসেবে আপনি নিতে পারবেন। ফুল কে মটিফ হিসেবে সিলেক্ট করার পর ফুল দিয়ে যখন আপনি রিপিট নির্ণয় করবেন তখন কোনো লতা, পাতা বা অন্য কিছু মোটিফ হিসেবে ধরতে পারবেন না।

ডিজাইনের মোটিফ হিসেবে ফুল সিলেক্ট করার পর, ডিজাইনের ভারটিকেল (উলম্ব) এবং হরাইজোন্টাল (আনুভুমিক) ভাবে সোজা লাইন বরাবর আর কোথায় এই একই স্টাইলের ফুল রয়েছে তা খুঁজে বের করে নিতে হবে। যদি একই স্টাইলের ফুল পাওয়া যায় তো সেই ক্ষেত্রে, এই ফুল কে নির্দিষ্ট ধরে, ডিজাইনের মধ্যে একটি কাল্পনিক চতুর্ভুজ আকৃতির বক্স ভেসে উঠবে, যার চার কোনায় চারটি একই স্টাইলের ফুল আমরা দেখতে পারবো।

No description available.
ফিগার: রিপিট ইউনিট সিলেকশন করা হলো।

এই ভাবেই আসলে কোনো ডিজাইনের রিপিট ইউনিট বের করতে হবে। আর বায়ার প্রদত্ত স্যাম্পলে রিপিট ইউনিট না থাকলে, বায়ার কে তা অবশ্যই অবশ্যই জানাতে হবে।

বিষয় – ২: যদি ডিজাইনের কোনো রিপিট মেজারমেন্ট না থাকে

এখন এইখানেও একটা কথা বলে রাখা দরকার যে, এই রিপিট মেজারমেন্ট শুধু রোটারী স্ক্রিন এর ক্ষেত্রেই করতে হয়। ফ্লাট বেডে এই রিপিট মেজারমেন্ট এর কোনো দরকার পড়ে না। এর কারন হিসেবে বলা যায়, এই রোটারী স্ক্রিন এ সিলিন্ডার আকৃতির নিকেল ধাতুর স্ক্রিন ইউজ করা হয়, এইগুলোর পরিধি কিন্তু ফিক্স থাকে। আর রোটারি স্ক্রিন এ ফেব্রিক টি কিন্তু এর দৈর্ঘ্য (Height) বরাবর প্রিন্ট হয়ে থাকে। সেই ক্ষেত্রে রোটারি স্ক্রিন এ কতগুলো রিপিট এর অংশ পর পর বসবে সেটা ক্যাল্কুলেশন করা আবশ্যক।

ডিজাইনের রিপিট মেজারমেন্ট করার জন্য আমাদের কে এইখানে ২ টি সূত্রের সাহায্য নিতে হবে।

প্রথম সূত্র;

রিপিট পার্ট এর সংখ্যা = {(রোটারী স্ক্রিন এর ডায়া) ÷ (রিপিট এর হাইট)}

বিঃদ্রঃ এই রিপিট পার্ট এর সংখ্যা কোনোদিনও দশমিক; ১৪.৬, ১৬.৮ এই রকম হতে পারবে না। সর্বদা পূর্ণ সংখ্যা ১৫, ১৬, ১৭ এইরকম হতে হবে।

বলে রাখা ভালো যে, এইখানে রিপিট এর হাইট বায়ার আমাকে দিয়ে দিবে। আর না দিলে অবশ্যই চেয়ে নিতে হবে। আর রোটারী স্ক্রিন এর পরিধি সাধারনত আমাদের বাংলাদেশের অল ওভার প্রিন্টিং ফ্যাক্টরিতে ৬৪০ মিমি, ৮২০ মিমি, ৯১৪ মিমি এবং ১০১৮ মিমি এই ডায়ার স্ক্রিন গুলো পাওয়া যায়।

এখন বুঝার সুবিধার জন্য, এইখানে একটি মাত্র ডায়া নিচ্ছি; ৬৪০ মিমি। হিসেবের সুবিধার জন্য; ৬৪০ মিমি = ৬৪ সেমি। (১০ দিয়ে ভাগ করে)

অর্থাৎ,

এইখানে আমার রোটারি স্ক্রিন এর ডায়া = ৬৪ সেমি।
বায়ার প্রদত্ত ডিজাইনের রিপিট এর হাইট = ১৬ সেমি।

এখন; সূত্র অনুজায়ী; রিপিট পার্ট এর সংখ্যা

= {(রোটারী স্ক্রিন এর ডায়া) ÷ (রিপিট এর হাইট)}
= {(৬৪ সেমি) ÷ (১৬ সেমি)}
= ৪ অর্থাৎ,

এইখানে আমার রিপিট পার্ট এর সংখ্যা আসছে ৪ টি।

এই থেকে আমরা এইটাই বুঝবো যে, আমি প্রিন্টীং এর জন্য ৬৪০ মিমি বা ৬৪ সেমি ডায়ার স্ক্রিন ইউজ করলে, বায়ারের ডিজাইন এর হাইট ১৬ সেমি হলে, ৬৪ সেমি ডায়ার স্ক্রিনে ১৬ সেমি হাইটের ডিজাইন টি পর পর চার বার বসবে। যা নিচের ছবি টি দেখে আরো ভালো ভাবে স্পস্ট হতে পারবেন;

No description available.
ফিগার: ৬৪ সেমি ডায়ার স্ক্রিনের প্রস্থচ্ছেদে রিপিট পার্ট এর সংখ্যা অনুযায়ী রিপিট পার্ট গুলো পর পর সেট করা হলো।

এখন ধরা যাক যে, এইখানে,

বায়ারের ডিজাইনের হাইট = ১৭ সেমি, সেই ক্ষেত্রে হিসেব করলে;

রিপিট পার্ট এর সংখ্যা;

= {(রোটারী স্ক্রিন এর ডায়া) ÷ (রিপিট এর হাইট)}
= {(৬৪ সেমি) ÷ (১৭ সেমি)}
= ৩.৭৬ যা একটি ভগ্নাংশ।

আমরা আগেই বলেছি যে, রিপিট পার্ট সব সময় পূর্ণ সংখ্যার হতে হবে। এখন এইখেত্রে, আমাকে যা করতে হবে তা হলো বায়ার কে জানিয়ে ৩.৭৬ এর বদলে ৪ ধরে নিয়ে রোটারি স্ক্রিন সেট করতে হবে। আর, যদি বায়ার না মানে সেই ক্ষেত্রে প্রোডাকশনের জন্য আমাকে ফ্লাট বেড মেশিনের হেল্প নিতে হবে।

দ্বিতীয় সূত্র;

রিপিট মেজারমেন্ট = {(রোটারী স্ক্রিন এর ডায়া) ÷ (রিপিট পার্ট এর সংখ্যা)}

এই রিপিট মেজারমেন্ট টা হচ্ছে, বায়ারের প্রদত্ত ডিজাইনের হাইট বের করার একটি টেকনিক।

বিষয় – ৩: ডিজাইন এর ক্লিয়ার ফাইল সংগ্রহ করা

আমরা সবাই জানি যে, অল ওভার প্রিন্টীং এ ডিজাইন ডেভেলপ করতে গেলে বায়ার থেকে আমরা ৩ টি মাধ্যমে ডিজাইন টা পেয়ে থাকি।

১. সফট কপি

মেইল, পেইন ড্রাইভ, এ বায়ার ডিজাইন এর সফট কপি আমাদেরকে ভেক্টর ফরমেটে দিয়ে থাকেন। এইখানে একটা কথা বলা অবশ্যই জরুরি যে, অল ওভার প্রিন্টিং এ ডিজাইন ডেভেলপ করতে গেলে ভেক্টর ফরমেট ইমেজ ছাড়া অন্য কোনো ফরমেট যেমন: পি.এন.জি. অথবা জে.পি.জি. ছবি ইউজ করা যাবে না।

২. হার্ড কপি

এইখানে বায়ার আমাকে একটি পেপার ওয়ার্কের মাধ্যমে ডিজাইন টি দিবেন। এই পেপার ওয়ার্কে ডিজাইনের কালার প্রিন্ট করা থাকবে। যা থেকে আমাকে ডিজাইন ডেভেলপ করতে হবে।

৩. প্রিন্টিং ডিজাইন এর ফেব্রিক স্যাম্পল দিয়ে দিবেন

এইখানে বায়ার আমাকে ওনার অর্ডারের প্রিন্টিং ডিজাইনের একটি ফেব্রিক স্যাম্পল আমাকে দিয়ে দিবেন। যাকে ফেব্রিক সোয়াচ নামে আমরা সবাই চিনি।

সাধারণত ইন্ডাস্ট্রি তে সফট কপির মাধ্যমেই ডিজাইন টা বায়ার থেকে বেশি পরিমানে আমরা পেয়ে থাকি। এখন এই সফট কপি হিসেবে যদি চিন্তা করি সেই ক্ষেত্রে; ২ টি ফরমেটের সাথে আমাদের পরিচয় থাকা জরুরী।

১. ভেক্টর ইমেজ
২. রাসচার ইমেজ

আমরা আমাদের অল ওভার প্রিন্টিং এ সব সময় ডিজাইন ডেভেলপ করার জন্য ভেক্টর ইমেজ ইউজ করতে হবে। কেননা, রাসচার ইমেজ জুম করলে একই কালারের বিভিন্ন শেড পাওয়া যায়। যা ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট এর জন্য বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু, ভেক্টর ইমেজ জুম করলে একই কালারের ভিন্ন ভিন্ন শেড পাওয়া যায় না। যা ডিজাইন ডেভেলপ করতে অনেক সুবিধা দেয়।

বিষয় – ৪: প্রিন্ট পেস্ট টাইপ সম্পর্কে অবগত থাকা

অল ওভার প্রিন্টীং এর কালারেশন প্রসেসে আমাদের কে সব সময় একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে যে, পিগমেন্ট প্রিন্টিং, এফ্লন প্রিন্টিং, গ্লিটার প্রিন্টিং এর মত যে সকল প্রিন্টিং এ বাইন্ডার ইউজ করতে হয়, সেই ধরনের প্রিন্টিং ছাড়া বাকি অন্যান্য প্রিন্টিং গুলোর ক্ষেত্রে কিছু লিমিটেশন রয়েছে। আর এই লিমিটেশন টি হলো যে, আমি সব প্রিন্টিং পেস্ট সব ধরনের ফেব্রিকের জন্য এপ্লাই করতে পারবো না।

যেমন: খোলাশা করে যদি বলি; তাহলে বিষয় টা অনেকটাই এইরকম যে, আমাকে স্পেসিফিক ফেব্রিকের জন্য স্পেসিফিক প্রিন্টিং পেস্ট ইউজ করতে হবে। না হলে প্রিন্টিং পেস্ট এর সাথে ফেব্রিকের ভালো ক্যামিকেল বন্ড তৈরি হবে না। ক্যামিকেল বন্ড ভালোভাবে তৈরি না হওয়ার কারনে কালার ফিক্সেশন ভালো মত হবে না। আর কালার ফিক্সেশন যদি ভালো মত নাই হয় তাহলে বুঝতেই পারছি যে, বায়ার তা রিজেক্ট করে দিবে।

নিচে আপনাদের সুবিধার জন্য কোন ফেব্রিকের জন্য কোন প্রিন্টিং পেস্ট ইউজ করবো তার একটি তালিকা দেওয়া হলো:

১) সেলুলোজিক ফাইবার (কটন) – রিয়েক্টিভ প্রিন্টীং পেস্ট
২) পলিয়েস্টার ফাইবার – ডিস্পারস প্রিন্টিং পেস্ট
৩) নাইলন ফাইবার – এসিড প্রিন্টিং পেস্ট
৪) সব ধরনের ফাইবার এর জন্য – পিগমেন্ট প্রিন্টিং
৫) কটন ফাইবার – ডিসচার্জ প্রিন্টিং (ডিপ শেডের উপর প্রিন্টিং করতে গেলে এই প্রিন্টীং ইউজ করতে হবে)
৬) হেভি জি.এস.এম. ব্লেন্ডেড ফেব্রিক – বার্ন আউট প্রিন্টিং
৭) সব ধরনের ফেব্রিকে করার জন্য – গ্লিটার প্রিন্ট (ঝিকিমিকি ইফেক্ট আনার জন্য)

বিষয় – ৫: ফেব্রিক সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে

পূর্ববর্তী পয়েন্টে আমরা জেনে ছিলাম যে, কোন ফাইবার এর জন্য কোন প্রিন্টিং পেস্ট আমরা ইউজ করবো। এই অল ওভার প্রিন্টিং করতে গেলেও আমাকে ফেব্রিক সম্পর্কে ভালো ভাবে জানতে হবে। কোন ফাইবার বা ফেব্রিকের জন্য কোন প্রিন্টিং পেস্ট ইউজ করতে যাচ্ছি; এই সম্পর্কে সম্যক ধারনা না থাকলে, বিশাল বড় সমস্যা পোহাতে হবে।

আবার এই ক্ষেত্রে একটা কথা না বললেই নয় যে, সাধারনভাবে অল ওভার প্রিন্টিং ওভেন আর নিটেড ফেব্রিকের উপর করা হয়। প্রিন্টিং হওয়ার পর, ওভেন ফেব্রিকের তেমন কোন প্রব্লেম না হলেও, নিটেড ফেব্রিকের নানা রকমের সমস্যা দেখা যায়। যেমন; জি.এস.এম. কমে বা বেড়ে যাওয়া, ফেব্রিক ষ্রিঙ্কেজ হওয়া। এই সমস্যা গুলো আরো প্রকট হয় যখন আমার ফেব্রিকে লাইক্রা থাকে। এই লাইক্রা ফাইবার থাকলে প্রিন্টীং এরপর বিভিন্ন রকমের ক্যামিকেলের সংস্পর্শে, তাপমাত্রায় থাকার দরুন ফেব্রিক এর জি.এস.এম. কমে যায়। আর এটা স্বাভাবিক। এর জন্য বায়ার কে আগে থেকেই জানিয়ে রাখতে হবে যে, স্যার, এইখানে যেহেতু লাইক্রা আছে তাই জি.এস.এম. টা একটু কম বেশি হবে অথবা ফেব্রিক টি একটু শ্রিঙ্ক করবে। তাহলে আর কোনো প্রব্লেম নাই।

বিষয় – ৬: প্রিন্ট কালার সম্পর্কে অবগত থাকা

সাধারণত একটা প্রিন্টিং ডিজাইন পাওয়ার পর আমাদেরকে ডিজাইনের রিপিট ইউনিটে কত গুলো কালার রয়েছে তা সেপারেশন করে নিতে হবে। কেননা আমরা জানি যে, রোটারি এবং ফ্লাট বেড প্রিন্টিং এর ক্ষেত্রে একটি ডিজাইনের রিপিট ইউনিটে জতগুলো কালার থাকবে আমাকে ঠিক ততোগুলোই স্ক্রিন তৈরি করতে হবে।

বিষয় – ৭: বেইজ কালার অথবা গ্রাউন্ড কালার সম্পর্কে অবগত থাকা

এইখানে আরো একটা মজার কথা না বললেই নয়। আপনি যদি ডিপ শেডের বেইজ কালার অথবা গ্রাউন্ড কালারের (ডার্ক নেভী ব্লু) উপর অন্য কোনো শেডের কালার (ইয়েলো বা হলুদ) প্রিন্ট করতে যাবেন, তখন লাইট শেডের কালারটির (ইয়েলো বা হলুদ) সঠিক শেড টি আপনি পাবেন না। এইখানে, বেইজ অথবা গ্রাউন্ড শেড (ডার্ক নেভী ব্লু) এর কালারটি অনেকটাই লাইট শেডের কালারটিকে (ইয়েলো বা হলুদ) শুষে নিবে। যার কারনে লাইট শেডের কালারটির (ইয়েলো বা হলুদ) ভালো রিফ্লেকশন আমাদের চোখে পৌঁছাবে না। এর মানে দাঁড়ায় এই যে, আপনার প্রিন্টিং এর শেড ঠিক নাই। আর প্রিন্টিং এর শেড ঠিক না থাকলে বায়ার তা অবশ্যই অবশ্যই রিজেক্ট করে দিবে।

বিষয় – ৮: ফেব্রিকের জি.এস.এম. এবং ফেব্রিক ডায়ামিটার সম্পর্কে অবগত থাকা

ফেব্রিকের জি.এস.এম. অল ওভার প্রিন্টিং করতে গেলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। ৫ কেজি নিটেড ফেব্রিকের একই রকম স্ট্রাকচারের ভিন্ন দুইটি জি.এস.এম. (১২০ জি.এস.এম. এবং ২০০ জি.এস.এম.) এর মধ্যে ১২০ জি.এস.এম. নিটেড ফেব্রিক টির লেন্থ বা দৈর্ঘ্য বেশি হবে। যেহেতু ২০০ জি.এস.এম. এর তুলনায় ১২০ জি.এস.এম. লেন্থ বেশি তাই এইখানে প্রিন্টিং পেস্ট এর পরিমাণও বেশি লাগবে। আর প্রিন্টিং প েস্ট বেশি প্রয়োজন মানে খরচ বেশি, প্রোডাকশন টাইম লাগবেও বেশি।

আর এই সকল বিষয় গুলো অর্থাৎ ফেব্রিকের জি.এস.এম. এবং ফেব্রিক ডায়ামিটার অবশ্যই ভালো ভাবে বায়ার থেকে ভালোভাবে জেনে নিতে হবে এবং বায়ারকে এই সকল খরচ গুলোও দেখাতে হবে। কেন না একই স্টারকচারের নিট ফেব্রিক হওয়া সত্ত্বেও জি.এস.এম. এর ভিন্নতার কারনে কস্টিং এর আকাশ পাতাল তফাৎ হয়ে যায়।

বিষয় – ৯: কোন ধরনের স্যাম্পল বায়ার চাচ্ছেন ?

সাধারণত ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট কমপ্লিট হওয়ার পর, আমাকে ডেভেলপমেন্ট হওয়া ডিজাইন দিয়ে স্যাম্পল ডেভেলপ করতে হয় যাতে ভুল হলে তা ঠিক করার সুযোগ পাওয়া যায়। আমরা সবাই জানি যে, এইখেত্রে ২ ভাবে স্যাম্পল ডেভেলপ করা যায়।

১. হ্যান্ড স্যাম্পল
২. মেশিন স্যাম্পল

তো এই স্যাম্পল বা স্ট্রাইক অফ তৈরি করার সময় অবশ্যই বায়ার থেকে শিওর হয়ে নিতে হবে যে, স্যাম্পল টা কিসের মাধ্যমে তৈরি করে দিবো। যদি মেশিন এর মাধ্যমে স্যাম্পল তৈরি করে দিতে বলে সেই ক্ষেত্রে, আনুষঙ্গিক খরচ গুলোও বায়ার কে জানাতে হবে। আর হ্যান্ড স্যাম্পল এর ক্ষেত্রেও খরচ টা বায়ার কে জানাতে হবে।

বিষয় – ১০: প্যান্টোন বা বায়ারের কালার সোয়াচের সাথে কতটুকু মিললো !!

আমরা সবাই জানি যে, আমাদেরকে যা করতে হবে সব বায়ারের রিকোয়ারমেন্ট অনুজায়ী করতে হবে। তো এই ক্ষেত্রে স্যাম্পল এর সময় শেড তো মিলাবোই এমনকি স্যাম্পল শেড এপ্রুভাল পাওয়ার পরও, প্রোডাকশন কমপ্লিট হলে, ফেব্রিকের কালার কে অবশ্যই বায়ারের কালার সোয়াচের বা প্যান্টোন এর সাথে মিলাতে হবে।

এই তো মোটামুটি এই জিনিস গুলো ভালো করে মাথায় রাখলে আর কোনো প্রব্লেমে পড়তে হবে না।

লিখাটি লিখতে সার্বিক সহযোগিতায় এবং তথ্য প্রদানে;

মোঃ শওকত হোসাইন সোহেল
চীফ ডিজাইনার
ইউনিফিল কম্পোজিট মিলস লিমিটেড

Writer Information:

Name: Badhon Saha
Institute: Primeasia University
Batch: 181
Department: Textile Engineering
Contact Number: 01714692688
E-mail: [email protected]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here